• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

ওসির সামনেই ধর্ষক ইভানকে জুতাপেটা করতে উদ্যত

সিসি ডেস্ক: ওসির সামনেই আসামিকে জুতাপেটা করতে উদ্যত হয় মামলার বাদী। ইভান ও ধর্ষিতা তরুণীকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদের সময় বনানী থানার ওসি বিএম ফরমান আলীর রুমে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বাদীকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন আসামি। পরে পুলিশের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

বনানীতে বাসায় ডেকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার তদন্ত করছেন বনানী থানার এসআই সুলতানা আক্তার। মামলার বাদী অভিনেত্রী এক তরুণী ও রিমান্ডে থাকা আসামি বাহাউদ্দিন ইভানকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তরুণী নিজেই সংবাদ মাধ্যমের কাছে বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

এদিকে শর্ত সাপেক্ষে মামলা তুলে নিতে রাজি আছেন বাদী (তরুণী) নিজেই। এক্ষেত্রে তিনটি শর্তের প্রথমটি হচ্ছে, ধর্ষণের ভিডিও ক্লিপগুলো ফেরত দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, বিভিন্ন সময়ে তরুণীর কাছ থেকে নেয়া প্রায় দুই লাখ টাকা ফেরত দিতে হবে। তৃতীয়ত, ইভান ওই তরুণীকে আর কখনও ডিস্টার্ব করবে না এটা লিখিতভাবে নিশ্চিত করতে হবে।

এ সময় সে ইভানের বাসায় ডেকে নিয়ে ধর্ষণ এবং তার (ইভানের) সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা দেয়। তরুণীর ভাষ্য, ‘আমি মামলা করতে চাইনি। পুলিশকে বলেছিলাম, ইভানের কাছ থেকে ধর্ষণের ভিডিও, মোবাইল সেট, মোমোরি কার্ড এবং ব্যাগটি উদ্ধার করে দিলেই চলবে।’ অতীতের ধর্ষণের ভিডিওগুলো তার নিজের মোমোরি কার্ডেও ছিল বলে স্বীকার করেন তরুণী।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই তরুণীর ৫ বছর বয়সী সন্তান এখন তার নানীর কাছে গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামে আছে। সন্তানের ব্যাপারে অস্বীকার করলেও তরুণীর বাবা পুলিশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তরুণী জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাতে তিনি প্রথম ইভানের বাসায় যান। একই সঙ্গে তরুণী দাবি করেন, তার নিজের বাসা, খিলক্ষেতের ৩০০ ফুট এলাকা, নিকুঞ্জ, বনানী এবং ইভানের গাড়িতে বেশ কয়েকদিন তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে। তবে এ সম্পর্ককেও ধর্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেন তরুণী।

পুলিশের তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তরুণীর গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামের উলিপুর থানায় হলেও এজাহারে তিনি কুড়িগ্রাম সদর থানা উল্লেখ করেছেন। এ তরুণী প্রথমে পুলিশকে জানিয়েছিলেন মা-বাবার সঙ্গে তার যোগাযোগ নেই (পরে জানান, মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ আছে। কিন্তু মোবাইল নম্বর মুখস্থ নেই)। এসব কারণে তরুণীর অভিভাবকদের খুঁজে পেতে সমস্যা হচ্ছিল।

অবশেষে তার বাবা সাবেক সেনা সদস্যকে পাওয়া গেছে। তিনি শনিবার রাতে থানায় এলে তরুণীকে তার (বাবা) জিম্মায় দেয়া হয়। তবে তরুণীর বাবা পুলিশকে জানিয়েছেন, মেয়ের সঙ্গে সব সময় তার যোগাযোগ ছিল। কারও মাধ্যমে তার মেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা তার জানা ছিল না। তরুণীর বাবা পুলিশকে আরও বলেন, ‘আমার মেয়ের প্রতি যদি কেউ অন্যায় করে থাকে তাহলে তার বিচার চাই।’

ইভানের স্ত্রী টুম্পার অভিযোগ, ‘পাঁচ হাজার টাকার কন্ট্রাক্টে ইভানের বাসায় এসেছিল ওই তরুণী মডেল। শারীরিক সম্পর্কের পর পুরো টাকা পরিশোধ করেনি ইভান। কারণ, তখন বাসায় টাকা ছিল না। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। টুম্পার দাবি, তরুণী একা ওই বাসায় আসেননি। তার এক ছেলে বন্ধুকে নিয়ে এসেছিলেন। ওই ছেলে বন্ধু বাসার বাইরে অবস্থান করছিল। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ওই ছেলে বন্ধুকে ফোন করে তরুণী জানায়, ১০-১২ পিস ইয়াবা নিয়ে আয়।

এই বাসায় বসে ইয়াবা খাব। তখন ইভান বলেন, বাসায় এসব হলে মা-বাবা ঘুম থেকে জেগে যাবে। পরে সমস্যা হবে। এ নিয়ে বাদানুবাদের এক পর্যায়ে তরুণীকে জোর করে বাসা থেকে বের করে দেয় ইভান।’ টুম্পার দাবি, তরুণীর সঙ্গে যে ব্যাগটি ছিল সেটি তার ছেলে বন্ধুর কাছেই আছে। টুম্পা আরও জানান, ইভানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

উৎস: যুগান্তর


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ