সিসি নিউজ: নীলফামারীর সৈয়দপুরে স্বামীর পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় ও যৌতুকলোভী স্বামীর দাবিকৃত তিন লাখ টাকা না দেয়ায় স্বামী ও পরিবারের লোকের পিটুনিতে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে রানী নামে এক গৃহবধু। আর এ ঘটনায় নির্যাতিত ওই গৃহবধু প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
থানার অভিযোগে জানা যায়, অফিসার্স কলোনী এলাকার রাজি উদ্দিন এর কলেজ পড়ুয়া মেয়ে পিয়াজাহান রানীর সাথে ২ বছর আগে বিয়ে হয় মুন্সিপাড়া এলাকার মঞ্জুরের ছেলে মেরাজের সাথে। বিয়ের আড়াই মাস পর মেরাজ বিদেশে চলে যায়। মেরাজের আগের স্ত্রীর দুটি সন্তান রয়েছে। সন্তান দুটিকে রানী দেখাশুনা করেন। প্রতিমাসে মেরাজের পাঠানো টাকা দিয়ে সংসার ও সন্তানের লেখাপড়া চালাচ্ছিলেন রানী। এর মধ্যে মেরাজ পরকীয়া জড়িয়ে পড়ে। মেরাজের সাথে ওই মেয়ের মোবাইল ফোনে কথা বললে সেই মোবাইলের রেকর্ডিংয়ে তা ধরা পড়ে। সব কিছু জেনে মেনে নিয়ে সংসার করে রানী। প্রায় দুই বছর পর গত ৯ জানুয়ারী মেরাজ বিদেশ থেকে ঢাকায় আসে। এর মধ্যে রানীর পিতার অসুস্থতার কারণে রানী পিত্রালয়ে ছিল। ১৭ জানুয়ারী মেরাজ রানীকে ফোন করে তাদের বাড়ীতে যেতে বলে। সে অনুযায়ী রানী তার খালা মুন্নিকে নিয়ে মুন্সিপাড়া স্বামীর বাড়ীতে যায়। এসময় রানীকে দেখে মেরাজ বলে যে তোমাকে তালাক দিব। এর কারণ জানতে চাইলে মেরাজ রানীকে বলে যে যৌতুক হিসাবে আরো তিন লাখ টাকা দিতে হবে। তোমার পিতার কাছ থেকে নিয়ে আস। তার দাবিকৃত ৩লাখ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কোন কিছু বলার আগে মেরাজ রানীকে এলোপাথারি মারডাং শুরু করে। এসময় মেরাজের ভাই মুন্না, মনসুর, বোন গুড়িয়া, বেবি ও গুড়িয়ার স্বামী মুন্না গৃহবধু রানীকে তার ঘরে নিয়ে গিয়ে মেরে রক্তাক্ত করে ঘর থেকে বের করে দিয়ে ঘরে তালা লাগিয়ে দেয়। এসময় রানীর খালা মুন্নি সব কিছু দেখেন কিন্তু প্রতিবাদ করতে পারেনি। কারন তাকে হুমকি দেওয়া হয়। পরে তার খালাসহ আশেপাশের লোকজন রানীকে উদ্ধার করে সৈয়দপুর ১০০ শস্যা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে তার পিতার বাড়ীতে অবস্থান করছেন। বৃহস্পতিবার রানীর পিতার বাড়ীতে গেলে কান্না জড়িত কন্ঠে সেদিনের ঘটনা সাংবাদিকদের বর্ণনা করেন। এ ব্যাপারে রানী বাদী হয়ে উল্লেখিত ব্যক্তিদের নামে সৈয়দপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থাল পরিদর্শন করেছেন।
এব্যাপারে মেরাজের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমি রানীকে নিয়ে সংসার করব না। সে একজন দুশ্চরিত্রা মেয়ে। তবে মেরাজ মারডাংয়ের কথা শিকার করেন। অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আমিরুল ইসলাম।