চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুটি জঙ্গি আস্তানা ‘নব্য জেএমবি’র মন্তব্য করে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘তাদের লক্ষ্য ছিল বিদেশিদের ওপর হামলা করে মিরসরাই-সীতাকুণ্ড অঞ্চলে বিদেশি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করা।’
বৃহস্পতিবার সীতাকুণ্ডের প্রেমতলার ‘ছায়ানীড়’ নামের বাড়িতে চালানো অপারেশন ‘অ্যাসল্ট সিক্সটিন’ শেষ হওয়ার পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
এসময় তিনি বলেন, আমরা নিশ্চিত এরা নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্র সংগঠন ‘নব্য জেএমবি’। এখানকার দুটিই নব্য জেএমবির আস্তানা।
চট্টগ্রামে মীরসরাই ও সীতাকুণ্ডে পরপর জঙ্গিদের কয়েকটি আস্তানা শনাক্তের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিআইজি বলেন, ‘সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ বাধাগ্রস্ত করার জন্যই জঙ্গিরা তৎপর হয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি। তাদের লক্ষ্য ছিল মিরসরাই-সীতাকুণ্ডে অঞ্চলে বিদেশিদের ওপর হামলা করে বিদেশি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করা। তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বড় ধরনের নাশকতার লক্ষ্যে প্রচুর গ্রেনেড ও বিস্ফোরক মজুদ করেছিল আস্তানায়।’
বুধবার দুপুরে সীতাকুণ্ড পৌরসভার লামারবাজার আমিরাবাদের সাধন কুটির থেকে শিশুসহ গ্রেফতার জঙ্গি দম্পতিকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তারা এখনো মুখ খোলেনি। তাদের অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
উল্লেখ্য, ‘অপারেশন অ্যাসল্ট-১৬’ নামের ওই অভিযানের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার ভোর সোয়া ৬টা থেকে সোয়া এক ঘণ্টার অভিযান চালানো হয়। ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সোয়াত টিমের নেতৃত্বে অভিযানে অংশ নেন চট্টগ্রাম সোয়াত, র্যাব ও পুলিশ সদস্যরা। অভিযান শুরুর পর সোয়াত সদস্যদের লক্ষ্য করে আত্মঘাতী হামলা চালায় জঙ্গিরা। অভিযানে এক নারী ও তিন পুরুষ জঙ্গি নিহত হয়েছে। নিহত জঙ্গিদের সবাই নব্য জেএমবির সদস্য।