• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৯ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

দিনাজপুর জেলা বিএনপি: আহবায়ক কমিটি নিয়ে এসব কি?

বিএনপিমাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর: সদ্য ঘোষিত দিনাজপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠনের পর থেকে দলের কয়েকজন নেতাকর্মীর মধ্যে ক্ষোভ ও অন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। দলের কতিপয় নেতাকর্মী এই কমিটিকে মেনে নিতে পারছেন না। তারা গত ২৯ আগষ্ট কমিটি ঘোষণার পর দলীয় কার্যালয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এক পর্যায়ে তারা দলীয় কার্যালয়ের কয়েকটি কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
এদিকে গত আগষ্ট মাসের শেষের দিকে “দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কে হচ্ছেন ?” “সদ্য বিলুপ্ত কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে নতুন করে কমিটি গঠনের দাবী” মর্মে একটি সংবাদ বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত হয়। এর কয়েক দিন পরই জেলা বিএনপির বর্তমান মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে ৫১ সদস্যবিশিষ্ট আহবায়ক কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়। এই আহবায়ক কমিটি ঘোষণার পর কয়েকজন নেতাকর্মীদের মাঝে অন্তোষ দেখা দেয়। এই অন্তোষের প্রেক্ষিতে তারা দলীয় কার্যালয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও অবস্থান নেয়। এ সময় তারা জেলা বিএনপির কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এছাড়াও তারা আহবায়ক কমিটির কয়েকজন নেতাকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্যও করতে দ্বিধা করেননি।
তবে অনেকের সাথে আলাপ করে জানা যায়, যে ক’জন নেতাকর্মী বর্তমান আহবায়ক কমিটিকে নিয়ে অন্তোষ প্রকাশ করেছেন, তাদের মধ্যে অনেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করে থাকেন। সে কারণে অনেকেই ধারনা করেন যে, ভিন্ন মতাবলম্বী কারো ইশারায় এমনটি হচ্ছে। তাই তাদের বিক্ষোভ প্রদর্শন দলের সাধারণ নেতাকর্মীদের মাঝে তেমন সাড়া জাগাতে পারেনি।
তবে অনেক নেতাকর্মী আহবায়ক কমিটি ঘোষণার পর দলের চেয়ারপারসন বেগম জিয়া ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ধন্যবাদ জানিয়ে ফেসবুসে স্টেটাস দিয়েছেন এবং সদ্য ঘোষিত কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের দাবী জানিয়েছেন ।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বর্তমান আহবায়ক কমিটির একজন যুগ্ম আহবায়ক বলেন, বর্তমান আহবায়ক কমিটিতে জেলা বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও বোচাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শিক্ষক নেতা অধ্যাপক মঞ্জুরুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক দল পৌর কমিটির আহবায়ক বখতিয়ার আহম্মেদ কচি, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মকসেদুল ইসলাম টুটুলসহ কয়েকটি নাম কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করলে বর্তমান কমিটি নিয়ে কোন অন্তোষ দেখা দিতো না।
বর্তমানে বিএনপি এক চরম দুঃসময় ও ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। এমন পরিস্থিতিতে দলকে সুসংগঠিত করতে ও দলের হাল ধরতে  জেলা বিএনপির মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিকে নিয়ে যারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে, অযাচিত ও অসাংগঠনিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের যদি কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রন করা না যায় এবং দলের সাংগঠনিক নিয়মশৃঙ্খলা ফিরিয়ে না আনা হয়, তবে দিনাজপুর জেলা বিএনপির পক্ষে সাংগঠনিকভাবে ঘুরে দাড়ানো অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক সচেতনমহল।
যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাদের মধ্যে অনেকেই কেন্দ্রীয় বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠন, জেলা পর্যায়ের অঙ্গ সংগঠন ও নবগঠিত আহবায়ক কমিটিতেও অন্তর্ভুক্ত আছেন। সে কারণে অনেকের মনে প্রশ্ন ও সন্দেহের উদ্রেক হয়েছে যে, তারা মূলত কি চায় ? আবার অনেকেই মনে করেন হয়তবা তারা ভিন্ন মতের কারো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে এসব কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ দিকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মীই মনে করেন, বর্তমান আহবায়ক কমিটিকে নিয়ে কিছু সংখ্যক নেতাকর্মী অহেতুক বাড়াবাড়ি করছে। তারা বলেন, এই আহবায়ক কমিটি অল্প সময়ের জন্য করা হয়েছে। কাউন্সিল অথবা আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। যারা পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে আসতে চায় তাদের অহেতুক বাড়াবাড়ি না করে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে আসার জন্য সাংগঠনিক দৃষ্টিকোণ থেকে মানসিকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করা উচিত।
বিএনপি একটি বৃহৎ দল। সবাইকে কমিটিতে থাকতে হবে এমন ভাবা ঠিক নয়। বরং আগামী দিনে সবার অংশগ্রহণে ও সহযোগিতায় বর্তমান আহবায়ক কমিটি যাতে করে একটি গ্রহণযোগ্য ও পূর্নাঙ্গ কমিটি উপহার দিতে পারেন এবং কমিটিতে যেন সমাজের সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও ভাল নেতাকর্মী স্থান পায়, তার জন্য সব ভেদাভেদ ভুলে দল ও দেশের স্বার্থে আন্তরিকভাবে কাজ করা উচিত।
দিনাজপুর জেলা বিএনপির বর্তমান সাংগঠনিক যে দরাবস্থা তার জন্য দলের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা দায়ী। কারণ কেন্দ্রীয় এসব নেতাদের জেলা পর্যায়ের কিছু কিছু নেতার উপর আর্শিবাদ থাকায় দিনাজপুর বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা নাজুক ও নেতাকর্মীদের মধ্যে আস্থাহীনতা, অবিশ্বাস, সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা ও বিভাজনের সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় থেকে উত্তরনের একমাত্র পথ কেন্দ্রীয়ভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী নেতাকর্মীদের কঠোর হস্তে দমন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য, সাহসি ও নিষ্ঠাবান সংগঠকের কোন বিকল্প নেই বলে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মনে করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ