নীলফামারী প্রতিনিধি: সরকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর আওতায় নীলফামারীতে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি কর্মসুচীতে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ আর অনিয়মের কারনে জেলার ডোমার উপজেলার একটি ইউনিয়নে মামলা দায়েরের ঘটনাও ঘটেছে।
মামলা দায়েরের পর মামলার বিবরন, বিবাদী ও মামলার ভবিষ্যত নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতেই দায়সারাভাবে এ মামলা দায়ের। সরকারের এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা ও ডিলারের অপকর্মের খেসারত হচ্ছে এ মামলা। সরকারী কর্মকর্তাদের খামখেয়ালীপনা ও দায়িত্বহীনতার কারনে সরকারের এ প্রকল্পটির সুফল হতে বঞ্চিত হচ্ছে এলাকাবাসী।
জানা যায়, জেলার ডোমার উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়নে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি কর্মসূচীর তালিকা প্রণয়নে অনিয়মের অভিযোগে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক একটি মামলা দায়ের করেন। ডোমার থানার মামলা নং-০৫, তারিখ-০৬/১০/১৬ ইং। মামলার বিবাদীরা হলেন, সংশ্লি¬ষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান, ইউনিয়নের তালিকা প্রণয়ন কমিটির তৎকালীন ইউপি সদস্য সহ দুজন সুবিধাভোগী। সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই ইউনিয়নের হতদরিদ্রদের তালিকা প্রণয়নের জন্য ১২ সদস্য’র একটি কমিটি গঠন করা হয়। বিধি মোতাবেক কমিটিতে সংশি¬ষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম, আহসান হাবীব নামের একজন ইউপি সদস্য, একজন শিক্ষক, একজন সরকারী কর্মকর্তা, সংশি¬ষ্ট ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিগন রয়েছেন। ওই কমিটির স্থানীয় গন্যমান্য, সমাজসেবী নামে যারা রয়েছেন তারা সকলেই স্থানীয় আওয়ামীলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী। অথচ তালিকা প্রণয়ন করেন ডিলার ও স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা। যেখানে ইউপি চেয়ারম্যান তথা জনপ্রতিনিধিদের ভুমিকা ছিল গৌন। তারা বিধি মোতাবেক স্বাক্ষর করেছে মাত্র। অপরদিকে কমিটির সদস্য তথা সংশি¬ষ্ট ইউনিয়নের ইউপি সদস্য কোন সভা বা তালিকা প্রণয়নের খবর জানেন না এমনকি কখনো তাকে জানানো হয় নি। মামলা দায়েরের পর তিনি জানতে পারলেন তাকে ওই কমিটিতে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগে প্রকাশ। ইউপি সদস্য আহসান হাবীব দাবী করেন, যার প্রমান ওই কর্মসূচীকে ঘিরে ইউনিয়নের সভা ও তালিকা প্রণয়নের তার অনুপস্থিতি তথা কোথার তার স্বাক্ষর না থাকা। বিধি মোতাবেক তাকে নামকা ওয়াস্তে কমিটিতে রেখে ফেয়ার প্রাইজ ডিলার ফজলু ও জয়দেব এবং স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতারা তালিকা তৈরী করেন। একই অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলামের। তবে অনিয়মের অভিযোগে যে মামলাটি দায়ের করা হয় সে মামলায় দুজন সুবিধাভোগী, সংশি¬ষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যকে আসামী করা হয়েছে। কমিটির কার্যক্রমে অনুপস্থিত তথা কোন কিছ্ ুনা জেনেই শুধু নাম তালিকায় থাকার অপরাধে মামলার আসামী হয়েছেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। অথচ তালিকা প্রণয়নে যারা সর্বক্ষমতা ভোগ করেছেন এবং বিধির বাইরে থেকেই যে ডিলারগন তালিকা প্রণয়ন করলেন তারা সবাই অজ্ঞাত কারনে মামলার আসামী না হওয়া এবং তাদের বিরুদ্ধে অদ্যাবধি কোন ব্যাবস্থা না নেয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে জনপ্রতিনিধিদের সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করতেই কি এ মামলা। বর্তমানে পুর্বের সেই অগোচালো তালিকার ১৩০০ জন হতে ৬২০ জনের নাম ইউনিয়ন পরিষদের পুনঃমূল্যায়নে বাদ পড়েছে বলে জানা যায়। এলাকাবাসী জানায়, মামলা দায়েরের পর ডিলার জয়দেব ও ফজলু তাদের অনিয়ম করেই চলছেন। হরিণচড়া ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের সুবিধাভোগী জাহাঙ্গীর, ইসলাম সহ অনেকেই জানান, তাদেরকে কার্ড দেয়া হয়নি তবে ৩০০ টাকায় ২০ কেজি করে চাল দিয়েছে ডিলার ফজলু। কার্ড ফজলুর কাছে জমা রয়েছে। তারা এখনো তাদের কার্ড হাতে পায়নি। সুবিধাভোগী তাসকিনা জানায়, তাকে চালের বদলে ৫০০ টাকা দেয়া হয়েছে এখান হতে খরচ বাবদ ৩০০ টাকা কেটে নিয়েছে ডিলার ফজলু। সুবিধাভোগী দিলিপ জানায়, তাকে কার্ড বা চাল দেয়া হয়নি ডিলার ফজলু ৫০০ টাকা দিয়েছে। এমনি নানা অভিযোগ রয়েছে ডিলারদের বিরুদ্ধে যে ব্যাপারে বরাবরের মত উদাসীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়। এ ব্যাপারে ডোমার উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মৃত্যুঞ্জয় রায় বর্মন জানান, যারা এলাকাবাসীকে চেনেন তারাই মামলার আসামী হয়েছেন তবে ডিলারদের অনিয়মের ব্যাপারে তিনি কোন কথা বলতে রাজী হননি।