মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর: দিনাজপুরের বীরগঞ্জ-খানসামা উপজেলার আত্রাই নদীর একটি সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ৩ জেলার লক্ষাধিক মানুষ। সেতু নির্মাণ হলে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ-খানসামা উপজেলার সঙ্গে ঠাকুরগাঁও ও নীলফামারী জেলার সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে।
বীরগঞ্জ-খানসামা উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত আত্রাই নদীর উপর জয়গঞ্জ আন্তঃজেলা খেয়াঘাটের উপর সেতুটি নির্মাণ করা হলে ঠাকুরগাঁওয়ের গড়েয়াহাট, দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ ও খানসামা, নীলফামারী সদর উপজেলার নীলসাগর দীঘি, ভবানীগঞ্জ হাটের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরো একধাপ এগিয়ে যাবে।
খরা মৌসুমে নদীর উপর তৈরি বাঁশের সাঁকো দিয়ে হাজারো সমস্যা নিয়ে নদী পারাপার করছে নদীর দুই পাশের বিভিন্ন গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। সেতুটি নির্মিত হলে এলাকার লোকজন ঠাকুরগাঁও ও নীলফামারী জেলা শহরের সাথে সরাসরি আসা-যাওয়া করতে পারবেন। ফলে সহজ হবে শিক্ষা, কৃষি, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা।
সরেজমিনে দেখা যায়, দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার ৩নং শতগ্রাম ইউনিয়নের ঝাড়বাড়ী চৌরাস্তা মোড় থেকে আত্রাই নদী পার হয়ে পূর্ব দিকের নীলফামারী জেলার ১৭ কিলোমিটারের মধ্যে খানসামা উপজেলা, আত্রাই নদীর পশ্চিমে ঝাড়বাড়ী চৌরাস্তা মোড় থেকে ঠাকুরগাঁও ২২ কিলোমিটার মধ্যে পড়ে ঝাড়বাড়ী হাট, বাহাদুর বাজার ও গড়েয়া হাট। এছাড়া ঝাড়বাড়ী চৌরাস্তা মোড় থেকে ২০ কিলোমিটার উত্তরে পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলা ও দক্ষিণে বীরগঞ্জ উপজেলার অবস্থান রয়েছে।
উত্তরাঞ্চলের ঠাকুরগাঁও জেলার গড়েয়া, শুখানপুকুরী, বালিয়া, আকচা ইউনিয়নের বাসিন্দারা আত্রাই নদী পাড়ি দিয়ে নীলফামারী সদর হয়ে বিভাগীয় শহর রংপুরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অপরদিকে বীরগঞ্জ উপজেলার ৩নং শতগ্রাম ইউনিয়নের লোকজন ভবানীগঞ্জে লোকজন বৃটিশ আমল থেকেই আত্রাই নদী পাড়ি দিয়ে ঝাড়বাড়ী হাটে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করে আসছেন।
অনুরূপভাবে ঝাড়বাড়ী ও ভবানীগঞ্জের শিক্ষার্থীরাও সেই অতীতকাল থেকে ঠাকুরগাঁও, বীরগঞ্জ, ঝাড়বাড়ী ও নীলফামারী সদরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে লেখাপড়া করে আসছে। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে প্রবল স্রোতের মধ্যে লোকজন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেয়া নৌকায় নদী পার হয়ে থাকেন। এতে নৌকা ডুবির ঘটনা হরহামেশাই ঘটে। এসব কারণে আত্রাই নদীর উপর সেতু নির্মাণ এখন এলাকাবাসীর যৌক্তিক দাবিতে পরিণত হয়েছে।
আত্রাই নদীর বীরগঞ্জ উপজেলার ৩নং শতগ্রাম ইউনিয়নের বলদিয়াপাড়া গ্রাম এলাকায় গড়ে ওঠা খেয়াঘাট নামক জয়গঞ্জ ঘাট হয়ে বাশের সাঁকো দিয়ে আত্রাই নদী পার হচ্ছেন শিক্ষার্থী ও শিশুরা। বলদিয়া পাড়া গ্রামের কাপড় ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গাগীর আলম বলেন, আমি সপ্তাহে দুইদিন করে ভবানীগঞ্জ হাট করি। রাতের বেলায় যাতায়াতে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়।
জয়গঞ্জ ঘাটের ইজারদার মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, এই ঘাট দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ পারাপার হয়, বিশেষ করে নীলফামারী ও ঠাকুরগাঁও জেলার মানুষ পারাপার হয়ে থাকেন, বন্যার সময় আমাদের অনেক ঝুঁকি নিয়ে মানুষকে পারাপার করতে হয়। যদিও জয়গঞ্জ আন্তঃজেলা খেয়া ঘাটের ইজারা নিচ্ছি কিন্তু আমি চাই এখানে সেতু নির্মাণ হোক।
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. কেএম কতুুব উদ্দিন বলেন, জয়গঞ্জ আন্তঃজেলা খেয়াঘাট দিয়ে অনেক মানুষ জন পারাপার হয়। এখানে সেতু নির্মাণ হলে বিশেষ করে আশেপাশে কয়েকটি ইউনিয়নের উন্নতি হবে। আমি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে জয়গঞ্জ খেয়াঘাটে একটি সেতু নির্মাণ করা দরকার।
বীরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফিরোজ হাসান জানান, যোগাযোগের ক্ষেত্রে জয়গঞ্জ খেয়াঘাটটি বেশ গুরুত্ব বহন করে। তাই এর গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে সেখানে একটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এ বিষয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর মহোদয় সেতু নির্মাণের বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি গুরুত্ব দেয়ার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেছেন।