• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০১ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

চাঁদপুরে দালালদের দৌরাত্ম আর চিকিৎসকদের অবহেলায় অসুস্থ সদর হাসপাতাল

%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%81%e0%a6%a6%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0শরীফুল ইসলাম, চাঁদপুর: অপর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স, চিকিৎসা সরঞ্জাম, অবকাঠামো-সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতাল। রোগীদের দুর্ভোগের বিষয় এখানে প্রায় নিয়মে পরিণত হয়েছে। প্রায়ই সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে রোগীরা এলে চিকিৎসকের অভাবে পাঠানো হচ্ছে এক যাক্তার থেকে অন্য ডাক্তাদের কাছে। সিকি কোটি মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল সদর হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও তার কার্যক্রম উন্নতি হয়নি। এর এক বছর পর নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে হাসপাতালের বারান্দায়, ওয়ার্ডের ভেতরে গাদাগাদি করে চিকিৎসক-কর্মচারী পদায়ন, চিকিৎসা সরঞ্জামসহ অন্যান্য সেবা আজও শুরু হয়নি।
এদিকে হাসপাতালের নির্ধারিত ২৫০ শয্যার প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার কোনো বাস্তবায়ন হয়নি আজও। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান, ওয়ার্ডবয়, আয়াসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ শূন্য। দীর্ঘদিন ধরে শূন্য আছে সিনিয়র সার্জারি কনসালট্যান্ট, সিনিয়র মেডিসিন কনসালট্যান্ট, এনেসথেশিয়া কনসালট্যান্ট, নাক-কান-গলা কনসালট্যান্ট, ইউনানী মেডিকেল অফিসার, রেডিওলজি কনসালট্যান্ট, ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ও মেডিকেল অফিসার ইউনানী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, উপসেবা তত্ত্বাবধায়কের অনুমোদিত পদ সম্পূর্ণ শূন্য অবস্থায় রয়েছে। দুটি অ্যাম্বুলেন্স, আলট্রাসোনোগ্রাম, কম্পিউটার অকার্যকর হয়ে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। ডায়াবেটিস পরীক্ষাসহ সাধারণ অনেক পরীক্ষাই হয় না এখানে।
১৫৯ জন চিকিৎসক ও সিনিয়র স্টাফ নার্স থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে রয়েছে মাত্র ৮৪ জন। বাকি ৭৫ জনের কোটা দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছে। হাতে গোনা দু’একজন বাদে যাঁদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে রয়েছে দায়িত্ব পালনে উদাসীনতাসহ বিভিন্ন অভিযোগ। নানা প্রভাব খাটিয়ে অনেক চিকিৎসকই এখানে আছেন দীর্ঘদিন। কিন্তু তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ভালো চিকিৎসা পেতে ক্লিনিকে যাওয়ার উপদেশ দিয়ে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
হাসপাতালে নিয়মিত ঘোরাফেরা করে বিভিন্ন ক্লিনিকের দালাল চক্র। এরা হাসপাতালে আসা রোগীদের বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তির জন্য মোটা অঙ্কের কমিশন পায়। অন্যদিকে অভিযোগ আছে, ডায়াগনস্টিক  সেন্টারগুলোর যোগসাজশে হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন, আলট্রাসনোগ্রাম, কম্পিউটার মাঝেমধ্যে অকার্যকর করে রাখা হয়। চিকিৎসকের মতোই নার্সের অনেক পদও শূন্য। এমনিভাবে চিকিৎসক ও নার্সসহ ৭৫ জনের কোটা শূন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
আবাসিক অফিসার ২ জনের মধ্যে আছেন ১ জন। অ্যানেসথেটিস্ট ২ জনের মধ্যে আছেন ১ জন। ইমারজেন্সি কেল অফিসার ৩ জনের মধ্যে আছেন ২ জন। ১৪ জন সহকারী রেজিস্ট্রারের মধ্যে  আছে ১০ জন। বিষয়ভিত্তিক ১৪ জন মেডিকেল অফিসারের মধ্যে আছে মাত্র ৭ জন। ৮৮ জন সিনিয়র স্টাফ নার্সের মধ্যে আছে মাত্র ৪০ জন।
প্রতিদিন হাজার হাজার লোক জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে এলে লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে চিকিৎসা নিতে হয় হতভাগ্য রোগীদের। তিন-চার ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও চিকিৎসাসেবা না পেয়ে ফিরে যাওয়া রোগীর সংখ্যাও কম নয়। হাসপাতালে অনেক চিকিৎসকের চেম্বারই বন্ধ থাকে দীর্ঘ সময়ে। বেশির ভাগ ডাক্তার আসেন বেলা ১২টার পর। কতটুকু সঠিকভাবে চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে তা সরজমিনে না গেলে কেউই বুঝতে পারবে না।
চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায় ডা. প্রদীপ কুমার দত্ত বলেন, চিকিৎসক সংকটের কারনেই অনেক রোগীদের লাইনে দাড়িয়ে থাকতে হয়। তারপও রোগীরা উন্নত সেবা নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। চাঁদপুর সদর হাসপতালে শহরের বাইরে থেকে শরিয়তপুর. মাদারীপুর সহ বিভিন্ন জেলার রোগীরা এসে ভীড় জামায়। যার কারনে রোড়ীর সংখ্যা বেড়ে যায়। তিনি বলেন, আমরা উদ্ধতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেছি, যাতে দ্রুত সদর হাসপতালের চিকিৎসক সংকট দূর করে। আশা করি দ্রুত সব সমস্যা দূর হয়ে যাবে।
তিনি দালালদের বিষয়ে বলেন, চাঁদপুর সদর হাসপতাল দালাল মুক্ত রাখতে আগেও অভিযান চালানো হয়েছে। যদিও এখন দালালদের তেমন আনাগোনা নেই। আমরা মডেল থানার সহযোহিতায় আবার হাসপতালে দালাল মুক্ত রাখতে অভিযান চালাবো। যারা হাসপাতালে অসহায় রোগীদের সাথে প্রতারণা করে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ