• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

সেই হারু রাজাকার এখন আওয়ামী লীগ নেতা

সিসি ডেস্ক: রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধার চাইতে রাজাকারের সংখ্যাই বেশি। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের দোর্দণ্ড প্রতাপ ছিল পুরো পীরগঞ্জ জুড়ে। তারপরও কোনো রাজাকারকে বিচারের আওতায় আনা হয়নি। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় রাজাকার, আলবদররা সে সময় বাড়ীতে অগ্নি-সংযোগ ও নির্বিচারে মুক্তিকামী বাঙালিদের নিধন করেছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির আলোকে এএসএম শামছুল আরেফিন কর্তৃক সম্পাদিত রাজাকারদের তালিকার ২৫২ থেকে ২৬০ পৃষ্ঠায় পীরগঞ্জ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের ৫৬টি গ্রামে তালিকাভুক্ত ১ হাজার ৫০ জন রাজাকার রয়েছে। অপরদিকে এ উপজেলায় বর্তমানে তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা আছেন ৫৩ জন ।

পীরগঞ্জ উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের জাফরপাড়া গ্রামের আসগর আলীর ছেলে হারুন অর রশিদ। মুক্তিযুদ্ধের তার নাম হয়েছিল হারু রাজাকার। সেই কুখ্যাত হারু রাজাকারই এখন আওয়ামী লীগের নেতা। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতিও ছিলেন তিনি।

রাজাকার তালিকার ৫৩ নম্বর রাজাকার মদনখালী ইউনিয়নের জাফরপাড়া গ্রামের আসগর আলীর ছেলে হারুন অর রশিদ ওরফে হারু রাজাকারকে মুক্তিযোদ্ধা আজাহার আলী রাজাসহ (গেজেট নং- ৩৭২, মুক্তিবার্তা নং- ০৩১৩০৬০০২০) কয়েকজন উপজেলার খাশালপীরহাটে হাতেনাতে আটক করে বেঁধে মারধর করে। পরবর্তীতে সেই হারু রাজাকারই মদনখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হন। তবে বর্তমানে তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক নম্বর সদস্য পদে রয়েছেন।

এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা আজাহার আলী রাজা বলেন, যেদিন আমি আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রার্থী হই। সেদিন এই হারু রাজাকারও একই পদে প্রার্থী হয়। উপজেলা আ.লীগের নেতাদের মদদপুষ্ট হয়ে সে আমাকে হারিয়ে ওই পদে বিজয়ীও হয়। এ লজ্জা রাখি কোথায়?

অভিযোগ অস্বীকার করে হারু রাজাকর বলেন, আমি ২০০৫ সাল থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত। আমি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান কমিটির এক নম্বর সদস্য। আমি রাজাকার ছিলাম না। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডেও জড়িত ছিলাম না। রাজাকারের তালিকায় আমার নাম থাকার বিষয়ে কিছু জানি না।

বিষয়টি এড়িয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র তাজিমুল ইসলাম শামীম বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলমান প্রক্রিয়া। বর্তমান সরকারের চ্যালেঞ্জ পাকিস্তানি দোসরদের বিচারের আওতায় আনা। সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।

এদিকে উপজেলার ভেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের ভেন্ডাবাড়ী হাটে ডাকবাংলোয় রাজাকার ক্যাম্পের কমান্ডার ছিলেন চৈত্রকালে ইউনিয়নের জলাইডাঙ্গা গ্রামের আবু জাফর মো. জাকারিয়া (রাজাকারে ভর্তি ১৯/১০/১৯৭১) এবং সেকেন্ড কমান্ডার ছিলেন শাল্টি গ্রামের মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন (রাজাকারে ভর্তি ১২/১১/১৯৭১)। উল্লেখিত দু’জন রাজাকারসহ অনেকে রাজাকার ডাকবাংলো থেকে কয়েকমাস যুদ্ধ করে। বর্তমানে রাজাকার মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন বেঁচে আছেন।

সুত্র জানায়, পাক বাহিনী ১৯৭১ সালের ১৪ জুন পার্শ্ববর্তী মিঠাপুকুরের মিলনপুর ইউনিয়নের চৌধুরী গোপালপুরে হিন্দু পাড়ায় প্রিয় বাবুর বাড়িতে হামলা চালিয়ে অগ্নি-সংযোগ করে। এ সময় রাজাকার আবু জাফর মো. জাকারিয়া, মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন, মিঠাপুকুরের তরফসাদী গ্রামের মাওলানা মজিবর রহমান, তরফসাদী মকিমপুরের আবু ফকিরের নেতৃত্বে পাক বাহিনী হামলা করে। হামলা থেকে রক্ষা পেতে প্রাণভয়ে প্রিয় বাবুর স্ত্রী শান্তি রানী সরকার বাড়ির পাশেই করতোয়া নদী দিয়ে নৌকায় করে পালিয়ে যাওয়ার সময় পাক বাহিনী তাকে বন্দুক দিয়ে গুলি করে হত্যা করে।

এরপর ওই রাজাকারদের সহযোগিতায় ওই গ্রামের ভবতা রানী, নীলিমা রানী সরকার, বেবী রানী সরকার ও ভুল্লি রানী সরকারকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে চৌধুরী গোপালপুরে করতোয়া নদীতে নির্মিত সেতু নিহত ওই ৫ নারীর স্মরণে নামকরণ করা হয়। এ ব্যাপারে ইউনিয়নটির আ’লীগ নেতা শাহ আলম বলেন, জাকারিয়া ও তোফাজ্জল রাজাকার খুবই প্রভাবশালী ছিল। তাদের অত্যাচারে সে সময় মুসলমানদের পাশাপাশি হিন্দুরাও বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছিল।

রাজাকারের তালিকায় দেখা যায়, উপজেলার ৫৬টি গ্রামে রাজাকার রয়েছে। এরমধ্যে বড়আমবাড়ী গ্রামে ১৭ জন, সাল্টিতে ৯ জন, ডুবরাজপুরে (দুবরাজপুর) ৮ জন, জলাইডাঙ্গা, ঢোড়াকান্দর ও হাসানপুরে ৭ জন করে, বাজিতপুরে ৬ জন, কাশিমপুরে ৫ জন, বেহবতপুরে ৪জন রাজাকার রয়েছে। এ ছাড়াও বেশ কয়েকটি গ্রামে ১ থেকে ৩ জন রাজাকার রয়েছে। এতো রাজাকার থাকলেও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডাররা কখনোই তাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ তোলেননি। এমনকি এখন পর্যন্ত কোথাও কোন অভিযোগও করেননি।

‘আগুন ঝড়া দ্রোহকাল; আমার কিছু কথা’ বইয়ের লেখক ও পীরগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডার আলহাজ্ব আব্দুল মমিন আকন্দ বলেন, আমি কোনো রাজাকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করিনি। আমরা তো একই উপজেলার বাসিন্দা। তবে দু-একজন রাজাকারের দাপট ছিল।

উৎসঃ   পূর্বপশশ্চিম


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ