সিসি নিউজ: সরকারি কর্মচারীদের ব্যক্তিগত আবাসন সমস্যা নিরসনকল্পে পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়েই নতুন একটি ফ্ল্যাটের মালিক হবেন নবনিযুক্ত কর্মচারীরা। ক্যাডার হোক আর ননক্যাডারই হোক চাকরির শুরুতেই মিলবে স্বপ্নের ফ্ল্যাট। সেটি হতে পারে রাজধানী ঢাকা বা ঢাকার বাইরে। নামমাত্র সুদে ফ্ল্যাটের মূল্য পরিশোধে প্রায় ৩০ বছর সময় পাবেন তারা। বাংলাদেশ ব্যাংকের চেয়েও সহজ শর্তে মূল্য পরিশোধের সুবিধা থাকছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘ইনোভেটিভ আইডিয়া’ থেকে এ প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, সরকারি চাকরিতে যোগদান করেই ক্যাডার, ননক্যাডার, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা একটি ফ্ল্যাটের মালিক হবেন। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ ব্যাপারে একটি প্রকল্প নেয়া হয়েছে। প্রকল্পে ৫শ’ থেকে হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকবে। প্রতি বছরই বরাদ্দের পরিমাণ বাড়বে। তিন প্রকারের ফ্ল্যাট তৈরি করা হবে। সাড়ে ৮শ’ বর্গফুট, সাড়ে ১২শ’ বর্গফুট ও সাড়ে ১৫শ’ বর্গফুটের ফ্ল্যাট হবে।
সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত আবাসন সমস্যা নিরসনকল্পে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের এ ধরনের প্রকল্প এই প্রথম। পরবর্তী সময়ে অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহকে এ ব্যাপারে সম্পৃক্ত করে আরো অধিকহারে সরকারি সুবধা প্রদানের বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।
গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নতুন চাকরিতে যোগ দেয়া ক্যাডার কর্মকর্তাদের জন্য সাড়ে ৮শ’ বর্গফুটের ফ্ল্যাট। কর্মকর্তা ছাড়াও কর্মচারীরাও এ আকারের ফ্ল্যাট পাবেন। মানুষের জীবনে স্বচ্ছন্দে বসবাসের জন্য সারা জীবনের সঞ্চয় দিয়ে একটি ফ্ল্যাট কেনার স্বপ্ন থাকে। চাকরিতে যোগ দিয়েই যদি সে স্বপ্ন পূরণ হয়। তারা সরকারি কাজে মনোযোগ দিতে পারবেন। ফ্ল্যাটের মূল্য পরিশোধে কর্মচারীরা প্রায় ৩০ বছর সময় পাবেন। স্বপ্ন পূরণের মধ্য দিয়ে সরকারি কর্মচারীদের চাকরি শুরু হোক, চান প্রধানমন্ত্রী।
সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর ধারণাগত এ প্রকল্পের দেখভাল করছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। ১৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি বৈঠক হয়েছে। এতে সভাপতিত্বে করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব। ওই সভায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব সুবিধাভোগীদের ঋণ পরিশোধ সংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপন করেন। যে পদ্ধতি এখানে অনুসরণের প্রস্তাব তা বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুসৃত পদ্ধতির তুলনায় সুবিধাভোগীদের অনেক সুবিধাজনক ও সহনীয় হবে। ওই সভায় তিনটি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পের অধীন নির্মিতব্য ভবনের নকশা স্থাপত্য অধিদফতর থেকে ভেটিং করা, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তা পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হবে। প্রকল্পের খুলনা সংশ্লিষ্ট অংশ বাস্তবায়নের পূর্বে আগ্রহী কর্মকর্তাদের কাছ থেকে দরখাস্ত আহ্বান করা হবে। পর্যাপ্ত সংখ্যক আগ্রহী কর্মকর্তা পাওয়া না গেলে চাহিদার ভিত্তিতে তা স্থানান্তর করা যাবে।
মানবকণ্ঠ