সিসি নিউজ : সিলেটে কলেজছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিস হত্যাচেষ্টা মামলায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলমকে একমাত্র আসামি করে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিয়েছে পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে আলোচিত এই ঘটনার এক মাস পাঁচ দিনের মাথায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হারুনুর রশীদ ফৌজধারি কার্যবিধির ৩২৪/৩০৭ ও ৩২৬ ধারায় আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় চার্জশিট জমা দেন। চার্জশিটে ৩৬ জনকে সাক্ষী রাখা হয়েছে।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জেদান আল মুসা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, খাদিজার ওপর হামলার মামলায় বদরুলকে একমাত্র আসামি করে সিলেট মহানগর মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
তদন্ত কর্মকর্তা শাহ পরান থানার এসআই হারুনুর রশিদ বলেন, বদরুল হামলা করেছেন বলে একাধিক প্রমাণ রয়েছে পুলিশের হাতে। হামলার সঙ্গে আর কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। বদরুলকে একমাত্র আসামি দেখিয়ে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বদরুল হামলার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। তার অপরাধ সম্পর্কে পুলিশ নিশ্চিত।
আগামী ১৫ নভেম্বর মহানগর মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে অভিযোগপত্রের ওপর শুনানি হবে বলেও তিনি জানান।
হামলার পরপরই বদরুলকে আটক করে পুলিশ। বদরুল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ছিলেন। খাদিজার ওপর হামলার পর তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়। ছাত্রলীগ থেকেও সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।
খাদিজা বর্তমানে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রথম দিকে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। অস্ত্রোপচার করা হয়েছে তিন দফা। এখন তার অবস্থা উন্নতির দিকে।
উল্লেখ্য, গত ৩ অক্টোবর এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে শাবির অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র ও শাবি ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বদরুল আলম। হামলার পরপরই বদরুলকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনার পর শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বদরুলকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
গত ৪ অক্টোবর এ ঘটনায় মহানগর পুলিশের শাহপারান থানায় মামলা দায়ের করেন খাদিজার চাচা আব্দুল কুদ্দুস। ৫ অক্টোবর হামলার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন বদরুল।
কলেজছাত্রী খাদিজার ওপর প্রকাশ্যে এই বর্বর হামলার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বদরুলের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিতের দাবি ওঠে সর্বত্র। দেশজুড়ে বিক্ষোভ-প্রতিবাদের মুখে সরকারের উচ্চ মহল থেকেও বদরুলের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিতের আশ্বাস দেয়া হয়।
হামলার পর খাদিজাকে উদ্ধার করে প্রথমে ওসমানী হাসপাতাল ও পরে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ১০ দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর ১৩ অক্টোবর খাদিজার লাইফ সাপোর্ট খুলে নেওয়া হয়। খাদিজার অবস্থা এখন উন্নতির পথে। সরকারের পক্ষ থেকে খাদিজার চিকিৎসার ব্যয় বহন করা হচ্ছে।