বিশেষ প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডোমারে ভুল চিকিৎসার জন্য এক প্রসুতির মৃত্যু হয়েছে। মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে মৃত্যুর এ ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট ক্লিনিক কতৃপক্ষ ধামাচাপা দিয়েছে বলে অভিযোগে প্রকাশ। যার ফলে নিহতের পরিবারের পক্ষ হতে কোথাও কোন অভিযোগ করা হয়নি।
এলাকাবাসীর দাবী, অভিযোগ না থাকার কারনেই কি বিধি বহির্ভূতভাবে ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠা ডোমারের এসব ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা লোকজন অকাতরে প্রান হারাবে। আর প্রতিবারেই এ সকল মৃত্যুর ঘটনা বরাবরের মত আড়ালেই থেকে যাবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।
ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর এ ঘটনাটি ঘটেছে জেলার ডোমার উপজেলার ডোমার বাসষ্টান্ড সংলগ্ন অনুমোদনহীন পালর্স হসপিটাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার নামের একটি বেসরকারী চিকিৎসা কেন্দ্রে। মৃত প্রসুতি হলেন, সুরমা বেগম (৩৫)। সে জেলার ডোমার উপজেলার উত্তর ভোগডাবুড়ী মুক্তিরহাট গ্রামের নালু ইসলামের স্ত্রী। মৃত সুরমা বেগমের স্বামী নালু ইসলাম জানায়, আমি খুব গরীব মানুষ দিন আনি দিন খাই। গত মঙ্গলবার বিকালে আমার স্ত্রীর প্রসব বেদনা উঠলে তাকে ডোমারের পার্লস ক্লিনিকে নিয়ে আসি। ক্লিনিকের ম্যানেজার আগে ভর্তি করাতে বলেন- না হলে ডাক্তার দেখবে না। স্ত্রীর শারিরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাড়াতাড়ি ক্লিনিকে ভর্তি করে দেই। ভর্তির পর একজন নার্স এসে রোগীকে দেখে এবং বলে যে ডাক্তার বাহিরে আছে। আমি ডাক্তারের সাথে ফোনে কথা বলেছি আমাকে ওষুধ ও ইনজেকশন দিতে বলছে। এরপর ওষুধ ও ইনজেকশন দেওয়ার পরে ধীরে ধীরে সুরমার পেটের ব্যাথা কমে যায়। এভাবে অনেক রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেও আর প্রসবের ব্যাথা উঠে না। তখন ডাক্তার কে বললে বলে যে তোমার স্ত্রীর পেটের বাচ্চা পানি ছাড়া পরে আছে তাই এখন সিজার করতে হবে। আমি নরমালে প্রসবের কথা বলি কিন্তুু ডাক্তার বলে তা সম্ভব নয়। পরদিন বুধবার পর্যন্ত সুরমার পেটে ব্যাথা না থাকায় বাধ্য হয়ে সিজার করতে বলি। পরদিন সকাল ১০টায় আমার স্ত্রীকে অপারেশন রুমে নিয়ে যায় এবং ৪০ মিনিট পরে জানায়, আমার কন্যা সন্তান হয়েছে। কিছুক্ষন পরেই একটি মেয়ে শিশু আমার কাছে এনে দেয়। কিন্তুু এভাবে ঘন্টার পর ঘন্টা পার হয়ে গেলেও আমার স্ত্রীর সাথে আমাকে দেখা করতে দেয়া হয়নি। বার বার স্ত্রীর অবস্থা জানতে চাইলে বলে যে এখনও জ্ঞান ফেরেনি। ঘটনাটি আমার সন্দেহ হওয়ায় পার্লস হসপিটাল এক ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করি অনেক হাতে পায়ে ধরার পর বলে যে তোমার স্ত্রী সুরমা মারা গেছে। একথা শোনার পর আমি মাথা ঘুরে পরে যাই।
আমি সুস্থ হওয়ার পর ক্লিনিকের সবাই বলে, কান্নাকাটি করে লাভ নেই যা হওয়ার হয়ে গেছে, আমরা তো আর ইচ্ছে করে মারিনি। যে যাওয়ার চলে গেছে এখন তোমাকে কোন খরচ দিতে হবে না আমরাই তোমার সব ব্যাবস্থা করে দিচ্ছি। আমি অসহায় মানুষ কার কাছে যাব তাই আর কিছু বলিনি। এরপর ক্লিনিক কতৃপক্ষ তাদের খরচেই গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নালুকে তার মৃত স্ত্রী সুরমা’র লাশ ক্লিনিকের পিছনের দরজা দিয়ে বের করে তাদের বাড়ীতে পাঠিয়ে দেয়। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ক্লিনিক কতৃপক্ষ ও এলাকার কতিপয় সুযোগ সন্ধানী মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিষয়টি রফাদফা করে দেয়। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে মৃতের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
এ ব্যাপারে পার্লস হসপিটাল ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের স্বত্বাধিকারী ডাঃ একরামুল হক সাংবাদিকদের জানান, সুরমা বেগম সিজার করার সময় হার্ট ষ্টোকে মারা যায়।