• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৭ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

চীনের মধ্যস্থতার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান মিয়ানমারের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে চীনের মধ্যস্থতার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমার। তবে বাংলাদেশের সাথে সহযোগিতার ভিত্তিতে ইস্যুটি নিরসনে চেষ্টা করবে বলে জানিয়েছে প্রতিবেশী দেশটি।

ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) ক্ষমতা গ্রহণের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মিয়ানমার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের মুখপাত্র উ ঝাও তাই গত শুক্রবার নেপিডোতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, চীনের উদ্বেগের বিষয়টি সরকার বোঝে। রাখাইন রাজ্যে চীনের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রকল্প রয়েছে। তবে সঙ্ঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোর সঙ্কট মোকাবেলায় সরকার নিজস্ব পথ অবলম্বন করবে। বাংলাদেশের সাথে সহযোগিতার ভিত্তিতে রোহিঙ্গা ইস্যু নিরসনে মিয়ানমার প্রচেষ্টা চালাবে বলে জানান মুখপাত্র।

চীনের বিশেষ দূত সান গোসিয়াং গত সপ্তাহে ঢাকা সফরে এসে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে ভূমিকা রাখতে বেইজিং প্রস্তুত বলে জানান। পররাষ্ট্র্র সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলাপকালে বিশেষ দূতকে জাননো হয়, বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয়ভাবে মিয়ানমারের সাথে ইস্যুটি সমাধানে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু প্রতিবেশী দেশটি থেকে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে চীনের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ সরকার। চীনের বিশেষ দূত তাতে ইতিবাচক সাড়া দেন।

মিয়ানমারের ওপর চীনের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। অং সান সু চির দল এনএলডি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা নেয়ার আগে বহু বছর ধরে চীনের ওপর নির্ভরশীল ছিল মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকারগুলো। এ সময় মিয়ানমারের ওপর পশ্চিমা দেশগুলো অবরোধ আরোপ করলে দেশটিকে সহায়তা দিয়ে আসে চীন। এমনকি সম্প্রতি রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ একটি নিন্দা প্রস্তাব আনার উদ্যোগ নিলেও চীন তাতে আপত্তি জানায়। সু চি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকলেও তার সরকার এখনো সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রিত।

গত বছরের অক্টোবরে মিয়ানমারের সীমান্ত চৌকিতে সন্ত্রাসী হামলায় দেশটির বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) ৯ সদস্য নিহত হয়। এরপর মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় ব্যাপক অভিযান চালায়। অভিযানে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের নির্বিচারে হত্যা, নারীদের গণধর্ষণ এবং তাদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দলে দলে রোহিঙ্গারা পালিয়ে সীমান্ত সংলগ্ন বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলায় আশ্রয় নেন। রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনকে ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ হিসেবে চিহ্নিত করে মানবাধিকারবিষয়ক জাতিসঙ্ঘ হাইকমিশনার আনুষ্ঠানিক তদন্তের ঘোষণা দেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এতে সমর্থন দিয়েছে।

মিয়ানমারের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে সঙ্ঘাত নিরসনেও চীন সহায়তা দিতে চায়। এই সঙ্ঘাত মাঝে-মধ্যেই চীন সীমান্তের অভ্যন্তরে প্রভাব ফেলে। সঙ্ঘাত থেকে বাঁচতে মিয়ানমারের অনেক উদ্বাস্তু চীনে আশ্রয় নিয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ