• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

কোরাম সংকটে বন্ধ প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনাল

আদালতসিসি ডেস্ক: একজন বিচারক সংকটে বন্ধ রয়েছে দেশের একমাত্র প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনাল। কোরাম পূর্ণ না হওয়ায় প্রায় পাঁচ মাস ধরে অলস সময় কাটাচ্ছেন এ ট্রাইব্যুনালের অপর দুই বিচারক। দীর্ঘদিন ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বাড়ছে মামলার জট। ভোগান্তি বাড়ছে বিচারপ্রার্থীদের।

প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা যায়, সারা দেশে আধা সরকারি চাকরিজীবীদের চাকরি নিয়মিতকরণ, পদোন্নতি, পেনশন, অপসারণ, জ্যেষ্ঠতা, আর্থিক দণ্ড ও অব্যাহতিসহ চাকরি সংক্রান্ত মামলা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মোট সাতটি প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি ট্রাইব্যুনাল রয়েছে রাজধানী ঢাকায়। অপর চারটি ট্রাইব্যুনাল রয়েছে চট্টগ্রাম, খুলনা, বগুড়া ও বরিশালে। এসব ট্রাইব্যুনালে প্রায় ১১ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তবে এসব ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে কোনো বিচারপ্রার্থী ক্ষুব্ধ হলে তিনি প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হন। এ ট্রাইব্যুনাল হাইকোর্টের সমমর্যাদায় গঠিত।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ১৯৮০ সাল থেকে চলছে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন একজন বিচারপতিকে চেয়ারম্যান করে তিন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত হয় এ ট্রাইব্যুনাল। একজন জেলা ও দায়রা জজ এবং মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব পদমর্যাদাসম্পন্ন একজন কর্মকর্তা এই ট্রাইব্যুনালের সদস্য হিসেবে থাকেন।

বর্তমানে হাইকোর্টের বিচারপতি এ কে এম ফজলুর রহমানের নেত্বত্বে চলছে দেশের একমাত্র প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনাল। অপর সদস্য হলেন যুগ্ম মহাসচিব আবুল হাশেম। বিচার বিভাগীয় সদস্য জেলা জজ মো. আবদুল গফুর। তবে গত ২৫ মে অবসরে চলে যান বিচারক মো. আবদুল গফুর। এর পর থেকে পদটিতে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। আবার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকায় দুজন বিচারকও কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছেন না। তাঁরা নিয়মিত অফিসে এসে অলস সময় পার করছেন। নিয়োগ জটিলতার কারণে ২০১১ সাল থেকে এ পর্যন্ত পাঁচবার এই ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ বন্ধ হয়েছিল। প্রতিবারই ট্রাইব্যুনালটির বিচার কার্যক্রম এক থেকে দুই মাস পর্যন্ত বন্ধ ছিল।

ট্রাইব্যুনালটির রেজিস্ট্রার অফিস মতে, গত পাঁচ বছরে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে (২০১২ থেকে চলতি বছরের ২৫ মে পর্যন্ত) এক হাজার ৪৯৭টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। বর্তমানে আরো পাঁচ শতাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে কয়েক বছরের পুরোনো মামলাও রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিদিন নতুন নতুন মামলা দায়ের করা হচ্ছে। কিন্তু ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় মামলার জট বেড়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার বলেন, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের একমাত্র জায়গা প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনাল। পিয়ন থেকে সচিব পর্যন্ত সরকারি যে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের রায়ে সংক্ষুব্ধ হলে তাঁরা এই আপিল ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হন। কিন্তু দীর্ঘদিন ট্রাইব্যুনাল বন্ধ থাকায় মামলার জট বাড়ছে। একই সঙ্গে বিচারপ্রার্থীরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন।

এ বিষয়ে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শফিকুর রহমান কাজল বলেন, সরকার সঠিক সময়ে এ পদটিতে নিয়োগ না দেওয়ায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। একজন বিচারক অবসরে যাওয়ার আগেই যদি অপর বিচারক প্রস্তুত রাখা হয়, তাহলে এ সমস্যায় পড়তে হয় না।

এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালে একজন বিচারক নিয়োগ দিতে নাম প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট অনুমোদন দিলে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এনটিভি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ