রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার সুখদেব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মোছা. খাদিজা বেগম এবং গর্ভনিং বডির সভাপতি ফারুক আহমেদ এর বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর পক্ষে মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে রোববার দাখিল করা হয়েছে।
অভিযোগে প্রকাশ, বিদ্যানন্দ ইউপির সুখদেব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি শিষব (শিশু) গাছ সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মোছা. খাদিজা বেগম ও সভাপতি ফারুক আহমেদ কোন ধরনের অনুমোদন ছাড়াই গাছটি কর্তন করে। পাশাপাশি অত্র প্রতিষ্ঠানের জায়গায় কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য ঘর উত্তোলন পূর্বক মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে কয়েক বছর ধরে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি ফারুক আহমেদ বর্তমান রাজারহাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবুল হাসেমের জ্যেষ্ঠ পুত্র হওয়ার সুবাদে সে দিন দিন একাধিক অনিয়ম করে আসলেও এলাকাবাসী চোখ বুঝে তা সহ্য করে আসছেন। গাছ কাটার বিষয়ে অত্র এলাকার আলহাজ্ব আজিজুল হকের পুত্র স্কুল শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে সভাপতি ও প্রধান শিক্ষিকা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। অবশেষে গতকাল রোববার রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরসহ বিভিন্ন দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্ত পূর্বক অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আদালতের নির্দেশে থানায় মামলা গ্রহণ
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে প্রতিপক্ষের হামলায় বসতবাড়ী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের ঘটনার ৯দিন পর অবশেষে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে মামলাটি রেকর্ডভূক্ত করেছে রাজারহাট থানা অফিসার ইনচার্জ মো. মোখলেসুর রহমান। এদিকে আদালতে মামলা দায়ের করার পর মামলার প্রধান আসামী আকবর আলী গংরা বাদী পক্ষের লোকজনকে অব্যাহত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে বলে মামলার বাদী সুরুজ্জামাল স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের নিকট অভিযোগ করেছেন।
উল্লেখ্য, উপজেলার চাকিরপশার ইউপির রতিরাম কমলওঝাঁ এলাকার বাসিন্দা সুরুজ্জামাল এর সঙ্গে পার্শ্ববর্তী আকবর আলী গংদের দীর্ঘদিন ধরে জমি-জমা সংক্রান্ত কোন্দল চলে আসছে। এরই সূত্র ধরে গত ২৪-০২-১৭ ইং সকাল ৯টার দিকে আকবর আলী গংরা দেশীয় অস্ত্রে সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সুরুজ্জামালের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে বসতবাড়ীর ঘর সহ দোকানে অগ্নিসংযোগ করে। এতে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতিসহ উভয় পক্ষের ৫ জন আহত হয়। এতে সুরুজ্জামালের পক্ষের ৩ জন গুরুতর আহত হয়ে কুড়িগ্রাম ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন। এ সুযোগে প্রতিপক্ষরা ঘটনার দিন রাতে রাজারহাট থানায় একটি মামলা দায়ের করে। পরে সুরুজ্জামাল থানায় মামলা করতে গেলে থানা অফিসার ইনচার্জ আদালতে মামলা করার পরামর্শ প্রদান করেন। গত ০১-০৩-২০১৭ ইং সুরুজ্জামাল বাদী হয়ে আকবর আলীকে প্রধান আসামী করে ২০ জনের নামে কুড়িগ্রাম বিজ্ঞ আমলী আদালত রাজারহাট-কুড়িগ্রাম এ একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। যাহার পিটিশন নং-১৮। বিজ্ঞ বিচারক পিটিশনটি আমলে নিয়ে রাজারহাট থানার ওসিকে মামলাটি গ্রহণের নির্দেশ দেন। দুপুরে রাজারহাট থানা অফিসার ইনচার্জ মো. মোখলেসুর রহমান মামলাটি গ্রহণ করেন। যাহার মামলা নং-০৩, তাং-০৫-০৩-২০১৭ ইং।