আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভূমধ্যসাগরের লিবিয়া উপকূল থেকে ২৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির পূর্বাংশের শহরতলী এলাকার উপকূল থেকে লাশগুলো উদ্ধার করে রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকরা।
শহরতলীর তাজৌরা এলাকার বাসিন্দারা জানান, সোমবার থেকে লাশগুলো উপকূলে ভেসে আসতে শুরু করে। কয়েকটি লাশের কিছু অংশ নেড়ি কুকুরে খেয়ে ফেলেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কোস্টগার্ডের এক কর্মকর্তা। লাশের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জার্মানির একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা জানিয়েছে, সোমবার রাতে ইতালীয় নৌবাহিনীর নেতৃত্বে উদ্ধার অভিযান চলার সময় ভূমধ্যসাগরে তিন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়, তবে আরো কয়েক হাজার জনকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া সম্ভব হয়েছে। ফেইসবুকে সংস্থাটি বলেছে, “তাদের বাঁচাবার সকল প্রচেষ্টা সত্বেও ডুবন্ত একটি রাবারের নৌকার তিন আরোহী মারা গেছেন।”
এ দিন ওই নৌবাহিনী, স্বেচ্ছাসেবী গোষ্ঠীগুলো এবং বেসরকারি নৌযানগুলো প্রায় পাঁচ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশীকে লিবিয়া উপকূল থেকে উদ্ধার করেছে বলে জানিয়েছে ইতালীয় কোস্টগার্ডের এক মুখপাত্র। মঙ্গলবারও উদ্ধার অভিযান চলবে বলে জানান তিনি।
চলতি বছর এখনও পর্যন্ত যত সংখ্যক অভিবাসনপ্রত্যাশী ইউরোপে পৌঁছেছেন তা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। এক্ষেত্রে গ্রিসের পথে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের একটি ব্যস্ত রুট বন্ধ হওয়া অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে তুরস্কের একটি চুক্তির আলোকে রুটটি বন্ধ করে দেয়া হয়। ১ জানুয়ারি থেকে ২১ জুন পর্যন্ত প্রায় ৭২ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী লিবিয়ার বিপজ্জনক পথে ইতালিতে উপস্থিত হয়েছে।
সাবেক একনায়ক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতন ও গাদ্দাফি নিহত হওয়ার পর থেকে লিবিয়ায় যে বিশৃঙ্খলা চলছে তার সুযোগ নিয়ে অপরাধী গোষ্ঠীগুলো এই জলপথে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের পাঠানোর লাভজনক ব্যবসা খুলে বসেছে। তারা প্রধানত আফ্রিকার সাহারা মরুভূমির দক্ষিণাঞ্চলের দেশগুলোর অধিবাসীদের রাবারের নৌকা বোঝাই করে বিপজ্জনক এ পথে ঠেলে দিচ্ছে।