ঢাকা: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ওয়াহিদা সিফাত হত্যা মামলায় তার স্বামী মোহাম্মদ আসিফ প্রিসলিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার ঢাকার তিন নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাঈদ আহমেদ এই রায় ঘোষণা করেন। আত্মহত্যায় সিফাতকে প্ররোচনা দেয়ায় তার স্বামীকে এ সাজা দেন আদালত।
এছাড়া মামলার অপর তিন আসামী আসিফের বাবা অ্যাডভোকেট হোসেন মোহাম্মদ রমজান, মা নাজমুন নাহার নজলী এবং প্রথম ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান চিকিৎসক জোবাইদুর রহমানকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারি আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ রায় ঘোষণার জন্য ২৭ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৯ মার্চ সন্ধ্যায় রাজশাহী মহানগরীর মহিষবাগান এলাকায় অ্যাডভোকেট হোসেন মোহাম্মদ রমজানের বাড়িতে রহস্যজনক মৃত্যু হয় গৃহবধূ ওয়াহিদা সিফাতের। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। প্রথমে সিফাত আত্মহত্যা করেছে বলে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন দাবি করলেও দ্বিতীয় দফার ময়নাতদন্তে হত্যাকাণ্ড প্রমাণিত হয়।
এ ঘটনায় ২ এপ্রিল মহানগরীর রাজপাড়া থানায় সিফাতের চাচা মিজানুর রহমান খন্দকার সিফাতের স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির নাম উল্লেখ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০০০ ধারায় যৌতুকের দাবিতে হত্যা ও সহায়তা করার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।
ন্যায় বিচার পাইনি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ওয়াহিদা সিফাত হত্যা মামলায় রায়ে তার মা ফারজানা ও ভাবী গুলশান নেহা রিতা বলেন, ‘ন্যায়বিচার পাইনি, আমরা উচ্চ আদালতে যাব।’ এ সময় দুজনকে আদালতে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে দেখা যায়। সিফাতের ভাবী চিৎকার করে বলেন, ‘এ রায় পরিকল্পিত রায়। একটি হত্যাকে আত্মহত্যায় পরিণত করা হয়েছে। এ রায়ে আমরা ক্ষুব্ধ।’
সোমবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক সাঈদ আহমেদ এ রায় দেন। এর পর সিফাতের স্বজনরা সাংবাদিকদের সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।