• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৭ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

ডিমলায় প্রভাষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীর যৌন হয়রানির অভিযোগ

নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার গহরপুর টেকনিক্যাল এন্ড বিএমআই ইন্সটিটিউটের এর প্রাক্তন এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে ঐ ছাত্রীর বাড়ীতে আটক করা হয় প্রভাষক আহসান হাবিব। অঅটককৃত আহসান হাবীব পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের ছাতনাই ফুলছড়ি গ্রামের আমজাদ হোসেনের পুত্র। গত ২৭ মার্চ রাতে প্রভাষক হাবীব তার প্রাক্তন ছাত্রীর বাড়ীতে গিয়ে যৌন হয়রানীর চেষ্টা কালে স্থানীয়রা তাকে আটক করে রাখেন। বিষয়টি তাৎক্ষনিকভাবে স্থানীয়ভাবে শালিস মীমাংসায় না হওয়ায় আটককৃত প্রভাষকের স্ত্রী থানায় স্বামী উদ্ধারের অভিযোগ দায়ের করেন। এরপরেই ডিমলা থানা পুলিশের এসআই ফিরোজের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল গেলে পুলিশের কাছে ঐ ছাত্রী যৌন হয়রানীর অভিযোগ এনে থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেন। দায়েরকৃত অভিযোগে যায়, গহরপুর বিএমআই স্কুল এন্ড কলেজে ২০১২ সালে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে তা সন্তোষজনক ভাবে পাশ করে ঐ ছাত্রী। পরে একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ২০১৪ সালে এই্চএসসি পরীক্ষা দিয়ে কৃতকার্য হয় সে। এরই মধ্যে ঐ ছাত্রীকে প্রভাষক আহসান হাবিব বিভিন্ন ক্লাসের ছাত্র-ছাত্রীদের খাতা কাটতে তার বাড়ীতে ডেকে নিয়ে যায় অভিযোগকারী ছাত্রীকে। এভাবে দীর্ঘদিন খাতা কাটতে নিয়ে গিয়ে এক সময় প্রেমের প্রস্তাব দেয় ওই প্রভাষক। এক পর্যায়ে ওই ছাত্রী প্রভাষকের নানা প্রলোভনে ভালোবাসার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এদিকে ঐ ছাত্রী একটি নার্সিং ইন্সটিটিট এ ভর্তি হয়ে বর্তমানে সে তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। নার্সিং এ পড়াশুনার পাশাপাশি প্রভাষক আহসান হাবিব ফুসঁলিয়ে একজন মৌলভী দিয়ে মেয়েটির সাথে একটি বিয়ের নাটক করে বিয়ে করে ফেলেন। এরপর থেকে ঐ ছাত্রীকে নিয়ে একটি জেলা শহরের নাসির্ং ইন্সটিটিউ এর পাশেই এক বান্ধবীর বাড়ীতে একটি রুম ভাড়া করে প্রায় ৮ মাস সংসার করে। এভাবে ঐ ছাত্রীকে নিয়ে প্রভাষক তার বিভিন্ন বন্ধুদের বাড়ীতে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে রাত্রী যাপন করেন। এর মধ্যে ছাত্রীটি সামাজিক ভাবে তার বিয়ের স্বীকৃতি পেতে চাপ দিতে থাকে প্রভাষক আহসান হাবিবকে। কিন্তু প্রভাষক ঐ ছাত্রীটিকে আর পাত্তা না দিয়ে সটকে পরেন। এদিকে গত ১৫ এপ্রিল/১৬ তারিখে প্রতারক প্রভাষক রাজশাহী থেকে একটি মেয়েকে আবারও বিয়ে করে তার গ্রামের বাড়ীতে নিয়ে আসেন। এ ঘটনা জানতে পেরে ঐ ছাত্রী নার্সিং ইন্সটিটিউট থেকে বাড়ীতে এসে উপজেলা সদরে থাকা প্রভাষকের বড় ভাই ও আত্বীয় স্বজনকে তাদের সম্পর্কের কথা বলেন। কিন্তু কিছুতেই আর ধরা দেয়নি প্রতারক প্রভাষক আহসান হাবিব। এরপর গহরপুর বিএমআই স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ বরাবরে ঐ ছাত্রী লিখিত অভিযোগ করলে তাতেও কোন কাজ না। এরপর স্থানীয় চেয়ারম্যানকে বিচার দিয়েও পায়নি বিচার মেয়েটি। বাবা হারা মেয়েটি বিচার না পেয়ে ঘটনার প্রায় ১ বছর পর গত ২৪ মার্চ মেয়েটি নাসিং ইন্সটিটিউ থেকে বাড়ীতে আসে তিন দিনের ছুটিতে। মেয়েটিকে বাড়ীতে আসতে দেখে আবারও লম্পট প্রভাষকের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে ঐ ছাত্রীর উপর। ২৭ মার্চ রাত অনুমান ৮ টার দিকে বিদ্যুৎ নেই, বাড়ী ফাঁকা পেয়ে সুযোগ বুঝে আবারও মেয়েটি ফুঁসলিয়ে যৌন হয়রানীর চেষ্টা কালে মেয়েটি চিৎকার করলে ছুটে আসে মা, চাচী ও এলাকাবাসীর অনেকেই। হাতে নাতে ধরা পরে হাবীব। এ ঘটনায় স্থানীয় মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। মীমাংসা না হওয়ায় প্রতারক প্রভাষকের স্ত্রী তাকে উদ্ধারে থানায় অভিযোগ দায়ের করে। কিন্তু থানা পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে ঐ ছাত্রীর মুখে এসব কথা শুনে লম্পট প্রভাষককে গ্রেফতার করে নিয়ে আসে থানায়। এ ঘটনায় প্রভাষক আহসান হাবিবের আত্বীয় স্বজনেরা তাকে থানা থেকে ছাড়াতে মরিয়া হয়ে ওঠে। শুরু করে দৌড়ঝাঁপ। ঘটনার পরের দিন সকালে স্থানীয় চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা দেন মোহরে বিয়ে ও পরক্ষনেই তালাক দিয়ে স্থানীয় ভাবে মীমাংসা করা হয়। মীমাংসা পত্র পেয়ে থানা পুলিশ রাতভর থানায় হাজতে থাকা প্রতারক প্রভাষককে আহসান হাবিবকে ছেড়ে দেন। এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খানা জানান, মেয়েটি এতিম তাই তার দিকে চেয়ে স্থানীয় ভাবে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলা হয়েছে। এ ব্যাপারে ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আপোষ মীমাংসা হওয়ায় অভিযুক্ত প্রভাষককে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ