বিশেষ প্রতিনিধি: রংপুরের বদরগঞ্জে পূর্ব বিরোধের জেরে হরি মন্দিরে ঢুকে প্রতিমা ভাঙচুর করেছে প্রতিপক্ষ। সোমবার রাতের ওই ঘটনায় মঙ্গলবার থানায় অভিযোগ করেছে মন্দির কর্তৃপক্ষ।
উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের রাজারামপুর মঠখোলাপাড়ার হরি মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি নরেশ রায় জানান, সোমবার দিবাগত ভোররাতে পূর্ব বিরোধের জের ধরে রবীন রায় ও দিলীপ রায়সহ অজ্ঞাত ৮/১০জন দুর্বৃত্ত মন্দিরে ঢুকে প্রতিমা ভাঙচুর করে।
এ সময় মন্দিরে রাসপূজার চরকিতে রাখা রাধাকৃষ্ণ প্রতিমা অরক্ষিত থাকলেও বাকি আটটি প্রতিমার সাতটিরই মাথা ভেঙে ফেলা হয়েছে।
এ ছাড়াও মন্দির প্রাঙ্গনে থাকা দান বাক্সের কাছে স্থাপিত আরো একটি প্রতিমার মাথা ভেঙে ফেলা হয়েছে।
জানা গেছে, মন্দিরটি পরিচালনা নিয়ে দীপু রায়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এরই জেরে রাসপূজার প্রাক্কালে ওই এলাকার পঞ্চারায় ভাঙ্গার ছেলে রবীন রায় ও দেবেন রায়ের ছেলে দিলীপ রায় পূজা না করার জন্য কমিটিকে নানাভাবে হুমকি দেয়। তারপরেও পরিচালনা কমিটি রাসপূজার আয়োজন করায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
তবে মন্দিরের সম্পাদক দীপু রায় জানান, ২০১১ সাল থেকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি মন্দির পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু বেশ কিছুদিন থেকে ওই দু’জন নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। এ কারণে ৫ নভেম্বর তাদের বিরুদ্ধে বদরগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
অন্যদিকে মন্দির পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি পুলিন চন্দ্র রায় জানান, মন্দিরটি আগে ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তিতে ছিল। এলাকার লোকজনের সহায়তায় সেটিকে বারোয়ারী মন্দিরে পরিণত করা হয়। সেসময় মন্দির সুরক্ষার জন্য নিরাপত্তা প্রাচীর নির্মাণ কাজ শুরু হয়।
কিন্তু দীপু রায় মন্দীর পরিচালনা নিয়ে আদালতে মামলা করলে তার কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়। তারপর থেকে মন্দিরটি তার ঐতিহ্য হারাতে থাকে।
তিনি বলেন, মন্দিরের নামে প্রায় দু’একর সম্পত্তি রয়েছে। যার কিছু জমি রয়েছে পুরোহিতের কাছে। তিনি পূজা অর্চনা করেন বলে তাকে ওই জমি দেয়া হয়েছে।
এছাড়া বেশিরভাগ জমি একটি ইটভাটায় লিজ দেয়া হয়েছে। সেখান থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আসে। কিন্তু দীপু রায়ের কমিটি সেই টাকার হিসেব কখনোই এলাকার লোকজনকে দেননি। এ কারণে এলাকার লোকজন মন্দিরে যাতায়াত কমিয়ে দেন।
তিনি আরো বলেন, ঘটনা দেখে মনে হচ্ছে এটা একটা সাজানো নাটক। কেননা ৮দিন পর প্রতিমা নামানোর কথা থাকলেও তা চরকিতেই রাখা হয়েছে।
বদরগঞ্জ থানার ওসি আখতারুজ্জামান প্রধান জানান, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা গেছে।