• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৩ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

দিনাজপুরে ১১ মাসে ৫ হাজার মাদক ব্যবসায়ী আটক

মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর: দিনাজপুর পুলিশ সুপার হামিদুল আলম ২০১৭ সালের মধ্যে সীমান্তবর্তী জেলা দিনাজপুরকে মাদকমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। এরই অংশ হিসেবে মাদক বিরোধী অভিযানের পাশাপাশি তিনি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলেছেন। মাদক বিক্রেতা ও মাদকসেবীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছেন। গত ১১ মাসে প্রায় পাঁচ হাজার মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে এবং ২৬৮ জন মাদক ব্যবসায়ীকে পূনর্বাসন করা হয়েছে।
দিনাজপুর পুলিশ সুপার অফিস সুত্রে জানা গেছে, পুলিশ গত বছরের আগষ্ট মাস থেকে এ বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে। এছাড়া চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত পুলিশের বিশেষ অভিযান ‘ব্লক রেইড’ এ প্রায় এক হাজার ২’শ মাদক ব্যবাসায়ীকে আটক করা হয়েছে। মাদক ব্যবসা ছেড়ে আত্মসমর্পন করেছে ৭৬২ জন মাদক ব্যবসায়ী। এর মধ্যে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ পুর্ণবাসন করেছে ২’শ ৬৮ মাদক ব্যবসায়ীকে। পুলিশ সুপারের নিজস্ব অর্থায়ন ও তদরকিতে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে ২৭ জনকে। এ সময়ে মাদক সেবনের দায়ে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে দুই হাজার ৬’শ জনকে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দেয়া হয়েছে।
দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. মাহফুজ্জামান আশরাফ জানান, দিনাজপুরে এর আগে মাদক নির্মূলে এত অল্প সময়ে এত বেশি আসামী ধরা পড়েনি। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. মিজানুর রহমান জানান, দিনাজপুর থেকে মাদক নির্মূলের লক্ষ্যে পুলিশ সুপারের সার্বিক দিক নির্দেশনায় ২’শ থেকে আড়াই’শ পুলিশ সদস্যের বিশেষ দল নিয়ে প্রতিটি উপজেলায় গোপনে ‘ব্লক রেইড’ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। জিরো টলারেন্স নীতিতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। জুলাই থেকে মাদক ব্যবসা নির্মূলের লক্ষে ‘ব্লক রেইড’ অভিযান, ‘কুইক রেসপন্স টিম’ গঠন করা হয়েছে। গ্রহণ করা হয়েছে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি।
বিরল উপজেলার মেরাগাঁও গ্রামের মাদক ব্রবসায়ী নির্মল চন্দ্র জানান, মাদকের পাঁচটি মামলায় তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েন। গত বছর পুলিশ সুপারের কাছে আত্মসমর্পন করে একটি রিক্সা ভ্যান পান। গত এক বছরে তিনি ভ্যান চালানোর পাশাপাশি একটি ছোট হোটেল করেছেন। নবাবগঞ্জ উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের স্ত্রী মজিদা জানান, তার স্বামী মাদক ব্যবসায়ী ছিলো। মাদকের মামলায় তাঁরা সব কিছু হারিয়ে নিঃস্ব হতে বসেছিলো। গত বছর পুলিশের কাছে আত্মসমর্পন করে সেলাই মেশিন পান মজিদা। বর্তমানের সেলাইয়ের কাজ করে স্বাবলম্বী তিনি। একাধিক বেকার নারী তাঁর অধীনে সেলাইয়ের কাজ করছে।
দিনাজপুর মাদক নিরাময় কেন্দ্র অশ্রুর পরিচালক কাজী জাফরুল্লাহ্ জানান, দিনাজপুরে মাদকাসক্তের এ সমস্যাটি আগে শহরের মধ্যে সীমাবন্ধ ছিলো। মাদক নিরাময় কেন্দ্রের শহরের লোকেরাই চিকিৎসা গ্রহণ করতো। বর্তমানে প্রত্যন্ত গ্রামের লোকেরা চিকিৎসা নিতে আসছে। এ থেকেই মাদকের ভয়াবহতা অনুমেয়। নতুন ভূবনের পরিচালক সিদ্দিকুর রহমান জানান, অভিভাবকদের অসচেতনতা, সামাজিক আন্দোলনের অভাব এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান না থাকায় এ সমস্যা প্রকট হয়েছে।
দিনাজপুর পুলিশ সুপার হামিদুল আলম জানান, দিনাজপুরে সংগঠিত অপরাধের ৯৯ ভাগই মাদকের কারণে। এছাড়া সীমাান্তবর্তী জেলা হওয়ায় দেশের মাদকের একটি বড় অংশের চালান দিনাজপুর সীমান্ত দিয়ে চলে যায়। এ কারণে তিনি যোগদানের পর মাদক নির্মূলের ঘোষণা দেন। এ কাজে ব্যাপক অভিযানের পাশাপাশি সমাজের সকল শ্রেণিপেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করেছেন। মাদক নির্মূলে আগামীতে আরো বড় ধরনের অভিযান চালানো হবে বলে জানান পুলিশ সুপার হামিদুল আলম।
তবে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মাদক নির্মূলে সকলকে এক যোগে কাজ করতে হবে। তাহলেই মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করেন অভিজ্ঞমহল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ