মোঃ হাবিবুর রহমান, চিলমারী (কুড়িগ্রাম) : কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় কৃষকরা প্রথম পর্যায়ে পানির অভাবে সেচ দিয়ে অনেক আশা নিয়ে আমন চারা নিয়ে মাঠে নেমেছিল। প্রচন্ড খড়ার মাঝেও কঠোর পরিশ্রম করে মাঠে ভালো ফলনের আশা করেছিল। কিন্তু হঠাৎ করে তাদের সব আশা চুরমার করে দিল দু’দফার বন্যায়। প্রায় মাস ব্যাপি বন্যায় উপজেলার কৃষকদের রোপা আমন ও বীজতলা সমুলে নষ্ট করে দেয়। শুধু তাই নয় কয়েকশ হেক্টর সবজি ক্ষেতও বিনষ্ট করে দেয় বন্যা। হতাশায় ভেঙ্গে পড়ে কৃষককূল। মনোবল হারাতে হারতে আবারো শক্ত হয়ে ওঠে তারা। জীবন যুদ্ধে মাঠে নেমে পরে।
জানা গেছে, বন্যায় বিনষ্ট আমন ক্ষেত গুলোতে আবারো কমর বেঁধে নেমে পড়েছেন নতুন করে চারা হাতে। বন্যার ক্ষতি পুষিতে উঠতে কৃষকরা বিভিন্ন স্থান থেকে চড়া মূল্যে চারা সংগ্রহ করে আমন মাঠে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। এবছরের দু’দফায় বন্যায় উপজেলার থানাহাট, রমনা, রানীগঞ্জ, নয়ারহাট, অষ্টমীর চর ও চিলমারী ইউনিয়নের আমন ক্ষেত, বীজতলা মাসব্যাপি বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়ে তা সম্পর্ন বিনিষ্ট হয়েছে। এবং সবজি ক্ষেত বিনিষ্ট হয়েছে প্রায় ৩শত হেক্টর। এতে ক্ষতির শিকার হয়েছেন প্রায় ৩০ হাজার কৃষক। সরকারপাড়া এলাকার কৃষক মনোয়ার জানায়, কি কমু বাহে এবার প্রথমের দিকে যা খড়া ছিল মাঠের পর মাঠ ফেটে চৌচির হয়েছিল বাধ্য হয়ে সেচ ও তেল সার দিয়ে অনেক আশা নিয়ে ২বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছিলাম কিন্তু হঠাৎ ২ দফায় বন্যায় হওয়ায় সব নষ্ট করে দিলো। বিনিষ্ট ক্ষেত গুলোতে পূনরায় চারা লাগাতে উপজেলা কৃষি নির্ভরশীল মাছাবান্দা গ্রামের কৃষক খয়বার (৪৪) জানান, বাঁচতে হলে খেতে হবে খেতে হলে আবাদ করতে হবে। তাই বহু কষ্ট করে চরা মূল্যে চারা জোগার করে জমিতে পূনরায় লাগাচ্ছি। টোনগ্রামের কৃষক আঃ রহিম দুঃখ করে বলেন, অনেক কষ্ট করে চারা রোপন করেছিলাম বন্যা সব খায়া গেল ট্যাকা নাই চারার যা দাম মনে হয় আর লাগাতে পামু না। তবে সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, অনেকে নষ্ট হয়ে যাওয়া জমিতে রোপা আমন লাগাতে শুরু করলেও চারার মূল্য চড়া হওয়ায় অনেক কৃষক তা লাগাতে অক্ষম। কাজেই বিভিন্ন সংকটের কারনে অনেক জমিই পতিত থাকবে। তবে সচেতন মহল মনে করেন সরকারীভাবে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনবার্ষিত করলে তারা অনেকটা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে। আর সেটা না হলে কৃষককূল দিন দিন তাদের মনোবল হারিয়ে ফেলবে। কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত ৭০ ভাগ জমিতে আমন লাগানো হয়েছে। এবছর উপজেলায় রোপা আমনের লক্ষ্যমাত্রা ৩ হাজার ৬৭৮ হেক্টর ধরা হলেও এখন পর্যন্ত অর্জিত হয়েছিল প্রায় ৭ হাজার হেক্টর।