চান মিয়া, ছাতক (সুনামগঞ্জ): সিলেটের শাহ আরেফিন টিলায় ৬শ্রমিক নিহতের ঘটনায় অবৈধভবে পাথর উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন।
সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পাথর উত্তোলনের সময় ২৩জানুয়ারি এসব পাথর শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছে। ঘটনার পর থেকে সিলেটের জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদীনের নির্দেশে শাহ আরেফিন টিলা থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। এখানে টিলা কাটায় রয়েছেন প্রায় ১০সহস্রাধিক দিন মজুর। অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের জন্যে টিলা খুড়তে গিয়ে মাটি চাপায় প্রতিনিয়ত অসংখ্য দিনমজুর মারা যাচ্ছে। কিন্তু এসব নিহত ব্যক্তিদের খোঁজ রাখছেনা কেউ। প্রভাবশালী পাথর উত্তোলনকারিরা প্রশাসনের সাথে আতাঁত করে লাশ গুমসহ ঘটনাগুলো ধাঁমাচাঁপা দিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন থেকে অবৈধভাবে টিলায় পাথর উত্তোলনে জড়িত রয়েছে এলাকার একাধিক টিলা খোকো প্রভাবশালী। ২৩জানয়ারি পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়নের নারায়নপুর গ্রামের মনফর আলীর পুত্র মঞ্জু মিয়ার পাথর উত্তোলনকালে ৬শ্রমিক নিহত হয়েছেন। দৈনিক ৪শ’টাকা বেতনে পাথর এরা পাথর উত্তোলন করতো বলে জানা গেছে। নিহতরা হলেন, পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন জানান, শাহ আরেফিন টিলায় পাথর উত্তোনের সময় মাটি চাঁপায় ৬জন নিহত হয়েছেন। এরা হলেন, সুনামগঞ্জের আল-আমিন, আল হাদি, খোকন মিয়া, আব্দুল কাদির ও নেত্রকোনার পূর্বধলা থানার তাহের ও আশিক। এছাড়া রফিক নামের আরো একজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, শাহ আরেফিন টিলার পাথর খেকোচক্রের টাকার ভাগ পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, আইন প্রয়োগকারি সংস্থার দায়িত্বশীলসহ সাংবাদিক পরিচয়ধারীরাও পেয়ে থাকেন। ফলে রহস্যজনক কারনে টিলা কাটা বন্ধে আইনী কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
মঙ্গলবার স্থানীয়দের সাথে আলাপকালে জানা যায়, হযরত শাহ আরেপিন ওরফে শাহপিন শাহ টিলা নামে পরিচিত টিলার পাথর খেকোরা হচ্ছে, ২০/২৫টি সংঘবদ্ধচক্র। এদের মধ্যে বশর মিয়া, আনজু মিয়া, সোহরাব হোসেন, আব্দুল আউয়াল, আব্দুল করিম, রশিদ মিয়া, তেরাব আলী, কনাই মিয়া, আনাই মিয়া, আখদ্দুছ আলী, হারিছ আলী, হামজা, ফারুক আহমদ, শানুর মিয়া, কাহার আলম, আবদুর নুরসহ অনেকের নেতৃত্বে রাস্তায় চেয়ার টেবিল বসিয়ে আইয়ুব আলীর ছেলে ইসমাইল ও তার সহোদর আবদুল লতিফ ওরফে বিরাই, আবদুল গফুরের ছেলে লালু মিয়া, মৃত সোনা মিয়ার ছেলে আবদুল মন্নান ও তার সহোদর, আবদুল হান্নানসহ অন্যান্যরা সংঘবদ্ধ হয়ে নদীর তীর ও পাহাড়ি সোনাই নদীর তলদেশে লালমাটি ফেলে ভরাটের জন্য প্রতি ট্রাক থেকে ২’শ টাকা করে গড়ে প্রতিদিন ৩’শ ট্রাক থেকে ৬০হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে যাচ্ছেন। এতে সরকারের সাড়ে ১০কোটি টাকার রাবার ড্যাম প্রকল্প ভেস্তে যেতে বসেছে। ঘটনার পর পরই কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুম বিল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এরআগে পাথর উত্তোলন করতে গিয়ে (২০১৪সালের ২৫জুলাই) আনসার সদস্যদের গুলিতে প্রাণহারায় জহুর আহমদ (৪০), ২০১৫সালের ২০জানুয়ারি পাথর কোয়ারিতে মাটিচাপা পড়ে মারা যান সালেহ আহমদ (২০)। একই বছরের ২২ফেব্রুয়ারি মাটিচাপায় মারা যান কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের কাঁঠালবাড়ীর এতিম হোসেনের ছেলে মইন (৪০), একই গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে দানা মিয়া (৪২), শাহজালালের ছেলে দেলোয়ার (২৪) ও ছিদ্দিক আলীর ছেলে এমদাদুল হক সেলিম (৪২), সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার আনোয়ারপুরের অরিন্দ্র দাসের ছেলে চন্দন (৩০)। গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর ছাতকের মুনসিফ আলী (১৮) মারা যান।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বিভাগীয় সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট শাহ শাহেদা আক্তার জানান, পাথর উত্তোলনের ওপর হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার পর সরকার পাথর উত্তোলন বন্ধ রেখেছে। কিন্তু এরপরও অব্যাহতভাবে পাথর উত্তোলনের বিষয়টি পরিষ্কার। এ পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন অত্যন্ত ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ও ‘বিপজ্জনক’। পাশাপাশি এসব গর্তের পাশে শ্রমিকরা ঝুপড়ি ঘর নির্মাণ করে বসবাস করেন। অনেক ক্ষেত্রে এসব ঝুপড়ি ঘর ভেঙে নিচে দেবে যায় এবং শ্রমিকদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ইউপি চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ জামাল ও এলাকাবাসী ছয়জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করলেও পুলিশ জানিয়েছে এঘটনায় দু’জন নিহত হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে ঘটনাস্থলে পুলিশী টহল জোরদার রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এঘটনায় থানায় কোন লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
মেয়র কাপ ফুটবল
ছাতকে প্রথমবারের মতো মেয়র কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে শহরের পাবলিক (মন্টুবাবুর) খেলার মাঠে ফুটবল টুর্নামেন্টর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পৌর মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা ক্রিড়া সংস্থার সেক্রেটারী ও সাবেক কৃতি ফুটবলার লাল মিয়া, সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র রজনু আহমদ, টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির অর্থ সম্পাদক ও পৌর সচিব মাহমুদ আলম মামুন, সাবেক ফুটবলার সুনু মিয়া, হাজী নিজাম উদ্দিন, ডাঃ আফসার উদ্দিন, আয়না মিয়া, জোয়াহির মিয়া, শাহ নুরুল হক, আমির আলী বাদশা, সৈয়দ মুজিবুল হক লিঠু, পৌর কাউন্সিলর আখলাকুল আম্বিয়া সোহাগ, সুদিপ দে, লিয়াকত আলী, ধন মিয়া, আছাব মিয়া, জসিম উদ্দিন সুমেন, তাপস চৌধুরী, নওশাদ মিয়া ও দিলোয়ার হোসেন, সাবেক কাউন্সিলর ইরাজ মিয়াসহ সাবেক ফুটলার, সাংবাদিক ও ক্রিড়ামোদি দর্শক উপস্থিত ছিলেন। প্রথম মেয়র কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী খেলা পৌরসভার ১ ও ৩ নং ওয়ার্ডের ফুটবল দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শীতবস্ত্র বিতরণ
ছাতকে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সংগঠন আতাউর রহমান আনসার ওয়েলফেয়ার ট্রাষ্ট্রের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ওয়েলফেয়ার ট্রাষ্ট্রের আর্থিক অনুদানে জালালপুর পয়েন্টে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক। এসময় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবু সাদাত মোহাম্মদ লাহিন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাছিমা আক্তার খান ছানা, ইউপি চেয়ারম্যান মাষ্টার আওলাদ হোসেন, আব্দুল মছব্বির, আখলাকুর রহমান, সাবেক চেয়ারম্যান ও ট্রাষ্ট্রের বাংলাদেশ প্রতিনিধি নিজাম উদ্দিন, আ’লীগ নেতা সৈয়দ আহমদ, প্রতিষ্ঠাতা আতাউর রহমান আনসার উপস্থিত ছিলেন। মঙ্গলবার সকালে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রমের শেষ দিনে শতাধিক লোকজনের মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
দু’কর্মকর্তার বিদায় সংবর্ধনা
ছাতক উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা সুদীপ কুমার তালুকদারকে অবসরকালীন ও এলজিইডি’র সহকারী প্রকৌশলী মামুনুর রশীদকে বদলী জনিত বিদায় সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। সোমবার বিকেলে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা কন্ট্রাকটর এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বিদায়ী দু’কর্মকর্তাকে এ সংবর্ধনা দেয়া হয়। কন্ট্রাকটর এসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ সভাপতি, পৌরসভার প্যানেল মেয়র তাপস চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক শাহীন চৌধুরীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বিদায় সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা প্রকৌশলী সমরেন্দ্র দাস তালুকদার। বিদায়ী অতিথি হিসেব বক্তব্য রাখেন, উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা সুদীপ কুমার তালুকদার ও এসলজিইডি’র সহকারী প্রকৌশলী মামুনুর রশীদ, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা আব্দুল মালেক খান, সিনিয়র কন্ট্রাকটর নুরুল ইসলাম।