মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর: দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নাম পরিবর্তন করে ‘এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল’ করা হয়েছে। এখন থেকে ‘এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল’ নামে পরিচিত হবে।
স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের স্মারকমূলে সরকার দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালকে এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নামকরণ করেন।
গত সোমবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব নূরুল আমীন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনটি দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এসে পৌঁছে। দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের পরিচালক ডা. সারাওয়ার জাহান এ তথ্য নিশ্চিত করা করেছেন। এছাড়া ই-মেইলে প্রজ্ঞাপনের কপি সংবাদপত্রে পাঠানো প্রেরণ করা হয়েছে।
২০১৬ সালের ৭ অক্টোবর দিনাজপুর ইনস্টিটিউট মাঠে মরহুম এম আব্দুর রহিম স্মরনে অনুষ্ঠিত এক স্মরন সভায় জেলা বিএমএ’র সাধারণ সম্পাদক ও দিনাজপুর পরমানু চিকিৎসা কেন্দ্রের পরিচালক ডা. বিকে বোস দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নাম পরিবর্তন করে ‘এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল’ করার দাবী উত্থাপন করলে সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তা গৃহীত হয়। পরে প্রস্তাব আকারে প্রধানমন্ত্রী বরাবর প্রেরণ করা হলে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট বিভাগে প্রেরণ করা হয় এবং নতুন নামকরণ করা হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে দিনাজপুর সদর আসন থেকে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী, সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য এম আব্দুর রহিম একজন সৎ ও আদর্শবান রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। এম আব্দুর রহিম ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে বৃহত্তর দিনাজপুর অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন। ১৯৭১ সালে ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হলে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য সারা দেশকে ১১টি বেসামরিক জোনে ভাগ করা হয়। মুজিবনগর সরকার এম আব্দুর রহিমকে পশ্চিম জোন-১ এর জোনাল চেয়ারম্যান নিযুক্ত করেন।
স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বৃহত্তর দিনাজপুর পুনর্গঠনে তিনি আত্মনিয়োগ করেন এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এম আব্দুর রহিম দিনাজপুর-৩ আসন হতে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিমের পিতা।