সিসি নিউজ : রুপবানী প্রতিবন্ধী এখন কিশোরী। বয়স ১০ বছরের মতো হবে। মানুষের জীবনের সুখের গল্পের মতো সাজানো নয় রুপবানীর জীবন কাহিনী। ফলে যে কোন মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যাবে। রুপবানী যেদিন পৃথিবীতে আসেন, সেদিনই তাকে পলিথিনে মুড়িয়ে পরিবারের লোকজন রাতের আঁধারে রেখে যায় সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনে। হাতে- পায়ে ঘা, শীতে নাক দিয়ে পানি ঝড়ছে। বাঁচবে কি মরবে সে চিন্তা করেনি পরিবারের কেউ। সেটি বছর দশেক আগের ঘটনা।
নি:সন্তান সালেহা খাতুন (৪৫) স্টেশন এলাকায় ভিক্ষা করে রাতেই স্টেশনের প্লাটফরমে রাত যাপন করেন। শিশুটির কান্নাকাটি শুনে এক পা, দুপা করে এগিয়ে যান। কোলে তুলে নেন নবজাতক শিশুটিকে। নাম রাখেন রুপবানী। মাতৃস্নেহে বড় করতে থাকেন তাকে। রুপবানী এখন সালেহার জীবনের চলার সাথী। রুপবানীর হাত, পা অচল। ফলে তৈরি গাড়িতে তাকে নিয়ে ঘুরেন সালেহা। এই সালেহার স্বামী ছিলেন সোহরাব আলী।
স্বামী শ্রমিকের কাজ করে সংসারটা চালাতেন। অভাব- অনটনের সংসার ভালোই চলছিল। প্রায় ১২ বছর স্বামী না ফেরার দেশে চলে যান। চোখে অন্ধকার দেখেন সালেহা। পথে নামের ভিক্ষার জন্য। পরে ঠাঁই হয় রেলওয়ে স্টেশন এলাকায়। নি:সন্তান সালেহা এখন রুপবানীকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেন। সে চিকিৎসায় ভালো হয়ে বড় হবে, লেখাপড়া শেখে মানুষের মতো মানুষ হবে।
সালেহা জানান, সে ছিন্নমুল বলে কোন সাহায্য পায়না। এমনকি তার মেয়ে রুপবানীরও কোন প্রতিবন্ধী ভাতা নেই। তিনি মারা গেলে রুপবানীর কি হবে সে চিন্তায় সারাক্ষণ করেন সালেহা। প্রতিদিনের ৭০/৮০ টাকার ভিক্ষা বৃত্তিতে তার ও রুপবানীর খাওয়া-দাওয়া, কাপড়-চোপড় কিছুই হয়না। ফলে মাঝে মধ্যে অনাহারে- অর্ধাহারে রাত কাটাতে হয় তাদের। শীত, বৃষ্টি, ঝড় আর রোদে সালেহা ও রুপবানীর দিন কাটে কিন্ত দুঃখের দিন ফুরায়না।
এ প্রসঙ্গে স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম বলেন, কুড়িয়ে পাওয়া নবজাতক শিশুটিকে মায়ের আদরে লালন-পালন করে চলেছেন সালেহা। প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে রুপবানী চলতে পারেনা। তাই সারাক্ষণ গাড়িতে বসিয়ে স্টেশন এলাকায় ভিক্ষা করেন তিনি। এটি অনেকের কাছে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করেন স্টেশন মাষ্টার।