।। মিজানুর রহমান মিলন ।। আজ কি দিবস উদযাপিত হচ্ছে, তা সঠিক ভাবে উত্তর দিতে পারেনি ৭০ বছর বয়সী আব্দুল শকুর আশরাফী। তবে তিনি জানেন আজকের দিনে আমাদের প্রিয় দেশটি স্বাধীন হয়েছে। তাই দেশের প্রতি ভালবাসার টানে নিজের হুইল চেয়ারের সামনে কাগজের জাতীয় পতাকা লাগিয়েছেন তিনি।
আজ শুক্রবার বিজয় দিবসের দুপুরে তার সাথে দেখা হয় শহরের শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়কের জিআরপি মোড়স্থ পত্রিকা দোকান নিউজ কেবিনের সামনে। হুইল চেয়ার চালিয়ে তিনি আসেন ওই দোকানে। এ সময় তিনি দোকানদারের কাছে একটি কাগজের জাতীয় পতাকা খরিদ করেন। দোকানের মালিক দেখেন পতাকাটি হুইল চেয়ারে লাগিয়েছেন বৃদ্ধ শকুর আলী। দেশের প্রতি ভালবাসার টানে হুইল চেয়ারে পতাকা লাগানোর দৃশ্য দেখে দোকারদার পতাকা কেনার টাকাটি তাঁকে ফেরত দিলেন। পতাকা কেনা আর টাকা ফেরত দেয়ার ঘটনাটি দেখতে পান সেখানে উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মী দৈনিক সংবাদের কাজী জাহিদ, দৈনিক ভোরের কাগজের জিকরুল হক, সাফ জবাবের নজরুল ইসলাম। এসময় অনলাইন পত্রিকা সিসি নিউজ’র সম্পাদক জসিম উদ্দিন হুইল চেয়ারে বসা ওই বৃদ্ধের পরিচয় ও হুইল চেয়ারে পতাকা লাগানোর কারণ জানতে চাইলেন। বৃদ্ধ শকুর আলী বলেন আজকের দিনে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, আর এ আনন্দে তিনি পতাকা লাগিয়েছেন হুইল চেয়ারে। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কোথায় ছিলেন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, যুদ্ধ দেখেছেন এবং সে সময় তিনি সৈয়দপুরেই ছিলেন। তিনি দেখেছেন বাঙ্গালী জাতীর ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের বর্বরোচিত অত্যাচার। অবাঙ্গালী হিসেবে তখন তার কি ভূমিকা ছিল জানতে চাইলে বলেন, তিনি ছিলেন অসহায়। তার এসব কথা কতটুকু সত্য তাঁর প্রমাণ তাৎক্ষনিকভাবে না মিললেও পতাকা কিনে হুইল চেয়ারে লাগানোর বিষয়টি সত্যিই আনন্দের। তার হুইল চেয়ারে আরও একটি সবুজ পতাকা লাগানো ছিল। ওই পতাকাটি পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর দিনে লাগানো হয়েছে বলে জানান তিনি। সৈয়দপুর শহরের বাঁশবাড়ি এলাকার বাসিন্দা সে। তিন পুত্র সন্তানের জনক শকুর আশরাফী ছিলেন সেলুন দোকানের কর্মচারি। প্রায় সাড়ে ৩ বছর আগে মসজিদে নামাজ পড়ে ফেরার পথে দূর্ঘটনায় মারাত্মক ভাবে কোমরে আঘাত পান। তখন থেকেই পা ও কোমড়ে ব্যথার কারণে তিনি চলাফেরার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। এরপর থেকেই শুরু হয় তার অসহায় জীবন। প্রতিদিন তাঁকে ৭০/৮০ টাকার ওষুধ খেতে হয়। কিন্তু ছেলেদের উপরে এ ভার দিতে চাননা। কারণ তাঁর ছেলেরাই অতি কষ্টে জীবন যাপন করছে। ফলে ওষুধের টাকা যোগাড় করতেই মানুষের দ্বারে দ্বারে হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন কয়েক বছর ধরে।
#সংবাদকর্মী (আলাপন) মিজানুর রহমান মিলনের ফেসবুক থেকে নেয়া#