• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৯ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

বিদায়ের আগের দিনে বেরোবি ভিসির কপালে মামলার খরগ

বিশেষ প্রতিনিধি, রংপুর: শুক্রবার শেষ হচ্ছে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় ভিসি ড. একেএম নুর উন নবীর মেয়াদ। তার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের দিন শিক্ষকদের পদোন্নতি আটকে রাখার অভিযোগ এনে বৃহস্পতিবার রংপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তাবিউর রহমান।
আগের দিন বুধবার তার বিরুদ্ধে ইউজিসির তদন্ত প্রতিবেদন চাউর হয়েছে ক্যাম্পাসসহ মিডিয়ার বদৌলতে দেশে-বিদেশে। তবুও বিভিন্ন সূত্রে আওয়াজ উঠেছে তিনিই থাকছেন ভিসি। তার তরফে চলছে ব্যাপক লবিং। তবে ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের প্রোভিসি মিডিয়ার পরিচিত মুখ ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহসহ আরো জনা সাতেক আছেন ভিসি হওয়ার তদবির পাইপে বলেও জানিয়েছে সূত্র।
রংপুর আদালতের আইনজীবী মুনীর চৌধুরী জানান, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক তাবিউর রহমান বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ তারিক হোসেনের আদালতে একটি মামলা করেছেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ভিসি ড. একেএম নুর-উন-নবী শিক্ষকদের মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে পদোন্নতি আটকে রেখেছেন।
এই আইনজীবী জানান, মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে ভিসির স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত অনশন মঞ্চে ২০১৫ সালের ৩ মার্চ ভিসির আর্শিবাদপুষ্টরা হামলা চালিয়ে শিক্ষক কর্মচারীদের লাঞ্ছিত করে এবং ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
এ ঘটনায় পুলিশ একটি অজ্ঞাত মামলা দায়ের করে। যাতে ভিসি শিক্ষকদের অনৈতিকভাবে জড়িয়ে এবং সেই মামলার অজুহাতে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের পদোন্নতি আটকে রেখেছেন। এতে শিক্ষকদের মানহানি হয়েছে। মামলার আরজিতে মানহানির যথাযথ বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে ১১ মে শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
মামলার বাদি শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তাবিউর রহমান জানান, শিক্ষকদের ন্যয্য পদোন্নতিকে আটকে রাখা হয়েছে। তাদেরকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। আর সব কিছুই করেছেন ভিসি। এই মামলা শিক্ষকদের অধিকার আদায়ের মামলা। আশা করি আমরা ন্যায় বিচার পাবো। আমরা ভিসির বিরুদ্ধে ইউজিসির তদন্তে রিপোর্টে উঠে আসা প্রমাণিত অভিযোগ সমুহের ব্যপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।
মেয়াদ শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে চাকরির দাবিতে বুধবার সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ ছিলেন ভিসি। তাও আবার ছাত্রলীগের দ্বারা। ভিসির কার্যালয়ের সামনে ছাত্রলীগের যেসব নেতাকর্মীদের দেখা গেছে তার মধ্যে ক্যাম্পাস ছাড়াও কারমাইকেল কলেজের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদেরও দেখা গেছে। গভীর রাতে পুলিশ পাহারায় দিনি কার্যালয় ছেড়ে বাংলোতে যান।
এদিকে এই অবরুদ্ধ বিষয়েও হয়েছে নাটক। গভীর রাতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক দেলোয়ার শাহজাদা স্বাক্ষরিত এক পত্রে ভিসিকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগে এবং শৃংখলা ভঙ্গের দায়ে শহীদ মুখতার এলাহী হল ছাত্রলীগের সভাপতি ইমতিয়াজ বসুনিয়া, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন এবং বঙ্গবন্ধু হলের সাধারণ সম্পাদক নিতীশ চন্দ্র বর্মনকে বহিষ্কার করেন।
যদিও এই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি তুষার কিবরিয়া বলেন, ভিসির কার্যালয় ঘেরাও এর ছাত্রলীগের কোনো সম্পর্ক নেই। সেখানে থাকা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার দফতার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৫ মে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫ বছরের জন্য ভিসির দ্বায়িত্ব পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. একে এম নুর উন নবী। তিনি এসে একে একে আগের ইউজিসির অনুমোদনবিহীন এবং দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগকৃত জন কর্মকর্তা ও জন কর্মচারীকে বৈধ করেন। পদোন্নতি নিয়ে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের সাথে শুরু হয় তার দুরত্ব।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি ড. আর এম হাফিজুর রহমান ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক তাবিউর রহমান ২০১৬ সালের ৬ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বিশ্ববিদ্যালয়ে সফরে আসলে ভিসির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। এ নিয়ে ২ আগস্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ইউজিসি।
গত বছর ২৬ ডিসেম্বর কমিটির আহবায়ক ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক আক্তার হোসেন, সদস্য সচিব ফকরুল ইসলাম ও সদস্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. মুহম্মদ মিজানুর রহমান সরেজমিনে বিষয়গুলো ক্যাম্পাসে এসে তদন্ত করে যান।
গত ২২ এপ্রিল ওই তদন্ত কমিটি তাদের তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করেন। এতে ১৬ টি অভিযোগ প্রমাণিত ছাড়াও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের সুপারিশ করা হয়। বুধবার দিনভর ক্যাম্পাসের আনাচে-কানাচে শ্রেণি কক্ষ, শিক্ষক রুম, আড্ডায়, আড়ালে আবডালে ১০ পৃষ্ঠার ওই তদন্ত প্রতিবেদনের কপি হাতে হাতে পৌছে যায়।
প্রতিবেদনের মতামত ও সুপারিশে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান উদ্দেশ্য শিক্ষা ও গবেষণা কাজ সুষ্ঠভাবে পরিচালনা করতে উপাচার্য সফল হননি, উপাচার্যর অব্যাহত অনুপস্থিতি শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ রক্ষার্থে তিনি সচেষ্ট ছিলেন না, ক্ষমতার কেন্দ্রীয়করণ করে সকল নথিপত্র নিজের কাছে রাখা, একাই তিনটি গাড়ি ব্যবহার করে গাড়ি বিলাসীতার পরিচয় এবং বিভিন্ন ভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ ভিসি প্রফেসর ড. একেএম নূর-উন-নবী নিয়েছেন বলেও মতামত দেয়া হয়।
যদিও এই তদন্ত রিপোর্টটিকে শুধুই অভিযোগ বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষক সমিতির বর্তমান সভাপতি ড. তুহিন ওয়াদুদ। তিনি জানান, এই তদন্ত রিপোর্টটি দেখেছি। যেহেতু স্মারক-স্বাক্ষর বিহীন তাই তদন্ত প্রতিবেদনটি বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। অন্যদিকে তদন্ত দল বিশ্ববিদ্যালয় তদন্ত করতে এসে অভিযোগকারীদের কাছেই অভিযোগের ব্যাখ্যা নিয়েছেন। আমার জানামতে সর্বসাধারণের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা হয় নি।  যেহেতু সর্ব সাধারণের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা হয় নি। ফলে এটি অভিযোগকারীদের অভিযোগই থেকে যাবে। এটাকে প্রকৃত তদন্ত বলা যাবে না।
অন্যদিকে ভিসি ড. প্রফেসর একেএম নুর উন নবী তার বিরুদ্ধে এসব আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, আমার বিরুদ্ধে করা এসব অভিযোগ অসত্য মিথা বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আমি অভিযোগকারীদের অবৈধ ও অনৈতিক সুবিধা পুরণ করিনি বলেই এসব করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বায়িত্ব দিয়েছিলেন। আমি যথাযথভাবে তার নির্দেশ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করেছি। আমি জনের বেতন-ভাতার ব্যবস্থা করেছি। ক্যাম্পাসকে মধ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা এনেছি। তিনি যদি মনে করেন এখানে আমার দরকার তাহলে তিনি আমাকে আবারও দায়িত্ব দিলেও দিতে পারেন।
সূত্র জানায়, বর্তমান  ভিসি ড. একেএম নুর উন নবী শক্তহাতে তদবির চালাচ্ছেন যাতে তিনি আবারো বহাল হতে পারেন। তবে অন্য বেশ কয়েকজনও জোড় লবিং চালাচ্ছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হওয়ার জন্য।
বিভিন্ন সূত্রে যাদের নাম পাওয়া গেছে তারা হলেন, বাংলাদেশ ইউনিভার্সি অব প্রফেসশনালসের প্রোভিসি ড. নাজমুল হক কলিমুল্লাহ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. নজরুল ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর একেএম জাকারিয়া, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রফেসর পৃথিলা নাজনিন এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর জাকির হোসেন।
তবে বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য মতে, বর্তমান ভিসি আবার ভিসি হওয়ার দৌড়ে আছেন এগিয়ে। দিনাজপুরের অধিবাসী বর্তমান ভিসির সাথে সুধা সদনের একটি স্পেশাল কানেকশন আছে বলে জানা গেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ