।। তুষার আবদুল্লাহ ।।
এবারের ঈদে ভোটারদের ধকল সইবার শক্তি রাখতে হবে। ঈদগাহ’তে মুসল্লীদের বুকের উপর ধকল যাবে বেশ বড় ধরনের। কারণ, তাদের বুকের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে তৈরি তাদের ‘তথাকথিত’ সেবকগণ।
ঈদগাহতে এক সঙ্গে এতো ‘রাজা’ পেয়ে তাদের আর্শীবাদ নেবার সুযোগ হাতছাড়া করবেন না সেবকেরা। নারী-পুরুষ সকল ভোটারদের সাধ্যমতো সুন্দর এবং টেকসই পাদুকা কেনা উচিত। কারণ সেবকেরা কদমবুচি নিতে পায়ের উপরও ঝাঁপিয়ে পড়তে পারেন।
প্রবীণ ভোটারদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি রয়েছে। সেবকেরা আর্শিবাদ নিতে নতুন জুতোর সুবাস পাক, ঈদ আনন্দে এতোটুকু প্রত্যাশা করা যেতেই পারে। লুঙ্গি, পায়জামা, শাড়ির দিকেও যত্নবান হলে ভাল। তবে যাদের সামর্থ্য নেই নতুন জুতো, সালোয়ার, শাড়ি কেনার। ঈদের দিনও মলিন ও ছেঁড়া পোশাক পাল্টাতে পারবেন না, তাদের মন খারাপ করার নেই।
কারণ বিশেষ ছাড়ে এবার তাদের জন্যও আশির্বাদ বরাদ্দ থাকছে। কারণ ভোট আসছে। ঈদের চেয়েও ভবিষ্যৎ প্রার্থীদের জন্য ভোটের বাজার এখন জমজমাট।
ভোটের তীব্র হাওয়া বইতে শুরু করার আগেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা জনসংযোগের ধামাকা সুযোগ পেয়ে গেলেন। কড়ায় গণ্ডায় সেই সুযোগ তারা কাজে লাগাতে চাইবেন। প্রার্থী হবার মনোবাঞ্ছনা যাদের, তারা নিজ নিজ এলাকায় ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। রমজানের শুরু থেকেই তারা তৎপর।
মুশকিল হলো সকল রাজনৈতিক দলেরই স্থানীয় ভাবে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী থাকে। তারা সকলেই দোয়া-আর্শিবাদ মাগতে ভোটারের দ্বারে উপস্থিত হবেন। ভোটারদের হাসিমুখে সেই আর্শিবাদের তাৎক্ষনিক সাড়াও দিতে হবে। ভোটাররা জানেন তাদের যন্ত্রণা দুইদিকেই। ভোটের আগে যন্ত্রণা পোহাতে হয় উটকো আর্শিবাদে।
আর ভোটের পর আপদে বিপদে ‘তাহাদের’ দরজায় ধর্ণা দেয়ার যন্ত্রণার দুর্ভোগতো আছেই। যে বুকের ছাতিমা এখন সহজলভ্য। নিজেই ছুটে আসতে চায়। সেই ছাতিমার ছায়াই ভোটের পরে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তবুও দয়ালু ভোটাররা সেই আতঙ্কের কথা ভুলে, দু্ইহাত বাড়িয়ে কাঙাল ছাতিমাকে নিজের দিকে টেনে নিয়ে আসে। এবারের ঈদে সেই ‘ছাতিমা’র বাম্পার বাণিজ্য।
ভোটাররা মেঠোপথে হাঁটবেন। জলে ভেসে ভেসে যাবেন ভোটারের কাছে। গরিবের বাড়িতে পড়বে হাতির চরণ। এটাই রেওয়াজ। এই রেওয়াজও উৎসব হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছে। এবারও হবে।
তবে দূরত্ব ক্রমশ বাড়ছে ভোটারের সঙ্গে রাজনীতিবিদদের। ভোটের কেনাবেচা আগেও কড়কড়ে মুদ্রায় হতো।
তবুও রাজনীতিবিদরা জনমুখি ছিলেন। এখন রাজনীতিও করপোরেট ফর্মুলায় চলে। তাই জনগণকে তারা নিজের কোম্পানির এক্সিকিউটিভ ভাবতে শুরু করেছেন। টাকাতেই দাবি-দাওয়া শেষ। এখন তাই ভোটাররাও নগদ পাওয়াতেই খুশি। সেখানেই লেনদেন চুকিয়ে ফেলতে চান।
নতুন যে রেওয়াজের দিকে যাচ্ছে রাজনীতিবিদ ও ভোটারের সম্পর্ক। এই সম্পর্কটি দেশের রাজনীতির জন্য মঙ্গল সময় বয়ে আনবে না। রাজনীতির অনুশীলনের স্বপক্ষে নয় এই রেওয়াজটি। তার প্রমাণ রাজনীতির মাঠে-সংসদে দেখাও যাচ্ছে।
এবারের ভোটের বাজারে পুরনো মৃদু মন্দ হাওয়া যদি বইতে থাকে মন্দ কি। ভোটার এবং প্রার্থীর সম্পর্ক ভোট উৎসবের পরেও অটুট রাখতেও হবে।
প্রার্থী যদি জানেন একদিনের জন্য হলেও তাকে আবারো ফিরতে হবে ভোটারের ভালবাসার বুকে, তবে ক্ষমতা উপভোগে এক চিলতে হলেও সংযমী হবেন তারা। এবারের ঈদ উৎসবের ভোটবাজারে চেনা সেই মৃদু-মন্দ হাওয়া বয়ে যাক।
তুষার আবদুল্লাহ : বার্তা প্রধান, সময় টিভি।