আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সন্ত্রাসে মদদ দেওয়ার অভিযোগ এনে কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে সৌদি আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইয়েমেন, মিসর, লিবিয়া ও মালদ্বীপ। বিমান, জল ও স্থলপথে কাতারের সঙ্গে সব যোগাযোগও বন্ধ করে দিয়েছে সৌদি আরব, বাহরাইন, মিসর ও আরব আমিরাত। ওই দেশগুলোর দাবি, আল-কায়েদা ও আইএসের মতো জঙ্গি গোষ্ঠীদের মদদ দেয় কাতার। ইয়েমেনে হুথি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছে কাতারকে। অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে কাতার।
বেশ কিছুদিন ধরেই টানাপড়েন চলছিল কাতার এবং সৌদি আরবসহ অন্য আরব দেশগুলোর। কূটনীতিকদের মতে সিরিয়া, লেবানন, ইয়েমেনে ইরানের প্রভাব বাড়ায় উদ্বিগ্ন সৌদি আরব। ইয়েমেনে শিয়া হুথি জঙ্গিদেরও সমর্থন করছে ইরান। সম্প্রতি সৌদি আরবসহ সুন্নি আরব দেশগুলোকে নিয়ে ইরান ও জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে জোট গড়তে উদ্যোগী হয়েছে আমেরিকা। কিন্তু সুন্নি দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র কাতারের সরকার ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক সহজ করার পথ খুঁজছিল।
সম্প্রতি কাতারের সরকারি সংবাদ সংস্থায় সে দেশের আমির শেখ তামিম আল হামাদ আল থানির বিবৃতি প্রকাশিত হয়। তাতে ইরানকে ‘ইসলামি শক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন শেখ তামিম। তেহরানের প্রতি মার্কিন নীতির সমালোচনাও করেছেন। পরে অবশ্য কাতার দাবি করে, আমির ওই বিবৃতি দেননি। তাদের সরকারি সংবাদ সংস্থার ওয়েবসাইট হ্যাক করা হয়েছে। কিন্তু সে কথা মানতে বিশেষ রাজি হয়নি অন্য আরব দেশগুলি। ফলে কাতারের সঙ্গে ওই দেশগুলির দূরত্ব বাড়ছিল। আল-জাজিরাসহ কাতার থেকে সম্প্রচার হওয়া অনেকগুলো চ্যানেল নিষিদ্ধ করে দেয় অন্য আরব দেশগুলোর সরকার।
কূটনীতিকদের মতে, সম্প্রতি সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে গিয়ে সুন্নি আরব দেশগুলোর জোট গড়ার প্রক্রিয়ায় গতি আনতে চেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার পরেই সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন আরব দেশগুলো কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে কড়া বার্তা দিতে চেয়েছে।
সব কাতারি কূটনীতিক ও নাগরিককে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সৌদি আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত। ওই দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র সৌদি আরবের সঙ্গে কাতারের সীমান্ত রয়েছে। সেই সীমান্ত বন্ধ করে দেবে রিয়াদ। কাতারগামী সব ফ্লাইট বন্ধ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিমান সংস্থা এমিরেটস ও এতিহাদ। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন জলপথেও কাতারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আরব দেশগুলোর মতভেদ দূর করার জন্য ওয়াশিংটন সাহায্য করতে চায় বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব রেক্স টিলারসন। কূটনীতিকদের মতে, সম্পর্ক ছিন্ন করে সৌদি আরবসহ বিভিন্ন সুন্নি আরব দেশের কাতারকে কড়া বার্তা দেওয়ার পেছনে আমেরিকার পরোক্ষ মদদ থাকতে পারে। কারণ, পশ্চিম এশিয়ায় ইরানপন্থি কোনো সুরকে বরদাশত করতে রাজি নয় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। কিন্তু কাতারও আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশ। সেখানে বড় মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে। ওই ঘাঁটি থেকে আইএসের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে আমেরিকা। তাই সে দেশটি আরব জগতে একেবারে একঘরে হয়ে পড়ুক, তা-ও চায় না ওয়াশিংটন। সে ক্ষেত্রে ট্রাম্পের সুন্নি আরব জোট গড়ার স্বপ্নও ধাক্কা খাবে।
তেল আমদানির ক্ষেত্রে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ উৎস আরব দেশগুলো। সংকটের পরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে।