ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহ মহেশপুর উপজেলার আলহাজ¦ মফিজ উদ্দীন বি, এল একাডেমি, রুলির ৬ষ্ঠ শ্রেনীর এক ছাত্রীকে মারপীট করে আহত করা হয়েছে।
ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের আলহাজ¦ মফিজ উদ্দীন বি, এল একাডেমির ধর্ম শিক্ষক মোঃ হাসানুজ্জামান রুলী গ্রামের ইসমাইল হোসেনের কন্যা ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্রী ইশারাত জাহান লিজাকে শিক্ষকের বিনা অনুমতিতে টয়লেটে যাওয়ার অপরাধে বেধড়ক মারপীট করে। লিজা আঘাতের প্রতিবাদ করায় তাকে আবারও লাঠি দ্বারা মাজার নিচের অংশে এবং হাতে গ্রহন করে।
লিজার মা অভিযোগ করে বলেন শিক্ষকের সাথে আমাদের পারিবারিক গোলোযোগ থাকায় উক্ত শিক্ষক তার মেয়েকে এভাবে মারপিট করেছে। একই দিনে একই অপরাধে ভৈরবা গ্রামের আঃ করিমের কন্যা ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্রী আছিয়া খাতুনকেও পেটানো হয়। নাম প্রকাশে অনিইচ্ছুক এক ব্যাক্তি অভিযোগ করে বলেন উক্ত শিক্ষক প্রতিটা শ্রেনী কক্ষে গিয়ে কারনে অকারনে শিক্ষার্থীদের গ্রহন করেন।
এ বিষয়ে শিক্ষক হাসানুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বললে তিনি বলেন বিষয়টি আমরা শুনেছি এবং বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সদস্যদের নিয়ে মিমাংসার চেষ্টা চলছে। বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের দাতা সদস্য মিজানুর রহমান জানান উক্ত ছাত্রীর অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের শিক্ষদের নিয়ে বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা করা হচ্ছে। উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল বারীর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন লিখিত অভিযোগ পেলে উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।
অবশেষে ঝিনাইদহের নাটোপাড়া ঘাটে সেতু হচ্ছে
অবশেষে ঝিনাইদহ-মাগুরা সীমান্তে ফটকী নদীর নাটোপাড়া ঘাটে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। দীর্ঘ ঠেলাঠেলির পর মাগুরার এলজিইডি ২ কোটির অধিক টাকা ব্যয়ে এই সেতুর নির্মাণ শুরু করেছে। ইতিমধ্যে ৪৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ। আগামী জুন মাসে সেতুটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হতে পারে বলে আশা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
ওই ঘাটে একটি সেতু না থাকায় ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ ও মাগুরার শালিখা উপজেলার মানুষের ভোগান্তির শেষ ছিল না। বাঁশের সাঁকো বানিয়ে স্থানীয় লোকজন কোনো রকমে যোগাযোগব্যবস্থা চালু রেখেছিলেন। কিন্তু দুই জেলার সীমান্তে এই ঘাট হওয়ায় সেতুটি নির্মাণে কেউ এগিয়ে আসছিল না। ঝিনাইদহের এলজিইডির বক্তব্য ছিল, নদীর বেশি অংশ মাগুরার মধ্যে হওয়ায় সেতুটি করা তাদের দায়িত্ব।
মাগুরার এলজিইডির দাবি ছিল, ঝিনাইদহের একটি বৃহৎ অংশ এই সেতু দিয়ে পারাপার হবে, ফলে এটা তাদের দায়িত্ব। এতে স্থানীয় লোকজন ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর নড়েচড়ে বসে মাগুরার এলজিইডি কর্তৃপক্ষ। তারা ওই স্থানে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।
ওই এলাকায় গিয়ে কথা হয় স্থানীয় অনেক লোকের সঙ্গে। এ সময় নাটোপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, নাটোপাড়া কালীগঞ্জ উপজেলার পূর্বাঞ্চলের শেষ গ্রাম। এই গ্রামের অপর প্রান্তে রয়েছে শালিখার মশাখালী। নাটোপাড়ার পাশ দিয়ে ফটকী নদী বয়ে মাগুরার ভেতরে প্রবেশ করেছে। এই নদীতে নাটোপাড়া গ্রামের নিচে রয়েছে একটি ঘাট; যে ঘাটের দুই প্রান্তে রয়েছে পিচঢালা পথ। এই পিচঢালা পথই ঝিনাইদহ থেকে শালিখায় যোগাযোগের একমাত্র অবলম্বন। এই সেতু নির্মাণ শুরু হওয়ায় দুই উপজেলার মানুষের যোগাযোগের দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর হতে চলেছে।
মাগুরার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মির্জা মো. ইফতেখার আলী বলেন, ফটকী নদীর নাটোপাড়া ঘাটে তাঁরা সেতু নির্মাণের জন্য বৃহত্তর যশোর জেলা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় একটি বাজেট দেন। সেটি অনুমোদিত হলে দরপত্র আহ্বান করেন। শেষে ২ কোটি ১৩ লাখ ৬৬ হাজার টাকায় সেতুটি নির্মাণের জন্য ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়। এরপর শুরু হয় কাজ।
ঝিনাইদহের ইউনিক কনস্ট্রাকশন (প্রা.) লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান এই সেতু নির্মাণের কাজ করছে। ইতিমধ্যে ৪৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে, কাজের মানও ভালো। আশা করছেন, আগামী জুনে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলে তা জনগণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।