• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে ভারতীয় হাতি দল

kurigram-indian-elephent-photo-1-05-12-16অনিরুদ্ধ রেজা, কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার রৌমারী সদর, যাদুরচর ও শৌলমারী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ ভারতীয় ১৫টি বন্য হাতি আতংঙ্কে নির্ঘুম রাত পার করছে। গত দুই দিন থেকে সীমান্তবর্তী মানুষেরা ফসল ও ঘর-বাড়ীসহ জানমালের ক্ষতির আশংকায় বিকেল থেকে রাতভর আগুন জ্বালিয়ে ও ঢাক ঢোল পিটিয়ে হাতি তাড়ানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু তাতেও কোন কাজ হচ্ছে না। হাতির দলটি সুযোগ বুঝে বিকেল থেকে সন্ধার মধ্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে রাতভর ধান, সরিষা, কালাইসহ চরাঞ্চলের বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি সাধন করে সকালে কাটাতারের বেড়া সংলগ্ন নো-ম্যানসল্যান্ডে চলে যাচ্ছে। এ অবস্থায় হাতি দেখার জন্য হাজার হাজার উৎসুক জনতা ভীড় করছে। উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তাসহ পুলিশ প্রশাসন স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় বিভিন্ন কৌশলে হাতি তাড়ানোর চেষ্টা করেও ব্যার্থ হচ্ছেন। বিজিবি’র পক্ষ থেকে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ কে অবহিত করা হলেও তারাও কোন ব্যবস্থা গ্রহন করছেন না। হাতির দলটি বর্তমানে শৌলমারী ইউনিয়নের নতুন শৌলমারী গ্রামের সীমান্তে বাংলাদেশের ১শ গজ অভ্যন্তরে অবস্থান করছে।
এলাকাবাসী জানায়, গত শনিবার রাতের কোন এক সময় রৌমারী সীমান্তের ১০৬৭ আর্ন্তজাতিক সীমানা পিলারের পাশ দিয়ে ভারতের গারোহিল পাহাড় থেকে ১৫টি বন্য হাতির একটি দল বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। হাতিগুলো দিনের বেলা কাটাতারের নিকটবর্তী নো-ম্যানসল্যান্ডে অবস্থান করলেও রাতের বেলা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে সীমান্তবর্তী জমির ফসলের ক্ষতি সাধন করছে। এ অবস্থায় রৌমারী সদর, যাদুরচর ও শৌলমারী ইউনিয়নের বড়াইবাড়ি, বারবান্দা, চুলিয়ারচর, খেয়ারচর ও আলগারজরসহ ২০ গ্রামের মানুষজন আতংকিত হয়ে পড়েছে। যেকোন সময় বন্য হাতির দলটি গ্রামে প্রবেশ করে বাড়ী-ঘরসহ জানমালের ক্ষতির আশংকা করছে সীমান্তবর্তী মানুষেরা। এ ব্যপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।
রৌমারী সীমান্তবর্তী এলাকার লাল মিয়া ডাক্তার ও হারুন-অর-রশিদ জানায়, বন্য হাতির এ দলটি দেখতে বর্তমানে হাজার হাজার মানুষ ভীড় করছে। যেকোন সময় হাতি গুলো রেগে গেলে দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে। হাতি গুলোকে ভারতের অভ্যন্তরে ফেরত পাঠাতে আমরা বন বিভাগসহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এব্যাপারে বনবিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন, আমরা হাতির দলটিকে ভারতের পাহাড়ে ফেরত পাঠাতে বিভিন্ন রকমের চেষ্টা করছি। কিন্ত উৎসুক জনতার ভীড়ের কারনে তা সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া বন বিভাগ রংপুর রেঞ্জে হাতি তাড়ানোর প্রশিক্ষন প্রাপ্ত কোন লোকজন না থাকায় নিজেরাই চেষ্টা করছি। আমরা বিষয়টি উপরস্থ কর্মকর্তাদের অবহিত করেছি।
রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ এবিএম সাজেদুল ইসলাম জানান, ভারতীয় বন্য হাতির দলটি যাতে করে জানমালের ক্ষতি করতে না পারে এজন্য আমরা ঐ এলাকায় পুলিশসহ চৌকিদার পাঠিয়েছি। তারা সার্বক্ষনিক দায়িত্ব পালন করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ