• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

মীর কাশেমের সম্পদ ১৪ হাজার কোটি টাকার

কাসেমসিসি ডেস্ক: শীর্ষ আট যুদ্ধাপরাধী ২০০৮-০৯ অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী হাজার কোটি টাকার সম্পদের মালিক। যা গেল সাত বছরে দ্বিগুণ হয়েছে বলেই ধারণা সংশ্লিষ্টদের। তবে বিভিন্ন সূত্রে পরিবার ও আত্মীয়স্বজনসহ নামে-বেনামে, দেশে-বিদেশে এই যুদ্ধাপরাধীদের হাজার হাজার কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ থাকার কথা জানা গেছে। যার মধ্যে মীর কাশেম আলী একাই ১৪ হাজার কোটি টাকার সম্পদের মালিক।
ব্যাংক, হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় এমনকি গণমাধ্যমেও তাদের বিনিয়োগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই দাবি উঠেছে, এই যুদ্ধাপরাধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারসহ ক্ষতিগ্রস্তদের কল্যাণে ব্যয় করা, প্রয়োজনে আইন সংশোধন করা।
সম্প্রতি যুদ্ধাপরাধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্তে নতুন আইন প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। রুয়ান্ডা ও লিবিয়ায় থাকা এমন আইনের ড্রাফট নিয়ে ইতিমধ্যেই বৈঠক হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আবারও আলোচনা-পর্যালোচনা হওয়ার কথা জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী। আর সম্পদ বাজেয়াপ্তে আইনি পদক্ষেপ দ্রুত সম্পাদনের তাগাদা দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাদের রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছে, দণ্ডিতদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার আইন নেই।
যুদ্ধাপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তে করা আইনটি সম্পর্কে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, মুসলিম আইনে তাদের সম্পত্তি সন্তানদের মালিকানায় চলে যাওয়ায় আইন সংশোধনের বদলে নতুন আইন করাই শ্রেয় হবে। আমরা ইতিমধ্যেই রুয়ান্ডা ও লিবিয়ার আইনের ড্রাফট নিয়ে বসেছি। এই আইন কিভাবে জনগণের উপকারে আসে ও অর্থ মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে পৌঁছাবে, সেভাবেই করা হবে।

রাজস্ব বোর্ড, গণমাধ্যম ও বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, যুদ্ধাপরাধীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পদের মালিক জামায়াত নেতা মীর কাশেম আলী। তার ২০১০ সালের আয়কর রিটার্নে ব্যক্তিগত ঘোষিত মোট পরিসম্পদ ৩ কোটি ৩৩ লাখ ৯৯ হাজার ৩২৪ টাকা। এর মধ্যে তার নামে থাকা শেয়ারগুলোর মূল্য ১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। ঢাকার বাড়ি ও জমির দাম মাত্র কয়েক লাখ টাকা করে উল্লেখ করা হয়েছে রিটার্নে। সে সময় তার বার্ষিক আয় ছিল ১৫ লাখ ৪২ হাজার ৫২৯ এবং ব্যাংকে ছিল ১৮ লাখ ৪৫ হাজার ৭০১ টাকা। তার তত্ত্বাবধানের বেশির ভাগ সম্পদই বিভিন্ন কোম্পানি, ট্রাস্ট ও বেসরকারি সংস্থার নামে রয়েছে। ঢাকা কর অঞ্চল-৫-এর সার্কেল ৫০-এর করদাতা মীর কাসেম আলীর কর শনাক্তকরণ নম্বর বা ই-টিআইএন নম্বর হলো ০৭৬-১০৩-৯৬৬৩। তিনি ঢাকার মিরপুরের দক্ষিণ মনিপুরে ২৮৭ নম্বর প্লটের বহুতল ভবন পেয়েছেন পৈতৃকসূত্রে।

এছাড়া তার ব্যক্তি নামে ঢাকার মোহাম্মদপুরে একতা সোসাইটির ৫ কাঠা জমি ও মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের চালায় সাড়ে ১২ শতক জমি রয়েছে। তিনি ধানমন্ডির বহুতল ভবন কেয়ারী প্লাজার অবিক্রীত ১৭৮.৬৯ বর্গমিটারের মালিক। বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মোট ২৭ হাজার ২৭৭টি শেয়ার রয়েছে তার নিজ নামে। স্ত্রীর নামে রয়েছে ১০০টি এবং দুই ছেলে-তিন মেয়ের নামে রয়েছে ৫০০টি। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংকের ২ হাজার ১১৩টি শেয়ার, কেয়ারী লিমিটেডের ১৪ হাজার শেয়ার, কেয়ারী টেলিকমের ১০ হাজার, কেয়ারী ট্যুরস অ্যান্ড সার্ভিসেসের ১ হাজার শেয়ার, কেয়ারী ঝর্ণা লিমিটেডের ২০টি, কেয়ারী তাজ লিমিটেডের ৫টি, কেয়ারী সান লিমিটেডের ৫টি, কেয়ারী স্প্রিং লিমিটেডের ২০টি, সেভেল স্কাই লিমিটেডের ১০০, মীর আলী লিমিটেডের ২৫টি এবং দিগন্ত মাল্টিমিডিয়া লিমিটেডের ১০০টি শেয়ার রয়েছে মীর কাসেম আলীর নামে। তিনি কেয়ারী লিমিটেডের চেয়ারম্যান, ইবনে সিনা ট্রাস্টের সদস্য (প্রশাসন), ইবনে সিনা হাসপাতালের পরিচালক, ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের পরিচালক, এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রাস্টের সদস্য ও ফুয়াদ আল খতিব চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের সদস্য। বিভিন্ন বোর্ড মিটিংয়ে উপস্থিতির জন্য নিয়মিত ভাতা পেতেন তিনি। ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট অ্যান্ড বিজনেসমেন চ্যারিটি ফাউন্ডেশন, আল্লামা ইকবাল সংসদ, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি চট্টগ্রাম, দারুল ইহসান ইউনিভার্সিটি, সেন্টার ফর স্ট্রাটেজি অ্যান্ড পিস, বায়তুশ শরফ ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ ইসলামিক ট্রাস্ট ও ইসলামিক ইকোনমিঙ্ রিসার্চ সেন্টারের পরিচালনা পর্ষদে ছিলেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ