• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৩ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

দেবীগঞ্জ প্রজনন বীজ উৎপাদন কেন্দ্রের আলু বীজ ১ টাকা কেজি দরে বিক্রি

বিশেষ প্রতিনিধি: দেবীগঞ্জ প্রজনন বীজ উৎপাদন কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার দায়িত্বহীনতার কারনে যথাসময়ে ১৪০ টন আলু বীজ বিক্রি হয় নি। ৫৮ টাকা প্রতিকেজি মূল্যের আলু বীজ অবশেষে ১ টাকা ১০ পয়সা কেজি দরে বিক্রি করা হয়েছে। এতে সরকারের প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ বিষয়ে পরিচালক পরিকল্পনা (বিএনআর) জয়দেবপুর গাজীপুর এর সোহেব হাসানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত টিম তদন্ত করছে। প্রজনন বীজ উৎপাদন কেন্দ্র সুত্রে জানা যায়, কার্ডিনাল জাতের আলু বীজ ৫৮ টাকা কেজি দরে বিক্রয়ের স্বাভাবিক দর  ছিল। এ দামে আলু বীজ বিক্রয় না হলে গত বছরের ৫ ডিসেম্বরে ৪০ টাকা দর নির্ধারন করা হয়। এ দামেও বীজগুলো বিক্রয় না হওয়ায় ১৩ ডিসেম্বরে ২৫ টাকা নতুন দর নির্ধারন করা হয়। কিন্তু বিক্রয় কমিটির সভাপতি প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আশিষ কুমার সাহা রেজুলেশনে স্বাক্ষর না করায় সর্বশেষ দর ২৫ টাকা দরেও আলু বীজগুলো বিক্রয় করা সম্ভব হয় নাই। এক পর্যায়ে সাইফুল ইসলাম নামের এক আলু চাষী ১৪ টাকা কেজি দরে প্রজনন কেন্দ্রে রক্ষিত ১৪০ টন আলু বীজ ক্রয়ে রাজী হয়। এজন্য গত ১৫ ডিসেম্বর উক্ত কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আশিষ কুমার সাহা বিক্রয় শীটে স্বাক্ষর না করায় আলু বীজ বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। ১৪ টাকা কেজি দরে বিক্রির ব্যাপারে পরিচালক ও মহা-পরিচালকের অনমতি থাকলেও পিএসও আশিষ কুমার সাহা তার দায়িত্বহীনতা ও ব্যাক্তিস্বাথের কারনে স্বাক্ষর করেনি বলে অভিযোগে প্রকাশ। এমনকি ক্রেতাকে তিনি তার ভাড়াটিয়া বাহিনী দিয়ে হুমকি ধমকি দিয়েছেন যাতে সে সরকারী বীজ ক্রয় না করে। এ সুযোগে তার ব্যাক্তিগত ও শশুরের উৎপাদিত ২০০ টন বীজ আলু বিক্রি করেন। দেবীগঞ্জ প্রজনন বীজ উৎপাদন কেন্দ্র এলাকার কৃষক ইবরাহীম হোসেন (৪৩) ও সিরাজুল (৩৮) সহ অনেকে  জানান, আমরা প্রতি বছর এখান হতে আলু বীজ ক্রয় করে আলু চাষ করি। এবারে বীজ ক্রয়ের আবেদন করলে আমাদের জানানো হয় যে, বিক্রয়ের জন্য কোন বীজ নেই। সব বীজ শেষ হয়ে গেছে। তখন আমরা বিভিন্ন দোকান থেকে নিম্নমানের আলুর বীজ ক্রয় করি। আবার অনেকে বীজের অভাবে অন্য ফসল চাষ করে। তারা আরো জানায়, এখন এই কেন্দ্রের চারিদিকে শুধুই পঁচা আলুর গন্ধ। এখন শুনছি পঁচা আলুর বীজগুলো নাকি এক টাকায় গরুর খাবারের জন্য বিক্রি করা হচ্ছে। ওই কেন্দ্রের শ্রমিক আব্দুল করিম জানান, গত বছর ১৫০ একর জমিতে আলু চাষ করা হয়। এবার আর্থিক সংকটে ৩০ একর কম জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। আর স্যারদের জেদের কারণে আলুর বীজগুলো বিক্রি করা হলো না। বীজগুলো বিক্রি হলে কিছুটা আর্থিক সংকট কাটানো যেত।
এ ব্যপারে দেবীগঞ্জ প্রজনন বীজ উৎপাদন কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও আলু বীজ বিক্রয় কমিটির প্রধান ড. আশিষ কুমার সাহা জানান, সরকারী নিয়ম অনুযায়ী না হওয়ায় আমি উক্ত রেজুলেশনে স্বাক্ষর করি নাই।  দেবীগঞ্জ প্রজনন বীজ উৎপাদন কেন্দ্রের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবেদ আলী জানান, কয়েক ধাপে দাম কমানোর পর আলু বীজগুলো বিক্রয় না হওয়ায় আমরা অনেকটা বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে যাই। এমন সময় পঁচে যাওয়ার উপক্রম হওয়া ১৪০ টন আলু বীজ ১৪ টাকা কেজি দরে সাইফুল নামে এক ব্যাক্তি কিনতে চাইলে আমরা আলোচনা করে তা বিক্রয়ের সিন্ধান্ত নেই। কিন্তু বিক্রয় কমিটির প্রধান আশিষ কুমার সাহা রেজুলেশনে স্বাক্ষর করে নাই এবং তার লোকজন বাধা দেওয়ায় আলুর বীজগুলো আর বিক্রয় করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরো বলেন, আর কিছু দিনের মধ্যেই নতুন আলু উঠবে। আলু বীজগুলো না সরালে নতুন আলু সংরক্ষন করার জায়গা থাকবে না। এখন বীজগুলোর প্রায় পঁচে যাওয়ার অবস্থা। ওই বীজগুলো মাটিতে পুতে ফেলা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। তাই উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শ করে আমরা মাত্র ১ টাকা ১০ পয়সা দরে ১৪০ টন পঁচা আলুর বীজ এক গরুর খামারীর কাছে বিক্রয় করেছি। এদিকে উক্ত কেন্দ্রের পিএসও আশিস কুমার সাহা শ্বশুর বাড়ি এলাকা ওই কেন্দ্রে দীর্ঘ্যদিন ধরে চাকরিরত রয়েছেন। প্রজনন কেন্দ্রের বীজসহ অন্যান্য উপকরন ব্যবহার করে শত শত একর জমিতে আলু চাষের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এতে তার নামে বেনামে প্রচুর অর্থ সম্পদ রয়েছে। পিএসও আশিষ কুমার সাহার সাথে ওই কেন্দ্রের সাবেক পিএসও’র জমি নিয়ে মামলা চলছে। এ বিষয়ে এলাকার আলু চাষী ও ওই কেন্দ্রের সাধারন শ্রমিকরা সুষ্ঠ তদন্তের দাবী করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ