সিসি নিউজ: দিনাজপুরের কাহারোলে ঐতিহাসিক কান্তজিউ মন্দির ও নয়াবাদ মসজিদ পরিদর্শন করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পাঁচ রাষ্ট্রদূত। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯ টায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে পরিদর্শন করেন ইইউ প্রতিনিধি দল।
প্রতিনিধি দলের মধ্যে রাষ্ট্রদূত পিয়েরি মায়াউডোন, ইতালিয়ান রাষ্ট্রদূত মারিও পালমা, জার্মানি রাষ্ট্রদূত ড. থমাস হেইনরিচ প্রিনচ, নেদারল্যান্ডরে রাষ্ট্রদূত মিসেস লিউনি কুয়েলনেক, ব্রিটিশ হাইকমিশনার মিস এলিসন ব্ল্যাক এবং ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত মাইকেল হেসনিটি উইথার। এছাড়াও ব্রিটিশ হাইকমিশনারের চীফ প্রটোকল অফিসার একে এম ফজলুল হক এসময় উপস্থিত ছিলেন। দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম, কাহারোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা, কাহারোল সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মো. রুহুল আমিন, কাহারোল থানা অফিসার ইনচার্জ মো. মনসুর আলী সরকার।
দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, দিনাজপুরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর নেতৃত্বে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইতালি, জামানীসহ ছয়টি দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাই কমিশনার সদর উপজেলার মাশিমপুরে লিচু বাগান পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তারা লিচুর উপর একটি প্রামান্য চিত্রও দেখেন।
বুধবার (২২ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এমপির নেতৃত্বে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের প্রধান ও রাষ্ট্রদূত মি. পিয়েরি মাউজেন, ইতালির রাষ্ট্রদূত মারিও পালমা, জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. থমাস হেইনরিচ প্রিনজ, নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত মিসেস লিউনি কুয়েলেনেক, ব্রিটিশ হাই কমশিনার মিস এলিসন ব্ল্যাক, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত মি. মাইকেল হেমনিটি উইনথার দিনাজপুর সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের মাসিমপুর গ্রামে কয়েকটি লিচুর বাগান পরিদর্শন করেন। মাসিমপুর থেকেই দিনাজপুরসহ সারা দেশে লিচু চাষ সারা দেশে বিস্তার লাভ করে।
লিচু বাগান পরিদর্শনকালে প্রতিনিধি দলের সাথে ছিলেন দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তা।
লিচু বাগান পরিদর্শনের পূর্বে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা দিনাজপুর সার্কিট হাউজের কনফারেন্স রুমে দিনাজপুরের বিখ্যাত লিচু বেদনাসহ সব ধরণের লিচু উৎপাদনে আয়-ব্যয়, কৃষকের অনুভূতি ও দেশ বিদেশে দিনাজপুরের লিচুর চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তার উপর একটি প্রামান্য চিত্র দেখেন।
নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত পাঁচটি দেশের রাষ্ট্রদূতদের নিয়ে বুধবার নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেড পরিদর্শন করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ইউনিয়নভূক্ত দেশের রাষ্ট্রদুতদের হেড অব ডেলিগেট এইচ.ই. মিস্টার পিয়েরে ম্যায়ডন ছাড়াও প্রতিনিধিদলে ছিলেন জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. থমাস হেনরিক প্রিন্স, নেদারল্যান্ডের রাস্ট্রদূত মিসেস লিওনী সুলেনারে, ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত মিস এলিসন ব্লেক, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত মিকায়েল হেমনিতি উইনথার। এছাড়াও বেপজার ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে উত্তরা ইপিজেডের কনফারেন্স রুমে মতবিনিময় করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ আগত কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতগন।
পরে বেপজার মহাব্যাবস্থাপক (জনসংযোগ ) নাজমা বিনতে আলমগীর বলেন, উত্তরা ইপিজেডকে আরও গতিশীল করতে বিদেশীদের বিনিয়োগে আগ্রহ বাড়ানোর জন্য দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ইপিজেডগুলোকে আধুনিকায়ন করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন। উত্তরা ইপিজেডসহ ৪ লক্ষ ৬১ হাজারের অধীক বাংলাদেশী নাগরিকের কর্মসংস্থান, ডিসেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত ৪.১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ, রপ্তানি হয়েছে ৫৫.৯৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে নীলফামারী উত্তরা ইপিজেডে ১২টি কারখানা চালু রয়েছে, ১০টি কারখানা বাস্তবায়নাধীন। মোট বিনিয়োগ ১৩০.৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, রপ্তানি ৪৫৭.২৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের পণ্য। কর্মসংস্থান হয়েছে ২২ হাজার অধিক শ্রমিকের।