• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩০ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

আজ পঞ্চগড় মুক্ত দিবস

পঞ্চগড়সিসি নিউজ: মুক্তিযোদ্ধারা বীরত্বের সঙ্গে পাক হানাদার বাহিনীকে হারিয়ে ১৯৭১ সালের ২৯ নভেম্বর পঞ্চগড় মুক্ত করেন। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন উপলক্ষে জেলায় বিভিন্ন বর্ণাঢ্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ১৯৭১ সালের এই দিনে পঞ্চগড় শহরে মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও ছাত্রনেতারা বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। বিজয়ের আনন্দে শহরবাসী উদ্বেলিত হয়ে উঠেন।

ওই দিন মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্র বাহিনীর শহরে প্রবেশের আবেগময় মুহূর্তের কথা বর্ণনা করে বোদা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম (৭৫) বলেন, হাজার হাজার উল্লাসিত জনতা সেদিন ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান দিয়ে তাদেরকে বরণ করে নেয়।

তিনি বলেন, ২৫ মার্চ গণহত্যা শুরুর পর ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত সাবেক পুলিশ, সেনা, ইপিআর, আনসার, কৃষক, শ্রমিক, রাজনৈতিক কর্মী ও ছাত্ররা দখলদার বাহিনীর হাত থেকে পঞ্চগড়কে মুক্ত রাখে।

তিনি আরো বলেন, একাত্তরের ১৭ এপ্রিল দখলদার বাহিনী পঞ্চগড় শহরের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং পঞ্চগড় থানা ও বিভিন্ন এলাকায় কয়েকটি ক্যাম্প স্থাপন করে।

জেলার দকরোপাড়া এলাকার যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা জহিরুল ইসলাম বলেন, হানাদার বাহিনী পঞ্চগড় দখল করে তালমা, গোলেহা, মির্জাপুর, আটোয়ারী, বোদা, ময়দানদিঘী, সাকোয়া, জগদল, আমরখানা ও অন্যান্য স্থানে ক্যাম্প তৈরি করে।

তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা পঞ্চগড় ত্যাগ করার পর তেঁতুলিয়া, চাউলহাটি, কটগয়াচ, ভাজানপুর, মাগুরমারি, ময়নাগুরি, দেবনগর, ব্রাহ্মণপাড়া ও অন্যান্য এলাকায় হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ অব্যাহত রাখে।

জেলার কামারপাড়া এলাকার মুক্তিযোদ্ধা জালাল উদ্দিন প্রধান বলেন, পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর, আল-বদর, রাজাকাররা ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত হাজার হাজার নিরীহ বাঙালি হত্যা, নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ এবং বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়।

মুক্তিযোদ্ধারা ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়ে আবারো সংগঠিত হয় এবং দেশে ফিরে এসে হানাদার বাহিনী ও তাদের স্থানীয় দোসরদের বিরুদ্ধে গেরিলা আক্রমণ ও সম্মুখ যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়।

দকরোপাড়া এলাকার মুক্তিযোদ্ধা সায়খুল ইসলাম বলেন, একাত্তরের ২০ নভেম্বর থেকে মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনী ট্যাংকসহ আক্রমণ জোরদার করে এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ক্যাম্পগুলো দখল করতে থাকে।

তিনি জানান, মুক্তিযোদ্ধারা মিত্র বাহিনীর সহায়তায় ২০ নভেম্বর দখলদার বাহিনীর আমরখানা ক্যাম্প, ২৫ নভেম্বর জগদলহাট ক্যাম্প, ২৬ নভেম্বর শিংপাড়া, ২৭ নভেম্বর তালমা এবং ২৮ নভেম্বর সিও অফিস, আটয়ারি ও মির্জাপুর ক্যাম্প দখল করে।

পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য নাজমুল হক প্রধান বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা মিত্রবাহিনীর সহযোগিতায় হানাদার বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করে একাত্তরের ২৯ নভেম্বর পঞ্চগড় শহরে প্রবেশ করে।

তিনি বলেন, এই সংবাদ চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে হাজার হাজার উল্লসিত মানুষ বিজয়ের আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠে। তারা মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ শ্লোগান দিয়ে চারদিক মুখরিত করে তোলে।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মির্জা আবুল কালাম দুলাল জানান, বিভিন্ন বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মাধ্যমে আজ পঞ্চগড় মুক্ত দিবস-২০১৬ উদযাপন করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ