বগুড়া: বগুড়ার আদমদীঘিতে তালিকাভুক্ত রাজাকার গোলাম মোস্তফাকে আওয়ামী লীগে যোগদান করিয়ে নেয়ার ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে দলের তৃণমূল নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে।
জানা গেছে, উপজেলা সদরের আদমদীঘি বালিকা বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক গোলাম মোস্তফা উপজেলা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি রাজাকার ছিলেন। ব্যক্তি জীবনে শিক্ষকতা করার সময় নারী কেলেঙ্কারির দায়ে ওই বিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত হয়েছিলেন।
এসব ঘটনা জানা থাকার পরও তাকে স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়া দল আওয়ামী লীগে যোগদান করিয়ে নেয়ার ঘটনায় দলের উপজেলা কমিটির সাবেক সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সাবেক এমপি কছিম উদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম খান রাজুর প্রতি বিরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন তৃণমূল নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। অনেকে বলছেন, আওয়ামী লীগের মতো দলে নেতাকর্মীর এতই অভাব পড়েছে আর দৈন্যদশা চলছে যে, রাজাকারকে দলে ভিড়িয়ে দল ভারি করতে হচ্ছে। গত ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্রের বিজয় দিবস উদযাপন দিবসে বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর আওয়ামী লীগে যোগদান করার সুযোগে গোলাম মোস্তফাও আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। রোববার আওয়ামী লীগে রাজাকারের যোগদান ঘটনা ব্যাপকভাবে ফাঁস হলে আওয়ামী লীগের তৃণমূলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার আমলে সরকারিভাবে করা রাজাকারের তালিকায় গোলাম মোস্তফার নাম রয়েছে। ওই তালিকায় উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের শালগ্রাম গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে গোলাম মোস্তফার পরিচয় দেয়া হয়েছে আদমদীঘি থানা রাজাকারের ডেপুটি কমান্ডার হিসেবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম খান রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি অস্বীকার করেন।