মোহাম্মদ সাঈফ, ঢাকা : ঢাকার সরকারি ইডেন কলেজের এক ছাত্রীকে কলেজটির শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী মারধর করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই ছাত্রী নিজেই। মারধরের শিকার ছাত্রীর নাম রুচিরা হক। তিনি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। বুধবার বিকেলে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা হলে এ ঘটনা ঘটে। রুচিরা হক বলেন, ইডেন কলেজের ছাত্রলীগের আচরণ নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় তাঁকে মারধর করা হয়েছে।
এছাড়াও তিনি আরো বলেন, তিনি বৈধভাবে হলে উঠেছিলেন। কিন্তু ছাত্রলীগের নেত্রীরা তাঁর সিটে আরো একটি মেয়েকে ওঠাতে গেলে তিনি এর প্রতিবাদ করেন। তাঁর এক আত্মীয় বিষয়টি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতিকে জানান। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে গতকালই কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ইফফাত জাহান ওরফে ইতি তাঁকে গালিগালাজ করেন।
রুচিরা জানান, এ ঘটনার পর তিনি ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসে লেখেন, ইডেন কলেজের ছাত্রলীগের কিছু নেত্রী কলেজকে বাবার সম্পত্তি মনে করেন। তাঁদের কারণে সাধারণ মেয়েরা আতঙ্কে থাকে। কলেজে যাঁরা রাজনীতি করেন তাঁদের ভদ্র হওয়া উচিত।
এই স্ট্যাটাসের পর কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক তাসলিমা আক্তার বিকেলে তাঁকে হলের নিচে ডেকে নেন বলে জানান রুচিরা। এরপর সেখানে কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক নাসিমা আক্তার ওড়না দিয়ে তাঁর গলা পেঁচিয়ে ফেলে দেন। এরপর ইফফাত জাহান, নার্গিস আক্তারসহ চার-পাঁচজন তাঁকে মারধর করেন। বৃহস্পতিবার তাঁর তৃতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা জানার পরও তাঁরা তাঁকে ছাড়েননি।
এ বিষয়ে ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক তাসলিমা বলেন, ‘আসলে এই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।’ কী ঘটনা ঘটেছে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওই ছাত্রী ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে স্ট্যাটাস দিয়েছিল। আমি তখন একজন যুগ্ম আহ্বায়ককে দিয়ে তাঁকে ডেকে পাঠাই। এরপর বলি তোমাকে কেউ কিছু বললে ছাত্রলীগের আহ্বায়ক হিসেবে আমাকে জানাতে। কিন্তু সেটা না করে স্ট্যাটাস দিয়ে ছাত্রলীগের বদনাম করেছ। এইটুকুই। মারধরের ঘটনা আসলে ঘটেনি।’
ইডেন কলেজের ছাত্রীদের অনেকেরই অভিযোগ, হলগুলোতে ছাত্রী ওঠানোর নামে বিভিন্নজনের কাছ থেকে অর্থ আদায় করেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। ভয়ে কেউ কথা বলার সাহস করেন না। আর কেউ প্রতিবাদ করলে তাঁকে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়।