ঢাকা : বনানীর ‘দ্য রেইন ট্রি’ হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় হোটেলটিতে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম।
নজরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে আমাদের প্রতীয়মান হয়েছে ‘দ্য রেইন ট্রি’ হোটেলে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে। যে কক্ষে ধর্ষণের ঘটনার অভিযোগ উঠেছে সেই কক্ষ দুটি আজ বন্ধ ছিল তবে আমরা বাইরে থেকে দেখেছি। হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। আমরা আমাদের প্রতিবেদনে সব কিছু উল্লেখ করব।
আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে হোটেলটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন নজরুল ইসলাম।
পরিদর্শন শেষে নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘হোটেলের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মীদের সঙ্গে আমার কথা বলেছি। ওই রুমে যারা খাবার পরিবেশন করেছিল, তাদের সঙ্গেও আমরা কথা বলেছি। সব মিলিয়ে ৮-৯ জনের সঙ্গে কথা হয়েছে আমাদের। আমরা জানতে পেরেছি, জন্মদিনের কথা বলে দু’জন হোটেলে হোটেলের রুম বুকিং দিয়েছিলেন। গেস্টসহ তারা কখন এসেছেন, কতক্ষণ ছিলেন- এসব তথ্য আমরা জানতে পেরেছি। হোটেল কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা অস্বাভাবিক কিছু দেখেনি।’
হোটেলের যে রুমগুলোতে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে, সেই রুমগুলোতে প্রবেশ করতে পেরেছেন কিনা, সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম বলেন, রুমগুলো পুলিশ ‘ক্লোজড’ করে দিয়েছে। তাই আমরা রুমের ভেতরে ঢুকতে পারিনি। আমরা বাইরে থেকে দেখেছি।’
হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখেছি। তবে হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ২৮ দিনের ফুটেজ সংরক্ষণ করে। তাই ওইদিনের ফুটেজ তাদের কাছে নেই। কর্তৃপক্ষ বলছে, হোটেলটি মাত্র চালু হয়েছে। তাদের সব সিস্টেম এখনো কার্যকর হয়নি। আর আমাদের মনে হয়েছে, হোটেল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি হয়েছে।’
ধর্ষণের শিকার দুই তরুণীর সঙ্গে এখনো কথা হয়নি জানিয়ে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘তাদের সঙ্গে এখনো আমাদের কথা হয়নি। তবে তাদের সঙ্গেও আমরা কথা বলব। সবকিছু জানার পরই আমরা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেব। কথা হয়নি। বলব। সব জানার পর প্রতিবেদন দেব। নির্ধারিত ১৫ দিনের মধ্যেই আমরা প্রতিবেদন জমা দেবো। তবে প্রাথমিকভাবে আমাদের মনে হয়েছে, এই ঘটনায় মানবাধিকা লঙ্ঘিত হয়েছে।’
ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ এনে গত ৬ মে বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন দুই তরুণী। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২৮ মার্চ পূর্বপরিচিত সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ ওই দুই তরুণীকে জন্মদিনের দাওয়াত দেয়। এরপর তাদের বনানীর ‘কে’ ব্লকের ২৭ নম্বর সড়কের ৪৯ নম্বরে রেইনট্রি নামের হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সেখানে দুই তরুণীকে হোটেলের একটি কক্ষে আটকে রেখে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ধর্ষণ করে সাফাত ও নাঈম। এ ঘটনা সাফাতের গাড়িচালক বিল্লালকে দিয়ে ভিডিও করানো হয় বলেও উল্লেখ করা হয় এজাহারে। ধর্ষণ মামলার আসামিরা হলো- সাফাত আহমদ, নাঈম আশরাফ, সাদমান সাকিফ, সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী আবুল কালাম আজাদ।