• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

সৈয়দপুরে এক ভিখারিনী মায়ের কীর্তি!

আলমগীর হোসেন: সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার আশেপাশে ভিক্ষা করেন ৫৫ বছর বয়সী জোসনা। দিন শেষে কপালে জোটে ৮০ থেকে ১০০ টাকার কয়েন। আর রাতে বেঁচে থাকার জন্য কিছু খাবার খেয়ে রেলস্টেশনে কিংবা গেটবাজারে কোন দোকানের বারান্দায় ঘুমিয়ে রাতটা কাটিয়ে দেয়। সপ্তাহ শেষে জমানো টাকা ছেলে জাবেদের লেখাপড়ার খরচ হিসেবে পাঠিয়ে দেয় নীলফামারী সদরের পূর্ব পলাশবাড়ী আরজি হাটখোলা গ্রামে থাকা মেয়ে নুর নাহারের কাছে। কারন মেয়ের বাড়িতে থেকেই একমাত্র ছেলে জাবেদ পড়াশুনা করছে। এটি কোন গল্প নয়-সত্যিকারের এ ঘটনাটি সিসি নিউজের পাঠকের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারী’১৭) সৈয়দপুরের শহীদ ডা: জিকরুল হক সড়কে অন্ধ ভিখারিনীর সাথে বই হাতে এক বালকের দেখা মিলে। কৌতুহল বশত: ওই বালক আর বৃদ্ধার সাথে কথা বললে এই কাহিনী বের হয়ে আসে। বালকের নাম জাবেদ। সে পলাশবাড়ী পরশমনি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ক শাখার ছাত্র। ক্লাসে তার রোল নম্বর ৭। বৃদ্ধা জোবেদা বিবি ওরফে জোসনা তার মা। সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার গেটে ভিক্ষা করে এ সপ্তাহে উপার্জন করা ৪৮০ টাকা দিয়ে স্থানীয় একটি লাইব্রেরী থেকে ছেলের জন্য ক্লাসের প্রয়োজনীয় কিছু বই কিনে রেলস্টেশনে ফিরছেন।

কথা প্রসঙ্গে বৃদ্ধা জোসনা জানান, তার গ্রামের বাড়ি ডোমারে। স্বামী অন্যত্র বিয়ে করে দ্বিতীয় স্ত্রী নিয়ে বসবাস করছেন। ভিক্ষা করে মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন নীলফামারী সদরের পূর্ব পলাশবাড়ী আরজি হাটখোলা গ্রামের ভ্যানচালক ওমর আলীর সাথে। আর সেখানেই দৈনিক উপার্জনের টাকা মেয়ের হাতে দিয়ে ছেলে জাবেদকে রেখেছেন। কান্না মিশ্রিত কন্ঠে জোসনা জানান, ছেলেকে মানুষের মতো মানুষ করতেই আমার এতো পরিশ্রম।

জাবেদ জানান, তার মায়ের আশা পূরন করতে সে প্রানপণ চেষ্টা করছে। তার মায়ের জন্য সে গর্ব করে বলেন, মায়ের ওই টুকু উপার্জন দিয়েই এখন চলছি। আগামীতে কি হবে তা জানিনা। তবে নিরাশ আমি নই। যার কেই নেই তার পাশে  সৃষ্টিকর্তা আছেন। এক প্রশ্নের জবাবে জাবেদ জানান, স্কুল ড্রেস, জুতো আর ব্যাগের জন্য মাকে বলেছি। কোন দিন পাবো তা জানিনা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ