ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহ সড়ক বিভাগের বিদায়ী নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ বানিজ্য ও লুটপাটের খবর বেরিয়ে আসছে। সাড়ে ১২ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে কাজ না দেওয়ায় হাসান আসকারী নামে এক ঠিকাদার আদালতে মামলা ( মামলা নং ১২২/১৬) ঠুকে দিয়েছেন। এর আগে টাকা আদায়ে নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামকে উকিল নোটিশ পাঠিয়ে ৭ দিনের মধ্যে টাকা দিতে বলা হয়।
বাদী তার অভিযোগ উল্লেখ করেছেন, ঝিনাইদহ সড়ক বিভাগে ঠিকাদারী কাজ করার সুবাদে নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে ঘনিষ্টা গড়ে ওঠে। ফলে আর্থিক সুবিধা নিয়ে মাঝে মধ্যে বাদীকে ঠিকাদারী কাজ দিতেন। এক পর্যায়ে ঠিকাদার হাসান আসকারীকে আরো কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ২০ লাখ টাকা দাবী করেন নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম।
কাজ পওয়ার আশায় বাদী নির্বাহী প্রকৌশলীকে ২০১৫ সালের ২ নভেম্বর জরৈক নায়েব আলীর একাউন্টে ৫ লাখ টাকা, ২০১৬ সালের ২ মে তারিখে ৫ লাখ টাকা ও ২০১৬ সালের ১৬ মে তারিখে জনৈক নুরুন্নবীর একাউন্টে আড়াই লাখ টাকা প্রদান করেন।
টাকা দেওয়ার পর নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম কাজ দেওয়ার নাম করে ঠিকাদার হাসানকে ঘুরাতে থাকেন। এক পর্যায়ে ১২ আগষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী সাক্ষিদের সামনে তাকে টাকা দিতে অস্বীকার করেন। উপায়ান্তর না পেয়ে ঠিকাদার ন্যায় বিচার পেতে আদালতের আশ্রয় নেন বলে অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করেন। বাদী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এড সাদাতুর রহমান হাদী।
উল্লেখ্য, ঝিনাইদহ সওজের বিদায়ী নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম ডিপিএম, এলটিএম ও আরটিএম কোটেশনের নামে সরকারের প্রায় দেড় কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন। তার সাথে ঝিনাইদহ সওজ বিভাগের এসডি নজরুল ইসলাম, এসও আওলাদ হোসেন, এসও মনিরুল ইসলাম ও এসও আহসানুল কবির জড়িত বলে ঠিকাদারদের একটি সুত্র জানায়।
রফিকুলের জামানায় ঝিনাইদহ সড়ক বিভাগ লুটপাটের আখড়ায় পরিণত হয়। সরকারের রাস্তা উন্নয়নের টাকা ভুয়া পাইলিং, রং, রাস্তার পাশ পরিস্কার, মালামাল সপ্লাই, বালি, ইট ও মাটির কাজ দেখিয়ে হরিলুট করা হয়েছে। এছাড়া এক লাখ, পঞ্চাশ হাজার ও ২৫ হাজারের (বিলো) নিচে প্রায় দুই’শ ভুয়া কোটেশন দেখিয়ে সরকারের রক্ষনাবেক্ষন খাতের টাকা তছরুপ করা হয়েছে।
ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা-মুজিবনগর মহাসড়ক নির্মান প্রকল্পে লাখ লাখ টাকা হরিলুট করা হয়েছে। ফলে ৬ মাসের মাথায় কোট কোটি টাকার রাস্তা নষ্ট হয়ে গেছে। এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সড়ক বিভাগের নবাগত নির্বাহী প্রকৌশলী মো: সেলিম আজাদ খান জানান, আমি নতুন এসেছি। আগে কি হয়েছে তা আমার জানা নেই।
ঝিনাইদহ সদরের বংকিরা হাইস্কুলে তালা
স্কুল ফান্ডে টাকা জমা না দেওয়ায় ঝিনাইদহ সদরের বংকিরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়েছে এলাকাবাসি। এ নিয়ে গ্রামে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বকুল নামে এক ব্যক্তিকে সাড়ে তিন লাখ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া নিয়ে এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসির বক্তব্য গ্রামের বেকার ছেলেদের চাকরী না দিয়ে স্কুলের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক টাকার বিনিময়ে ভিন গ্রামের ছেলেকে চাকরী দিয়েছেন।
এ নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে জনমত উপেক্ষা করে গোপনে চোরকোল গ্রামের বকুল নামে এক ব্যক্তিকে চাকরী দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে বংকিরা স্কুলে বিশেষ সভা করে স্কুল ফান্ডে আড়াই লাখ টাকা দেবার সিদ্ধান্ত হয়। এই সভায় সাধুহাটী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী নাজির উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন। এখন এই টাকা দিতে অস্বীকার করছেন চাকরী পাওয়া বকুল।
মঙ্গলবার গ্রামবাসির পক্ষে স্থানীয় মেম্বর এনামুল হক ডালু বিষয়টি জানতে পেরে স্কুলে তালা ঝুলিয়ে দেন। এ সময় পার্শ্ববর্তী গ্রামের মেম্বর আমিরুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন। মেম্বর এনামুল হক ডালু অভিযোগ করেন, টাকার বিনিময়ে চাকরী দেওয়া হয়েছে। সেই টাকা স্কুল ফান্ডে জমা না হওয়া পর্যন্ত তালা ঝুলানো থাকবে। বিষয়টি নিয়ে বংকিরা স্কুলের সভাপতি শুকদেব কর্মকার ও প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলামের বক্তব্য জানতে ফোন করা হলে তারা ফোন রিসিভ করেন নি।
এ ব্যাপারে জেলা শিক্ষা অফিসার মকছেদ আলী জানান, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গ্রামবাসি জানিয়েছেন, প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম বিভিন্ন সভাপতির সাথে আঁতাত করে শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে লাখ লাখ টাকার বানিজ্য করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য এলাকাবাসি দাবী জানিয়েছেন।