দিনাজপুর প্রতিনিধি: গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের বাগদাফার্ম ও সাহেবগঞ্জে আদিবাসীদের উপর হামলা-মামলা ও নির্যাতনের মাধ্যমে স্বীয় জমি থেকে উচ্ছেদের প্রতিবাদ এবং ১০ দফা বাস্তবায়নের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন পালন করেছে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ দিনাজপুর জেলা শাখা।
সোমবার (২৮ নভেম্বর) সকাল ১১টায় দিনাজপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ দিনাজপুর জেলা শাখার উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন ও মুখে কালোকাপড় বেধে মানববন্ধন কর্মসুচীর আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ১০ দফা দাবী উত্থাপন করেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদ দিনাজপুর জেলা শাখার সভাপতি শীতল মারডি। উপত্থাপিত ১০ দফা দাবীর মধ্যে রয়েছে, নিহত ও আহত আদিবাসী হত্যা ও হামলার বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা, সাহেবগঞ্জ-বাগদার্ফামে সংগঠিত সকল মানবাধিকার লংঘনের ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা, নিহত ও আহত ক্ষতিগ্রস্থ সকল আদিবাসী পরিবারকে ক্ষতিপুরন ও পূর্ণ নিশ্চয়তাসহ আবারো তাদের নিজ বাসভুমে স্থায়ীভাবে বসবাসের নিশ্চয়তা দেয়া, আখ চাষের নামে অধিগ্রহনকৃত ১৮৪২ দশমিক ৩০ একর জমি আদিবাসী ও প্রান্তিক বাঙ্গালী কৃষকদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফেরৎ, সমতলের আদিবাসীদের ভুমি সংকট নিরসনে পৃথক ও সস্বাধীন ভুমি কমশিনগঠনসহ আরো ৫ দফা বাস্তবায়ন করা।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আদিবাসীদের ভুমি দখলের চক্রান্তের সাথে স্থানীয় এমপি, ২জন ইউপি চেয়ারম্যান, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও জড়িত রয়েছেন। যে কারণে সন্ত্রাসী ভুমিদুস্যূরা সাহস নিয়ে অসহায় আদিবাসীদের উপর নির্দয় হামালা চালিয়েছে। আমরা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সরকার ও দেশবাসীকে জানাতে চাই আদিবাসীদের রক্ষায় অবিলম্বে ১০ দফা বাস্তবায়ন করা হউক।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ দিনাজপুর জেলা শাখার সভাপতি শীতল মারডি বলেন, গত ৬ ও ৭ নভেম্বর গাইবান্ধার সাহেবগঞ্জ ও বাগদাফার্ম এলাকার আদিবাসী ও গরীব বাঙ্গালীদের উপর রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পুলিশ ও ভুমিদুস্যূরা নির্দয়-নিষ্ঠুর নির্যাতন চালায়। এসময় পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলে নিহত হন আদিবাসী শ্যামল হেমরম, রমেশ টুডু ও মঙ্গল মার্ডি এবং গুরুত্বতর আহত হয়ে এখনো ঢাকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন দ্বীজেন টুডু, চরন স্বরেন, বিমল কিস্কু ও মঙ্গলী হেমব্রম। আদিবাসী ও স্থানীয় বাঙ্গালীদের নিকট পাকিস্তান আমলে সরকার অধিগ্রহনকৃত ১৮৪২ দশমিক ৩০ একর সম্পত্তি আজ চক্রান্তের মাধ্যমে ভুমিদুস্যদের মাঝে লিজ দেয়া হচ্ছে। অথচ আদিবাসীরা এর প্রকৃত হকদার হয়েও জমি ফেরৎ পাচ্ছেন না। জমির মালিকানা চাইতে গিয়ে নিষ্ঠুর নির্যাতন নিপিড়ন, ঘরবাড়ি-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগসহ হামলা-মামলা এবং হত্যাকান্ডের পর্যন্ত স্বীকার হতে হচ্ছে। এছাড়াও রাতের আধারে পুলিশ বাহিনী মিথ্যা মামলার অজুহাতে নিরীহ বাঙ্গালী ও আদিবাসীদের বসতবাড়ি হতে গ্রেফতার করছে।
সংবাদ সম্মেলন শেষে দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সন্মুখ সড়কে দিনাজপুরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত আদিবাসী নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা জাতীয় আদিবাসী পরিষদের ব্যানারে মুখে কালোকাপড় বেধে দাঁড়িয়ে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসুচী পালন করে। সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনে ব্লাষ্ট দিনাজপুরের সমন্বয়ক এ্যাড. সিরাজুম মুনিরা, দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক গোলাম নবী দুলাল, জাতীয় রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ সভাপতি রবিউল আওয়াল খোকা, জাসদ দিনাজপুর জেলা শাখার সভাপতি লিয়াকত আলী, ডেইলি ষ্টার প্রতিনিধি কংকন কর্মকার, কাপেং ফাউন্ডেশন ও হিউম্যান রাইটস্ এলিয়্যানস বাংলাদেশের প্রতিনিধি খোকন সুইটেন মুর্মু, জাতীয় আদিবাসী যুব পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি হরেন্দ্রনাথ সিং, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ দিনাজপুর জেলা শাখার মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সিবানী উরাঁও, আদিবাসী নারী পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক মিনতি মারডি, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ দিনাজপুর জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক আলেকজান্ডার হাঁসদা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।