সিসি নিউজ: দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা পরিষদ কর্তৃক অস্বচ্ছল সাংবাদিকের জন্য বরাদ্দের টাকা একজন ফেসবুক ইউজারের হাতে তুলে দেয়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। এম এ মোমেন খান নামে ওই ফেসবুক ইউজারকে উপজেলা পরিষদ শ্রেষ্ঠ সাংবাদিক নির্বাচন করে অনুদানের ১০ হাজার টাকা পররাষ্ট্র মন্ত্রীর মাধ্যমে পুরস্কার হিসেবে প্রদান করায় এ ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে।
খানসামা উপজেলার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যাক্তিকে পুরস্কৃত করেন উপজেলা পরিষদ। গত মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সেসব প্রতিষ্ঠান ও ব্যাক্তির হাতে পুরস্কার তুলে দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এমপি। এরই মাঝে ঘোষণা করা উপজেলার শ্রেষ্ঠ অনলাইন সাংবাদিক এম এ মোমেন খানের নাম। পরবর্তীতে ওই সাংবাদিক ফেসবুকে নিজের টাইম লাইনে শ্রেষ্ঠ অনলাইন সাংবাদিক হিসেবে পুরস্কার গ্রহণের স্ট্যাটার্স দিয়ে বিষয়টি অবহিত করেন সকলকে। ফেসবুক বন্ধুদের মধ্যে অনেকে জানতে চান এম এ মোমেন কোন নিউজ পোর্টালে কাজ করেন। তিনি নিজেকে ফেসবুকের ইউজার ও দিনাজপুর ৩৬০ নামে একটি ফেসবুক পেজের চীফ এডিটর হিসেবে পরিচয় দেন। কিন্তু নিউজ পোর্টালের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিতে পারেননি।
খানসামা উপজেলা প্রেসক্লাব ও অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি ধীমান চন্দ্র দাস এ প্রসঙ্গে সিসি নিউজকে জানান, ‘অনলাইন সাংবাদিক’ বলে কোন কিছুই নেই। অনলাইন পত্রিকা বা নিউজ পোর্টালের প্রতিনিধি কিংবা সাংবাদিক কথাটি ব্যবহার করা হয়। ফেসবুকারকে যদি সাংবাদিক বলা হয়, তাহলে গোটা দেশে কোটি কোটি সাংবাদিক রয়েছে। উপজেলা পরিষদ কিভাবে ফেসবুকারকে অনলাইন সাংবাদিক বানালো তা আমার বোধগম্য নয়। অস্বচ্ছল সাংবাদিকের অর্থ ফেসবুকারের হাতে তুলে দেয়ার পেছনে নিশ্চয় কোন উদ্দেশ্য রয়েছে বৈকি।
কথা হয় নিউজ পোর্টাল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অনলাইন নিউজ পোর্টাল এসোসিয়েশন রংপুর বিভাগীয় কমিটির সভাপতি মাহামুদুল হক মানিকের সাথে। তিনি সিসি নিউজকে জানান, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন কিংবা আবেদনের সংশ্লিষ্ট কাগজ ছাড়া নিউজ পোর্টাল পরিচালনা করা অবৈধ। এম এ মোমেন কোন নিউজ পোর্টালে প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন তা অবশ্যই উপজেলা পরিষদে লিপিবদ্ধ রয়েছে। আমরা প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে খানসামা উপজেলা পরিষদকে এ বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য অনুরোধ করছি। সে সাথে খানসামা উপজেলা ভিত্তিক ওই পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদের (যার ভিত্তিতে শ্রেষ্ঠ সাংবাদিক) ব্যাখ্যা প্রদানে সবিনয়ে অনুরোধ জানাবো।
এ প্রসঙ্গে অনলাইন প্রেসক্লাবের রংপুর বিভাগীয় কমিটির আহবায়ক জসিম উদ্দিন জানান, বৈধ নিউজ পোর্টালের প্রতিনিধি ছাড়া সাংবাদিক পরিচয় দেয়া প্রতারণার শামিল। একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী নিজের টাইম লাইন একান্তই নিজের জন্য। এতে যদি অন্যের প্রশংসা করে বাহবা নেয়ার চেষ্টা করে থাকে তাহলে বিষয়টি পাঠক সমাজ বাঁকা চোখে দেখবেই। এম এ মোমেন খানের বিষয়ে সে রকমই হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার। ফেসবুক পেজের চীফ এডিটর বিষয়টি হাস্যকরই বটে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মন্ত্রী তথা স্থানীয় আ’লীগের ইমেজ নষ্ট করার জন্য দলের কোন একটি অংশ এ রকম কিছু লোকদের দিয়ে খেলছে বলে আমার মনে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে খানসামা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো: সহিদুজ্জামান শাহ এর সাথে যোগাযোগের জন্য বারবার চেষ্টা করে মুঠোফোনে সংযোগ না হওয়ায় মতামত নেয়া সম্ভব হয়নি।




