• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

ছাতকে রহস্যজনক কারনে প্রাথমিক স্কুলে আগুন

চান মিয়া, ছাতক (সুনামগঞ্জ) : ছাতকে রহস্যজনক কারনে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ পেট্রোলের আগুলে পুড়িয়ে দিয়েছে দুবৃত্তরা। এতে বিদ্যালয়ের আসবাবপত্রসহ দু’লক্ষাধিক টাকা মুল্যের মালামালও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভস্মিভুত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে কি কারনে এ ঘটনা ঘটছে এর কোন কারন জানা যায়নি। শনিবার ভোরে উপজেলার জাউয়াবাজার ইউনিয়নের দক্ষিন বড়কাপন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ে নৈশ প্রহরী না থাকায় শনিবার ভোর রাতে দুর্বৃত্তরা বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙ্গে কক্ষের ভেতর থাকা আসবাবপত্রসহ যাবতীয় মালামাল ও কাগজপত্রে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। এক পর্যায়ে আগুনের লেলিহান শিখাও  কক্ষ থেকে বেড়িয়ে আসা ধোয়া দেখে স্থানীয় লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা করেন। প্রায় আধঘন্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রনে আসার আগেই বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের যাবতীয় কাগজপত্র ও মালামাল ভস্মিভুত হয়। দূর্বৃর্ত্তদের দেয়া আগুনে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে থাকা একটি সরকারী ল্যাবটপ, একটি প্রজেক্টর, ২টি আলমিরা, চেয়ার-টেবিল, বেঞ্চ, ডেস্ক, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির কার্ড, জন্মনিবন্ধন সনদ, খাতাসহ সরকারি ও ভুমি সংক্রান্ত কাগজ-পত্র পুড়ে ছাঁই হয়ে যায়। এতে দু’লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জহুর আলী জানিয়েছেন। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান ছাতক থানায় একটি জিডি করেছেন। জাউয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই আবু আফসার ভূইয়া, ইউপি চেয়ারম্যান মুরাদ হোসেন, সদস্য আব্দুন নুর শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এসময় ঘটনাস্থল থেকে পেট্রোলের গন্ধযুক্ত ৫ লিটারের একটি খালি কন্টেইনার উদ্ধার করে পুলিশ। একটি সুত্র জানায়, বিদ্যালয়ের ভুমি সংক্রান্ত বিষয়ে নিয়ে স্থানীয় একটি পক্ষের সাথে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে আদালতে বিচারাধীন একটি মামলাও রয়েছে। ভুমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষরা এধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটাতে পারে কি না বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্যে প্রশাসনের প্রতি এলাকাবাসী জোর দাবি জানাচ্ছেন।

ছাতকে গলায় ফাঁস দিয়ে ষোড়শী আত্মহত্যা
ছাতকে গলায় ফাঁস লাগিয়ে রুসনা বেগম নামের এক ষোড়শী আত্মহত্যা করেছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের শিমুলতলা গ্রামে এ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। রুসনা বেগম গ্রামের রজব আলীর কন্যা। স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মত রুসনার মা নুরুন্নেছা বেগম শ্রমিকের কাজ করতে পাশের গ্রাম পীরপুরেও বাবা সুরমা নদীতে মাছ ধরতে যায়। ঘরে আর কেউ না থাকার সুবাধে দুপুরে রান্না ঘরের  তীরের সাথে ওড়না পেছিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে রুসনা বেগম। বিকেলে ঘরে এসে মেয়ের ঝুলন্ত লাশ দেখে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পুলিশে খবর দেয় রজব আলী। খবর পেয়ে সন্ধ্যায় ছাতক থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ মর্গে প্রেরন করে। স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মুকিত আত্মহত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
ব্যবসায়ি সমিতি ও গ্রামবাসীর প্রতিবাদ-
ছাতকে সাজানো ঘটনায় বালক জেলহাজতে
ছাতকের দোলারবাজার ইউনিয়নের মঈনপুরবাজারের সর্বস্তরের ব্যবসায়িও গ্রামবাসির উদ্যোগে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে নূর আলীকে জেল হাজতে প্রেরণে ঘটনায় এক প্রতিবাদে সভা অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার ১৮বছরের নিরাপদ বালক নূর আলীকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্যবাসায়ি সমিতির সভাপতি নেছার আহমদ। সমিতির সাধারণ সম্পাদক নূর উদ্দিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় মঈনপুর গ্রাম ও ব্যবসায়ি সমিতির পক্ষে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট মুরব্বী ইউছুফ আলী, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিম, নূরুল হক, সিিতর সহ-সভাপতি শুয়েব আহমদ, লুৎফুর রহমান ফুরুক, হাফেজ হুসমত আলী, সৈয়দ নাসির উদ্দিন, মখরম আলী, হেলাল আহমদ, মিজানুর রহমান, আমান আলী, খোকন মিয়া, মনির উদ্দিন, জসিম উদ্দিন, রফিক আলী, আজির উদ্দিন, সজিবুল ইসলাম সজিব, ছয়ফুল আল, আরজক আলী, সুজনমিয়া, আব্দুল আহাদ, শাফি আহমদ, তজম্মূল আলী, কবির মিয়া, নূরুল আমীন, আছকির আলী, মানিক মিয়া, আব্দুল জাহির, আব্দুল হেকিম, আলী আহমদ, আমির আলী, ফারুক মিয়া বাবুর্চিসহ গ্রামের প্রবীন মুরব্বী, যুবক, শিক্ষক, ছাত্র, ব্যবসায়িসহ সর্বস্তরের লোকজন। সভায় মঈনপুরবাজারের আল-মদীনা রেষ্টুরেন্টের সামনের পান-সিগারেটের দোকানদার দীনমজুর ফরিদ আলীর পুত্র নূর আলী (১৮)কে মিথ্যা ও সাজানো ঘটনায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে গ্রেফতারের নিন্দা ও এঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান বক্তারা। তারা আরো বলেন, গত ২৪জানুয়ারি বেলা দেড়টায় মঈনপুর গ্রামের লেখক মালেকুল হকের পিতা বিশিষ্ট মুরব্বী জিতু মিয়ার নামাজে যানাজায় অংশ নেন বাজারের ব্যবসায়িও গ্রামবাসী। যানাজার নামাজ চলাকালে একটি কুচক্রিমহলের ষড়যন্ত্রে ছাতক থানার এসআই তরিকুল ইসলামও সফিকুল আলম চৌধুরী নিরাপরাধ নূর আলীকে তার পিতা ফরিদ আলীর পানের দোকান থেকে আটক করে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় দেড় শ’গজ দূরে ইউপি ভবন সংলগ্ন বাজারের ত্রিতল মার্কেটের কাছে যাবার পর জনৈক ব্যক্তির একটি ফোন পেয়ে পূনরায় ঘটনাস্থলে ফিরে আসে পলিশ। এখানে আসার পর আল-মদীনা রেষ্টুরেন্টের পেছনের গুদামঘর থেকে রহস্যজনকভাবে একটি প্লাষ্টিকের ব্যাগ ও ৪টি মদের বোতল কুড়িয়ে নেয়। পরের দিন ২৫জানুয়ারি নূর আলীকে ৪টি মদের বোতল ছাড়া শুধু ৪শ’গ্রাম গাঁজাসহ তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। এসআই তরিকুল বাদি হয়ে ছাতক থানার মামলা নং-২৫, তাং ২৫.০১.২০১৭ইং মূলে দেখা যায়, ২৪জানুয়ারি বেলা দেড়টায় নূর আলীকে আটকের ঘটনাকে সম্পূর্ণ সাজানোভাবে ওইদিন রাত সাড়ে ১১টায় আটকের কথা উল্লেখ করা হয়। বক্তারা দিনের ঘটনাকে মামলায় রাতে উল্লেখ করায় এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। তারা বলেন, এখনে একটি কুচক্রিমহল দীর্ঘদিন থেকে সক্রিয় রয়েছে। ২০১১সালে শাফি আহমদ নামে একজন চরিত্রবান লোককে গাঁজা ও মদসহ সাজানো মামলায় জেল হাজতে প্রেরণ করলে ৪মাস পর তিনি বেকসুর খালাস পান। এরই ধারাবাহিকতায় গোটা এলাকার মধ্যে একজন চরিত্রবান খ্যাত নূর আলীকে মিথ্যা মামলায় জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। তারা এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, মঈনপুর গ্রামের পাশে পুরাচাতল বিলের দখল সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মঈনপুর, রাউলীসহ ৫টি গ্রামে পক্ষে-বিপক্ষে লোকজন রয়েছে। মঈনপুর গ্রামের আব্দুর রব বাদি হয়ে বিল সংক্রান্ত বিয়ে বালক নূর আলীও তার পিতাসহ ২২জন লোককে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সে ৮ম শ্রেনীর পরীক্ষা দিয়ে টাকার অভাবে লেখাপড়া ছেড়ে সিএনজি অটো-রিকশার ড্রাইভিং শিখেছে। মাঝে মধ্যে পিতার পানের দোকানে সময় ব্যয় করে। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারিরা তাকে মিথ্যাও সাজানো মামলায় জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। বক্তারা এমিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে এধরনের অপতৎপরতা থেকে বিরত থাকার জন্যে সকলের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

ছাতকে সামারুন্নেছা হাইস্কুলে ক্রিড়া প্রতিযোগীতা শুরু
ছাতকের ছৈলা-আফজালাবাদ ইউনিয়নের বাংলাবাজার সামারুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে ৩দিন ব্যাপী এ প্রতিযোগীতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত  প্রধান শিক্ষক অরুন কুমারের সভাপতিত্বে ও শিক্ষক আজহারুল ইসলাম এবং আব্দুল লতিফের যৌথ পরিচালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি শিক্ষানুরাগী পরিমল বাবু। বক্তব্য রাখেন, শিক্ষক হেলাল আহমদ, সুহেল আহমদ, সারোয়ার জাহান, আব্দুল তাহিদ, মস্তাক আহমদ, আব্দুর রউফ, সমীরন চন্দ, শিক্ষিকা নমিতা রানী প্রমূখ। এসময় ছমির মিয়া, সাজাদ মিয়া, রফিক মিয়া, সাইফুর আহমদ, খলিল মিয়া, মুহিব হাসান, প্রাক্তন ছাত্র ফজলুল করিম সুমন, রুবেল আহমদ, জুয়েল আহমদ, এখলাছুর রাহমান, সালমান আহমদ, বাবুল মিয়া, সাইফুর মিয়াসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ