• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪০ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

নীলফামারীতে পঁচে গেছে ২০ একর জমির বোরো চারা

নীলফামারী প্রতিনিধি: আগাছা নাশক ঔষধ প্রয়োগ করে অন্তত ২০ একর জমির বোরো চারা নষ্ট হওয়ার অভিযোগ করেছেন নীলফামারীর সদর উপজেলার চড়াইখোলা ইউনিয়নের কালার বাজার এলাকার কৃষকরা। চারা রোপনের কয়েক দিনের মাথায় এসএএম এগ্রো কেমিক্যাল নামক একটি কোম্পানীর জিলাস আগাছা নাশক ব্যবহার করে চারার বৃদ্ধি বন্ধ হবার পাশাপাশি পঁচে গেছে চারার গোড়াও। জমি তৈরী, বীজ, সার, কীটনাশকসহ বিঘাপ্রতি জমিতে প্রায় চার হাজার টাকা খরচ করেও বোরো চারা নষ্ট হওয়ায় হতাশায় এসব কৃষক।  নীলফামারী সদর উপজেলার চড়াইখোলা ইউনিয়নের কালার বাজার এলাকার টেউরি খাওয়ার দোলা। এই দোলায় ধানের ফলন ভালো হওয়ায় প্রতি বছরের মতো এবারও বোরো ধান রোপন করেছিলেন রহিম উদ্দিন, নজরুল ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম, মোজাফ্ফর, আলম উদ্দিন সরকারসহ অনেক কৃষক। চারা রোপনের পর নিয়মিত ক্ষেতের পরিচর্যা করে আসছেন কৃষকরা। চারা রোপনের সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে আগাছা নিধনের জন্য জিলাস ব্যাবহার করেন তারা। আর এই আগাছা নাশক ব্যবহারের পর থেকেই ঘটেছে বিপত্তি। চড়াইখোলা ইউনিয়নের কালার বাজার এলাকার কৃষক রহিম উদ্দিন বলেন, জমি তৈরী, বীজ, সার, পানিসহ অনেক টাকা খরচ কওে আমরা চারা রোপন করেছি। চারা রোপনের কয়েক দিন পর জিলাস দেয়ার কারণে আমার পুরো ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। একই এলাকার কৃষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমি এবার দুই বিঘা জমিতে বোরো ধান লাগিয়েছি। চারা রোপনের এক সপ্তাহ পর জিলাস দিয়েছিলাম। জিলাস দেয়ার পর গাছ আড় বাড়তেছেনা। চারা গাছগুলো লাল হয়ে গেছে। এমনকি চারার গোড়াতেও পঁচন ধরেছে। রোপা এসব বোরো চারা গলার কাটা হয়েছে কৃষকদের। তাই বাধ্য হয়ে গোড়া পঁচা এসব ধান চারা তুলে ফেলছেন অনেক কৃষক। আর অভিযুক্ত কোম্পানীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা নেয়ার দাবি এসব কৃষকদের। কালার বাজার গ্রামের কৃষক মোজাফ্ফর বলেন, আমি আট বিঘা জমিতে বোরো চারা লাগিয়েছি। এখন পর্যন্ত আমার ৩০ হাজার টাকার বেশী খরচ হয়েছে। আগাছা নাশক জিলাস দিয়ে আমার সব ধান নষ্ট হয়ে গেছে। আমি এখন কি করবো। বাধ্য হয়ে আমি চারা তুলে ফেলতেছি। কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, এবার তিনি সাড়ে আট বিঘা জমিতে বোরো চারা লাগিয়েছেন। আগাছা নাশক জিলাস ব্যবহার করে তার অর্ধেকের বেশী জমির চারা পঁচে গেছে। তাই তিনিও নজরুলের মতো পঁচা চারাগুলো তুলে ফেলছেন। একই এলাকার কৃষক আলম উদ্দিন সরকার বলেন, আমিসহ যারাই এই ঔষধ দিয়েছে তাদেও চারা নষ্ট হয়ে গেছে। এখন আমাদের কি হবে। তাই আমি চাই এই কোস্পানীর বিরুদ্ধে যাতে সরকার ব্যাবস্থা নেয়। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা জানিয়েছেন, তারা সবাই স্থানীয় কালার বাজারের কিটনাশক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন বাবুর কাছ থেকে এই আগাছানাশক কিনে প্রতারিত হয়েছেন। এ বিষয়ে ঐ ব্যবসায়ীর সাথে কথা বললে তিনি কৃষকদের কাছে আগাছা নাশক জিলাস বিক্রির কথা অকপটে স্বীকার করে তিনি বলেন, আমি জানতামনা যে, এই ঔষধের মান এত খারাপ। তিনি আরো বলেন, কৃষকদেও কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর আমি এই ঔষধ বিক্রি বন্ধ রেখেছি। এমনকি বিষয়টি জানানোর জন্য ঐ কোম্পানীর প্রতিনিধির সাথে বারবার যোগাযোগ করে জানালে তিনি আর এলাকায় আসেননি। এ ব্যাপারে নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জিএম ইদ্রিস বলেন, ভেজাল ঔষধ বা অতি মাত্রায় বালাই নাশক প্রয়োগ যে কোন কারনেই এমনটি হতে পারে। আমরা ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করে নমুনা সংগ্রহ করেছি। যদি ভেজাল আগাছা নাশক প্রয়োগের ফলে এমনটি হয়ে থাকে তাহলে ঐ কোম্পানীর বিরুদ্ধে লাইসেন্স বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের ক্ষতিপুরণ আদায় করে দেয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ