নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডোমারে একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জমি দান করে দানকৃত জমিতে বিদ্যালয় ভবন নির্মান করার পরেও দাতা সদস্য হতে পরছে না জমিদাতারা। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের যোগসাজশে ওই এলাকার সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় ওয়ার্ড পর্যায়ের এক আওয়ামীলীগ নেতার কারনে ওই বিদ্যালয়ের কমিটি গঠন প্রক্রিয়া স্থগিত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে জেলার ডোমার উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের ডুগডুগি বড়গাছা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বারাবর দায়ের করা অভিযোগ জানা যায়, ওই বিদ্যালয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী আসাদুজ্জামান গংরা ওয়ারিশসুত্রে প্রাপ্ত জমি হতে গত ২৯/০৯/২০১৬ তারিখে ডোমার সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের ২৬০৮ নং দলিল মূলে ৪ শতাংশ জমি ওই বিদ্যালয়ের নামে দান করে দেন। ওই দানকৃত জমিতে বর্তমানে একটি দ্বিতল ভবন নির্মান কাজ চলছে। বিধি মোতাবেক বিদ্যালয়ে জমি দাতাগনের মধ্যে যে কোন একজন দাতা সদস্য হিসাবে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়। এ বিধিকে উপেক্ষা করে সোনারায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ তার সহযোগী মোজাফ্ফর আলী নামের এক ব্যাক্তিকে বিধি বহির্ভুতভাবে দাতা সদস্য করতে উঠে পড়ে লেগেছেন। ইতিমধ্যে তিনি তার স্ত্রীকে বিদ্যোৎসাহী সদস্য হিসাবে মনোনয়ন নিয়েছেন। মোজাফ্ফর আলীকে দাতা সদস্য করে কমিটিতে তার আরেক বউমাকে নিয়ে আসার অয়োজন করছেন। আর কাজে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের ওই ক্লাষ্টারের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সোহেল শাহজাদা সর্বাত্বক সহায়তা করছেন বলে অভিযোগে প্রকাশ। এর ফলে সৃষ্ট জটিলতায় দীর্ঘ দুই মাস ধরে কমিটি গঠন প্রক্রিয়া স্থগিত রয়েছে।
এ ব্যাপারে ডোমার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহাজাহান মন্ডল সাংবাদিকদের জনান, এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কমিটিতে আলোচনা হয়েছে। কমিটির সিদ্ধান্ত মতে উপজেলা চেয়ারম্যান এ ব্যাপারে তদন্ত করবেন। সে তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে। অপরদিকে একই উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সোহেল শাহজাদা’র ক্লাষ্টারের বড় রাউতা দেবীর ডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় নামের একটি বিদ্যালয়ে দায়িত্ব হতে অব্যাহতিপ্রাপ্ত শিক্ষক প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। ওই শিক্ষকের পছন্দমত ব্যাক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠন করতে না পারার কারনে ওই বিদ্যালয়ের কমিটি গঠন প্রক্রিয়াও দুই মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কমিটি গঠন নিয়ে সৃষ্ট এ জটিলতায় ওই ক্লাষ্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সোহেল শাহজাদা’র কারনে ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।