ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: ফুলবাড়ীকে রক্ষা ও এশিয়া এনার্জিকে দেশ থেকে বিতাড়িত করতে নতুন করে শপথ গ্রহনের মাধ্যমে দিনাজপুরে আজ শুক্রবার পালিত হয়েছে ফুলবাড়ী ট্রাজেডি দিবস। তৎকালীন সরকারের ঘোষিত ৬ দফা দাবী বাস্তবায়নের লক্ষে আগামী ২১ ডিসেম্বর ফুলবাড়ীতে আধা বেলা হরতাল ও নতুন কর্মসূচী ঘোষণারও ডাক দেয়া হয়েছে দিবসটি পালনের সমাবেশ থেকে।
দিবসটি পালনের কর্মসূচীর মধ্যে ছিলো শোক র্যালী, আলোচনাসভা ও ফুলবাড়ী আন্দোলনে শহীদদের শহীদ স্মৃতি স্তম্ভে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পন। তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, বন্দর ও খনিজ সম্পদ রক্ষা জাতীয় কমিটি এবং পেশাজীবী সংগঠনের ব্যানারে ফুলবাড়ীবাসী আলাদাভাবে এসব কর্মসূচী পালন করে। সকাল ১০টায় ঢাকা মোড় থেকে পেশাজীবী সংগঠনের ব্যানারে ফুলবাড়ী পৌরসভার মেয়র মুরতুজা চৌধুরী মানিকের নেতৃত্বে ফুলবাড়ীবাসী এবং নিমতলা মোড় থেকে অধ্যাপক আনু মোহাম্মদের নেতৃত্বে তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, বন্দর ও খনিজ সম্পদ রক্ষা জাতীয় কমিটি শোকর্যালী বের করে। র্যালীগুলো ফুলবাড়ী পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ছোট যমুনা নদীর তীরে শহীদ স্মৃতি স্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পন করে। সেখানে তরিকুল, আলআমিন ও সালেকিনের রক্তের বিনিময়ে ফুলবাড়ীকে রক্ষার শপথ করা হয়। এরপর নিমতলা মোড়ে তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, বন্দর ও খনিজ সম্পদ রক্ষা জাতীয় কমিটি এবং উর্বশী সিনেমা হলের সামনে পেশাজীবী সংগঠন আলোচনাসভার আয়োজন করে।
এই দিনটি ‘জাতীয় সম্পদ রক্ষা দিবস’ হিসেবে পালন করেছে তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি এবং ফুলবাড়ী বাসী পালন করছে ‘ফুলবাড়ী শোক দিবস’।
উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলণের প্রতিবাদে ২০০৬ সালের এই দিনে আইন শৃংখলাবাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারায় ৩ জন।আহত হয় আরও আড়াই শতাধিক প্রতিবাদি মানুষ।
উন্মুক্ত পদ্ধতিতে ৩০ বছরে ৫’শ ৭২ মিলিয়ন টন কয়লা তোলার পরিকল্পনা ছিল এশিয়া এনার্জির। উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা তুললে বিপর্যয় ঘটবে পরিবেশের,ছাড়তে হবে ভিটেমাটি এই আশঙ্কায় সেদিন রাজপথে নেমেছিল ফুলবাড়িবাসী। শঙ্কা তাদের আজও কাটেনি। উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলণের প্রতিবাদে গণবিদ্রোহে ফুলবাড়ীতে বিপ্লব সাধিত হলেও আজও উদ্বেগ,উৎকণ্ঠা আর স্বজন হারানোর কাঁন্না। এখনও বইছে শোকের মাতম।