ঢাকা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, “আমরা সব সময়ই বলি- যে যার সতর্কতা নিয়ে চলবেন। এটা নতুন কিছু নয়।”
গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন ১৮ জনকে আটক করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ড সন্ত্রাসীদের নতুন কৌশল হতে পারে বলেও জানান মন্ত্রী।
রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
এ হত্যাকাণ্ডের মোটিভ কী হতে পারে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, “পূর্ণ তথ্য না আসার আগে এ বিষয়ে কথা বলা উচিত হবে না। আমি যতটুকু শুনেছি, পুলিশ ও গোয়েন্দারা কতগুলো ডাইমেনশনে চিন্তা-ভাবনা করে কাজ করছেন। আমি খুব দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, আমরা খুব শিঘ্রই দুষ্কৃতিকারীদের শনাক্ত করব।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৮ জন সন্দেহভাজনকে ধরা হয়েছে। আরো ধরা হচ্ছে। আমরা আশা করছি তার (লিটন) টেলিফোন ও আশেপাশের ফোনের যে তথ্য আদান-প্রদান সেগুলো এনে আমরা তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা আমরা শুরু করে দিয়েছি। আমরা নিশ্চিত যেই ঘটনা করে থাকুক। আমরা খুব অচিরেই এদেরকে শনাক্ত করে ধরতে পারব। সেজন্য আমাদের পুলিশ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো একযোগে কাজ করছে।
ওই ঘটনার পর জনপ্রতিনিধিদের সতর্কভাবে চলাচলের নির্দেশনা দেয়া হবে কিনা- একজন সাংবাদিক জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “দেখুন আমরা তো সব সময়ই আমরা বলি- যে যে, যার যার সতর্কতা নিয়ে চলবেন। এটা নতুন কিছু নয়। কথা এটুকুই।”
আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, “এটা সন্ত্রাসীদের নতুন কৌশল হতে পারে। এমপিদের সরাসরি এভাবে (খুন করা)… সাত/আট বছরের মধ্যে এবারই প্রথম ঘটনা ঘটল। সন্দেহের তালিকা থেকে আমরা বাদ দিচ্ছি না, সব কিছুই আমরা অ্যানালাইসিস করছি।”
তিনি বলেন, “এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না, এই কথাটা আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারব না। কে কখন কী করে…, দেখেন তুরস্কের মতো জায়গায় রাশিয়ার অ্যাম্বাসেডরকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ ধরণের ঘটনা তো পৃথিবীর সর্বত্রই ঘটছে। বাংলাদেশ নতুন কোনো দেশ হয় এখানে ঘটছে।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “একজন সংসদ সদস্যের এ ধরনের হত্যাকাণ্ডে আমরা সবাই অত্যন্ত দুঃখিত। যত ধরণের গোয়েন্দা তৎপরতা, ফরেনসিক করে…যা কিছু সাক্ষী-সাবুত আছে এর মাধ্যমে আসল অপরাধীকে চিহ্নিত করব ও ধরে ফেলব।”
দেশের আইনশৃংখলা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে কিনা?- এ প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এর মাধ্যমে (এমপি লিটন হত্যা) আইনশৃংখলা ভেঙে পড়েছে এ প্রশ্নই আসে না। আইনশৃংখলা অত্যন্ত স্বাভাবিক আছে। আমরা মনে করছি, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা সঠিক কাজটি করছি বলেই আইনশৃংখলা ঠিক আছে। এখানে কোন ব্যত্যয় ঘটেনি।”
কোনো গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ না করে তিনি আরো বলেন, “পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা অনেকবার নিয়েছে। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী-গোয়েন্দা বাহিনী অত্যন্ত তৎপর রয়েছে। কেউ কোনো কিছু করেই পার পাবে না।”
মন্ত্রী-এমপিরা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে কিনা? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সব কিছুই আমরা প্রাধান্য দিচ্ছি। এটাও আমাদের চিন্তায় থাকবে, যে এটাও একটা কৌশল ছিল কি না। এটার মাধ্যমে তারা একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি করার প্রচেষ্টা নিচ্ছে কিনা।”
আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, “আমি জেনেছি তিনি (মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন) অত্যন্ত জনদরদী ছিলেন এবং মানুষের সঙ্গে মিলেমিলে কাজ করতেন। সেজন্যই তার বাড়িতে এভাবে (হত্যাকারী) পাঁচজন ঢুকে গিয়েছিল। তাই কেউ সন্দেহ করতে পারেননি।”
এ ঘটনায় সরকার উদ্বিগ্ন কিনা- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, “সরকার আগেও উদ্বিগ্ন ছিল না, এখনো কোনো ঘটনার জন্য উদ্বিগ্ন নয়। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর যথেষ্ট বিশ্বাস রয়েছে। তারা ভালো কাজ করছে।”
শনিবার সন্ধ্যায় গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সরকারদলীয় সাংসদ মনজুরুল ইসলামকে সাহাবাজ গ্রামের নিজের বাড়িতে দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করে।
এর আগে শনিবার মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং সেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক জেড এ মাহমুদকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা গুলি ছোড়ে। লক্ষ্যভ্রষ্ট সেই গুলিতে শিপ্রা কুণ্ডু নামে এ নারী নিহত হন।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “খুলনার ঘটনা যারা ঘটিয়েছেন তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। পিস্তল সরবরাহ কে করেছে, কে খুন করেছে এগুলো শনাক্ত হয়েছে। পিস্তল সরবরাহকারীকে ধরা হয়েছে। বাকিরাও ধরা পড়বে খুব শিঘ্রই। আমাদের পুলিশ কাজ করছে।”