• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১০ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

কুড়িগ্রামে ভেঙ্গে পড়েছে বন্যা দুর্গত এলাকার মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা

।। অনিরুদ্ধ রেজা, কুড়িগ্রাম ।।
কাঁচা সড়ক, ব্রীজ, কালভার্ট ও বাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে বন্যা দুর্গত কুড়িগ্রামের  এলাকার মানুষের। বন্যার পানির তীব্র স্রোতে ভেঙ্গে যাওয়া কাঁচা সড়ক ও ব্রীজ কালভার্টে যাতায়াতের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে তাদের। এ অবস্থায় দ্রুত ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তা-ঘাট মেরামত ও ব্রীজ-কালভার্ট নির্মাণ করে দুর্ভোগ কমানোর দাবী বন্যা দুর্গতদের।
সম্প্রতিক টানা ১০ দিনের বন্যায় কুড়িগ্রাম জেলার ৭ উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও তিস্তাসহ নদ-নদীর অববাহিকার প্রায় ২ লক্ষাধিক মানুষ বন্যা কবলিত হয়ে পড়ে। বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকে গ্রামীণ জনপদের রাস্তা-ঘাট, ব্রীজ-কালভার্ট। এতে করে উজান থেকে নেমে আসা পানির তীব্র স্রোতে এসব এলাকার কাঁচা সড়ক, ব্রীজ-কালভার্টের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। সরকারী হিসাব মতেই জেলায় ১৪.৫ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক ও ১.৫ কিলোমিটার তীর রক্ষা বাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়ে। ১৭টি ব্রীজ কালভার্ট ভেঙ্গে এসব এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেলে এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে বাঁশের খুটি দিয়ে কোন রকমে যাতায়াত করছে এসব ভাঙ্গ ব্রীজ ও কালভার্ট দিয়ে। এর মধ্যে বেশির ভাগই স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সড়ক ও ব্রীজ-কালভার্ট।
বন্যার পানির ধকল কাটিয়ে উঠলেও বন্যা পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্থ সড়ক ও ভাঙ্গা ব্রীজ-কালভার্টে যাতায়াতের ঝুকি কমছে না বন্যা দুর্গতদের। যানবাহনে চলাচল করতে না পারলেও পায়ে হেঁটে কোন রকম হাট বাজারসহ প্রয়োজনীয় কাজ সারছে এলাকাবাসী।
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামের জামান উদ্দিন (৬০) জানান, ভাঙ্গা সড়কে কোন রকমে পায়ে হেঁটে চলাফেরা করলেও যানবাহন নিয়ে চলাফেরা করতে পারছেন না মানুষজন। অথচ এসব ভাঙ্গাচুরা রাস্তা ও ব্রীজ মেরামতে মেম্বার চেয়ারম্যানসহ সরকারী কোন উদ্যোগ না থাকায় ভাঙ্গা ব্রীজের উপর নিজ উদ্যোগে বাঁশের টার দিয়েই চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
একই এলাকার কলেজ শিক্ষার্থী জেসমিন বেগম সিসি নিউজকে জানান, আমাদের এ এলাকাটি বন্যা প্রবন। অথচ যাতায়াতের ব্যবস্থা অবহেলিত। বন্যায় রাস্তা ও ব্রীজ ভেঙ্গে গেলেও এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে আমাদের কষ্ট করেই কলেজে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
এব্যাপারে উলিপুরের হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিএম আবুল হোসেন সিসি নিউজকে জানান, আমার ইউনিয়নে তিনটি ব্রীজ, তিনটি কালভার্ট বন্যার পানির স্রোতে ভেঙ্গে গেছে। এছাড়া অনেক কাঁচা সড়কের মাটি পানির তোড়ে ভেঙ্গে গেছে। আমি সংশ্লিষ্ট বিভাগে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি যাতে করে অল্প সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও ব্রীজ কালভার্ট মেরামত করে জনগণের যাতায়াতের সমস্যা দুর করা যায়।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রুহুল আমিন জানান, বন্যায় যেসব উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের কাঁচা সড়ক ও ব্রীজ কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সে সবের তালিকা করা হচ্ছে। তালিকা করে ক্ষতিগ্রস্থ ব্রীজ-কালভার্ট ও সড়ক মেরামতের কাজ করা হবে।
বন্যা পরবর্তী সময়ে দুর্গত এলাকার মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ লাঘব করতে বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে দ্রুত রাস্তা-ঘাট মেরামতসহ ভেঙ্গে যাওয়া ব্রীজ-কালভার্ট নির্মাণ করে বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের জনদুর্ভোগ কমাবে সরকার এমনটাই আশা এসব এলাকার মানুষের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ