যশোর: নারীঘটিত কারণে যশোরের চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম খুন হয়েছেন।
এই হত্যা মামলায় আটক শ্যামলী নামে এক নারী এবং মোশারফ হোসেন নামে এক ব্যক্তি রবিবার সন্ধ্যায় যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মৃত্যুঞ্জয় মিস্ত্রির আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিলে বিষয়টি জানা যায়।
আটক শ্যামলী চৌগাছার রঘুনাথপুর গ্রামের ফজলুর রহমানের মেয়ে এবং মোশারফ হোসেন মণিরামপুরের শ্যামকুড় ইউনিয়নের আবুল কাশেমের ছেলে। বর্তমানে তিনি যশোরে মাতৃমঙ্গল ক্লিনিকের স্টাফ কোয়ার্টারে থাকেন। তবে শ্যামলী পাশাপোল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শাহীনুর রহমানের ছোট স্ত্রী বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি থানার ওসি ইলিয়াস হোসেন।
আদালতের একটি সূত্র জানিয়েছে, শ্যামলী যশোরের সরকারি এমএম কলেজে লেখাপড়া করেন। থাকেন কলেজের আসাদ গেটের পাশে ‘তারা’ মেসে। ২০১৪ সালে তার বিয়ে হয় শাহীনের সাথে। কিন্তু ওই বিয়ের কথা গোপন রয়েছে চৌগাছায়।
জবানবন্দি দেয়া মোশারফের স্ত্রী মাতৃমঙ্গল ক্লিনিকে চাকরি করেন। এক সময় চৌগাছায় তিনি চাকরি করেছেন। সে সময় থেকে মোশারফের সাথে শাহীনের পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে শাহীন দ্বিতীয় স্ত্রী শ্যামলীকে নিয়ে মাঝে মধ্যে ওই মাতৃমঙ্গল ক্লিনিকের কোয়ার্টারে সময় কাটাতেন।
সূত্র মতে, নিহত চেয়ারম্যান আবুল কাশেমের দূর সম্পর্কের আত্মীয় শ্যামলী। কাশেম তাকে মাঝে মধ্যে মোবাইল ফোনে উত্ত্যক্ত করতেন। তার সাথে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দিতেন। এই সংবাদ শ্যামলী তার স্বামী শাহীনকে জানায়। এতে শাহীন ক্ষিপ্ত হন। এক সময় শ্যামলী মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন।
পরে কাশেম যশোরে এসে শ্যামলীকে খুঁজে বের করে তাকে নতুন একটি মোবাইল ফোন কিনে দেন। ওই মোবাইল ফোনে যে সিম কার্ড রয়েছে সেটিও কাশেমের নামে রেজিস্ট্রেশন করা। শাহীনও সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য শ্যামলীকে বলেন। ফলে শ্যামলীর সাথে সাক্ষাতে উদগ্রীব হন কাশেম।
জবানবন্দিতে আটককৃতরা বলেন, গত ৩১ আগস্ট বিকেলে কাশেম চৌগাছা থেকে যশোরে আসেন। দাড়াটানায় পৌঁছানোর পর তিনি মোবাইল ফোনে কল দেন শ্যামলীকে। শ্যামলী সন্ধ্যার দিকে নিজে দড়াটানায় এসে কাশেমকে ওই কোয়ার্টারে নিয়ে যান। যেখানে শাহীনের সাথে অনেক সময় কাটিয়েছেন শ্যামলী। সে সময় কোয়ার্টারে মোশারফ হোসেন ছিলেন।
তার স্ত্রীর ছিল নাইট ডিউটি। এ সময় শ্যামলী ঘরে কাশেমকে নিয়ে ঢোকেন। ঘরে ঢোকার ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে শাহীন অজ্ঞাত দুই যুবককে সাথে নিয়ে কোয়ার্টারে যান। সেখানে যাওয়ার পর শাহীনের সাথে কাশেমের তর্কবির্তক এবং ধস্তাধস্তি হয়। তখন শ্যামলী সেখান থেকে বের হয়ে যান। এরপর কী হয়েছে তা তিনি জানেন না বলে আদালতকে জানিয়েছেন।
আটক মোশারফ জানিয়েছেন, ঘটনার পর দুইজনের সাথে বেশ ধস্তাধস্তি হয়েছে। কিছু সময় পর একটি বিছানার চাদরে জড়িয়ে এক ব্যক্তিকে একটি কালো রঙ এর থ্রি হুইলারে (সিএনজি) করে নিয়ে যাওয়া হয়। বাইরে চলে যাওয়ার পর আর কিছুই জানেন না তিনি। দুইদিন পর সংবাদপত্রের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন ওই লাশটি পাশাপোল ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যানের। যাকে হত্যা করা হয় ওই কোয়ার্টারে।
এই বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি ইলিয়াস হোসেন বলেন, দুইজন আসামি হত্যা মামলায় ১৬৪ ধারায় জাবানবন্দি দিয়েছে। হত্যার কথা তারা স্বীকার করেছে বলে তিনি জানান। তবে কী ভাবে, কারা হত্যা করেছে এ বিষয়ে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি। তবে শ্যামলী যে পাশাপোলের সাবেক চেয়ারম্যান শাহীনের দ্বিতীয় স্ত্রী এ কথা তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, হত্যার অভিযোগে আটক তিনজনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এরা হলেন- উপজেলার দশপাকিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও আওয়ামী লীগ পাশাপোল ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক মতলেব মেম্বরের ভাই ওয়াজেদ আলী, কাশেম চেয়ারম্যানের মোটরসাইকেল চালক উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের আলী আহমেদের ছেলে আশিকুল ইসলাম ও একই গ্রামের প্রবাসী শুকুর আলীর স্ত্রী পলি আক্তার।
এ হত্যার ঘটনায় ১৫ জনকে আসামি করে মামলা করেছিল যশোর কোতোয়ালি থানার পুলিশ। এই মামলায় সন্দেহ ভাজন ১৫ সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীর কথা উল্লেখ আছে। এদের বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমান বলেন, মামলার তদন্ত করা হচ্ছে। তারা যদি নিরাপরাধ হয় তাহলে মামলা থেকে অব্যাহতি পাবে। তবে তদন্ত শেষ না হলে বলা যাবে না।