নিজস্ব প্রতিনিধি: আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী মহাসচিব, আল্লাম মাওলানা মাসউদ হোসেন আল কাদেরী বলেন, ফারুকী হত্যার বিচারে সরকারের টালবাহানা আমাদের হতাশ করেছে। এই সরকার ফারুকী হত্যার বিচার করবে আর বিশ্বাস হয় না। আজ সোমবার নীলফামারী সৈয়দপুর তামান্না মোড়ে অনুষ্ঠিত হয় বিশাল জঙ্গিবাদ বিরোধী রোডমার্চ ও সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন ৪০ বছর পর যদি প্রধানমন্ত্রী নিজের পিতার খুনীদের বিচার করতে পারে তাহলে আজ না হয় কাল ৫০ বছর পর হলেও আহলে সুন্নাত ক্ষমতায় গিয়ে আল্লামা ফারুকীর বিচার করবে। বর্তমানে বিচারহীনতার এই সংস্কৃতির কারনে দেশের আপামর জনসাধরণ চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ভীতির মধ্যে জীবন যাপন করছে। তিনি আরও বলেন আগামী ১২ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশের আগে যদি ফারুকী হত্যাকারীদের ধরা না হয় তাহলে শান্তিপূর্ন কর্মসুচীর মাধ্যমে ঢাকা অচল হয়ে যাবে।
বাংলাদেশ ইসলাম ফ্রন্টের প্রেসিডিয়াম সদস্য, বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্য ও চ্যানেল আই এর জনপ্রিয় ইসলামি অনুষ্ঠান “কাফেলা”র উপস্থাপক মাওলানা ফারুকীর দ্বিতীয় শাহাদৎ বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার ডাকে টেকনাফ থেকে তেতুলীয়া রোডমার্চে সূচী হিসাবে আজ সোমবার নীলফামারী সৈয়দপুর তামান্না মোড়ে অনুষ্ঠিত হয় বিশাল জঙ্গিবাদ বিরোধী রোডমার্চ ও সমাবেশ। সৈয়দপুর ছাত্রসেনার সভাপতি সৈয়দ আসিফ আশরাফীর সভাপত্বিতে সমাবেশে ইসলামী ছাত্রসেনার কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি গোলাম কিবরিয়া, সাধারণ সম্পাদক শামি, জসিম আশরাফী, নেয়ামতুল্ল্যাহ, শহিদুল্লাহ বাহাদুর, কামরুল হাসান, শাহ আলম, অন্যান্য কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা সহ উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুরের আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের কর্মীরা।
সকালে অনুষ্ঠিত সৈয়দপুর তামান্না মোড়ের এই সমাবেশে কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা নুরুল হক চিশতী বলেন, আল্লামা ফারুকীর হত্যাকারীদের সেই দিনে ধরলে দেশকে আজ জঙ্গিবাদের সম্মুখিন হতে হত না। তিনি আরও বলেন, মাওলানা ফারুকীর হত্যায় প্ররোচনাকারীদের চিহ্নিত করে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হলেও সরকার আজ পর্যন্ত তাদের গ্রেফতার করেনি। সেদিন তাদের গ্রেফতার করতে পারলে আজ গুলশান কিংবা শোলাকিয়ায় হামলা হত না। অথচ গুলশান হামলা,শোলাকিয়া হামলার পর সরকারের টনক নড়েছে। সরকার যদি জঙ্গিবাদের উস্কানীর জন্য ইউটিউব, সোসাল মিডিয়া থেকে জঙ্গি উস্কানী দ্বাতা তারেক মনোয়ার, কাজী ইব্রাহিমদের বক্তব্য মুছে দিতে পারে তাহলে আমার প্রশ্ন তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না কেন?
যুবসেনার আবু নাসের মুসা বলেন, জঙ্গিবাদী সম্মিলিত ওহাবী গোষ্ঠির হাতে নৃশংসভাবে নিরীহ মানুষ খুন হচ্ছে, শোলাকাকিয়ার খুনী ধরা পড়লো, গুলশানের খুনী ধরা পড়লো কিন্তু আল্লামা ফাুরকীর খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচারে সরকারি কোন পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয় বলে আমরা হতাশ।
এদেশে কোন রাজনীতিবিদ ইসলাম প্রতিষ্ঠা করে নাই, পীর মাশায়েখের মাধ্যমেই ইসলাম সোনার বাংলায় এসেছে উল্লেখ করে ছাত্রসেনা সৈয়দপুর শাখার আসিফ আশরাফী বলেন যারা মানুষ হত্যা করে, ইসলামের অপব্যাখ্যা করে সেই আইএস জেএমবিরা কোনমতেই মুসলমান হতে পারে না।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন ইসলামী ফ্রন্ট ও ছাত্রসেনার কেন্দ্রƒীয় নেতাসহ সৈয়দপুরের আলেম সমাজ। বক্তারা অনতিবিলম্বে ফারুকীর খুনীদের বিশেষ ট্রাইবুনালে এনে বিচারের জোর দাবী জানান।
এর আগে গত রাতেই ছাত্রসেনার ডাকে চলা টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া রোডমার্চের ৫০ এর অধিক বিশাল গাড়ী বহর সৈয়দপুরে প্রবেশ করে এবং সকালে জঙ্গিবাদ বিরোধী পথ সমাবেশের ব্যানারে তা সৈয়দপুরের শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে তামান্না মোড়ের সভার মাধ্যমে সমাবেশটি শেষ হয়ে তেতুলিয়া,পঞ্চগড়েরর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়।