।। এইচএম আল আমিন আহমেদ ।।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ভাই হেলিকপ্টারে পাবনায় একটি মাদক, সন্ত্রাস, ও জঙ্গিবিরোধী প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেছেন – এই নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় নিউজ হয়েছে। প্রথমে আমি একটা কথা বলে নিচ্ছি, গনমাধ্যমের বন্ধুদের সাথে আমাদের সম্পর্ক বন্ধু ভাবাপন্ন ও সৌহা্দ্যপূর্ণ। গণমাধ্যমকে বলা হয় জাতির দর্পণ, যার মাধ্যমে জাতি সমাজের আসল চিত্র দেখেন।
তদ্রুপ বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও জাতিকে অতীতে পথ দেখিয়েছে, জাতির যে কোনো ক্রান্তিলগ্নে দেশ ও জনগনের পাশে থেকে কাজ করেছে এবং করে যাচ্ছে। অনেক সাংবাদিক বন্ধু হয়তো নাও জানতে পারেন যে, ছাত্রলীগের অবস্থান সব সময় মাদকবিরোধী, সন্ত্রাসবিরোধী ও জঙ্গিবাদবিরোধী। ছাত্রলীগ আদর্শগতভাবে এসব কর্মকাণ্ডের বিরূদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং নিয়ে থাকে।
খুব বেশিদিন আগের কথা নয়, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পুর্বে সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদের বিরূদ্ধে রাজপথে অবস্থান নেয়ায় ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মী পঙ্গুত্ববরণ করেছেন, অনেকেই প্রাণ দিয়েছেন, এগুলো অনেক গনমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদদাতাদের মাধ্যমে জাতি অবহিত।
এবার আমরা বিচার বিশ্লেষণ করবো, ছাত্রলীগের সভাপতি হেলিকপ্টারের মাধ্যমে মাদক-সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদের বিরূদ্ধে প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করে, দেশ ও জাতির কতটা লাভ-ক্ষতি করেছে, যার জন্য ফলাও করে বিষয়টিকে নেগেটিভ অর্থে প্রচার করা হচ্ছে! নিউজটি নেগেটিভ অর্থে না করে, পজিটিভ অর্থেও করতে হতে পারতো। যেমন মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদের বিরূদ্ধে অবস্থান কর্মসূচিতে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ছাত্রলীগের সভাপতি যোগদানের মাধ্যমে এসব কর্মকাণ্ডের বিরূদ্ধে ছাত্রলীগের কঠিন অবস্থানের প্রমাণ দিয়েছেন।
গনমাধ্যমের বন্ধুদের নিউজটি নেগেটিভভাবে প্রচার করার আগে যে বিষয়টি মাথায় রাখার দরকার ছিলো :
১) ছাত্রলীগের সভাপতি, ছাত্রলীগের কোনো সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে যাননি।
২) কারো বিয়ে কিংবা ব্যক্তিগত, সামাজিক প্রোগ্রামে যাননি?
গিয়েছেন জাতীয় ইস্যুতে, মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ নির্মূলের অংশ হিসেবে।
নিশ্চয় শুধু ছাত্রলীগই আওয়ামী লীগের ইস্যু নয়। এগুলো জাতীয় ইস্যু। সাংবাদিক, সুশীল সমাজ, সামাজিক সংগঠন, বামপন্থি সংগঠন, সবাই কিন্তু আমরা এসব কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করি না।
এবার হইতো বলবেন, ভালো কাজ।
কিন্তু ছাত্রলীগের সভাপতি কেন হেলিকপ্টারে যাবে?
এত টাকা পায় কোথায়?
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারন সম্পাদক কিংবা কেন্দ্রীয় অনেক নেতাকর্মী দেশ ও জনগণের স্বার্থে সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকতে হয়, এই জিনিসটি হয়তো আমরা সবাই জানি।ব্যস্ততার জন্য নিজের ব্যক্তিগত জীবনের অনেক স্বাদ আহ্লাদকে বিসর্জন দিতে হয়। তাদের জন্য সময়টা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
মূলত মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের জন্য, সময়ের ব্যবধানকে কমিয়ে সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর জন্যই হেলিকপ্টারে যাওয়া। হেলিকপ্টারের সাথে নিশ্চয় জাতিগত কোনো বিরোধ নেই? এখানে একটি ভালো কাজের গুরুত্বের বিষয়টি দেখতে হবে।
টাকা মুখ্য বিষয় নয়, রাষ্টের অনেক টাকা অনেকভাবে আপনারাও অপচয় করছেন, অনেকেই করছেন। এখানে হেলিকপ্টারের টাকা কোথা থেকে আসলো, সেই প্রশ্নটা করা মানে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদকে পরোক্ষভাবে প্রশ্রয় দেয়া।
বরং ছাত্রলীগের সভাপতির এতটা গুরুত্ব নিয়ে এই প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করাকে উৎসাহ দিলে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদবিরোধী অবস্থানে জনগণ সোচ্চার হবে, এবং ছাত্রলীগও কট্টর অবস্থানে থেকে আরও গতিশীলভাবে কাজ করতে পারবে।
ছাত্রলীগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২১০ ব্যাগ রক্ত দিয়েছেন মানুষের সেবাদানের লক্ষ্যে। শীতবস্ত্র বিতরণ করেছেন। এখন যদি প্রশ্ন করেন, ছাত্রলীগ শীতকালীন জামা কাপড় কেনার টাকা কোথায় পেল? এত রক্ত যে দিল! ছাত্রলীগের শরীরে এত রক্ত কার টাকা খেয়ে হলো! তাহলে আমার কিংবা আমাদের কিছু বলার নাই।
কথাগুলোর লেখার মুল উদ্যেশ্য একটায়, যে কোনো কাজের পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি দাঁড় করানো যায়, গণমাধ্যমের বন্ধুরা ইচ্ছে করলে ছাত্রলীগের সভাপতির মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদের কঠিন অবস্থানের কথা পজিটিভভাবে প্রকাশ করতে পারতেন!
ছাত্রলীগের এমন অনেক ভালো কাজ আছে যেগুলো মিডিয়ার বন্ধুরা প্রকাশ করেন না কিংবা করতে কার্পণ্য হয়।
আপনাদের প্রতি অনুরোধ থাকবে, আপনারা সাদাকে সাদা কালোকে কালো বলার অভ্যাস তৈরি করুন। তাহলে দেশটা অনেক এগিয়ে যাবে।
ছাত্রলীগের ভালো কাজগুলো প্রকাশ করলে, মন্দগুলোকে নিয়ে প্রতিহিংসা পরায়ন সংবাদ প্রেরণ না করে বরং গঠনমূলক সমালোচনা করলে ছাত্রলীগ অতীতের চেয়ে আরও বেশি দেশ ও জাতির জন্য কাজ করতে পারবে।
আমরা জানি গণমাধ্যমে অনেক বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রেরণকারী আছেন। লেখার মুল বক্তব্য, ছাত্রলীগ ও সাংবাদিক আদর্শবিরোধী কিছু নয়, দুই-ই জাতির জন্য কাজ করেন।
সুতরাং আমরা একে অপরের সহায়ক।এসব প্রতিহিংসা পরায়ন সংবাদ প্রেরণ থেকে ফিরে গঠনমূলক সংবাদ প্রেরণের জন্য অনুরোধ করছি।
লেখক : সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ