নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নে স্মার্ট কার্ড দেয়ার নামে কয়েক হাজার মানুষের এনআইডি নং ও আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে একটি চক্র ডিজিটাল প্রতারণা করেছে।
শুক্রবার কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মোবাইল সিমকার্ড রেজিষ্টেশন কাজে ব্যবহৃত তিনটি ট্যাবসহ দুইজনকে আটক করে প্রতারণার মামলায় জেল হাজতে প্রেরণ করেছে।
আটককৃতরা হলেন, কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের মুশা বালাপাড়া গ্রামের রজনীকান্ত রায়ের পুত্র প্রাণকৃষ্ণ রায় ওরফে কৃষ্ট (২৫) ও একই এলাকার শুশীল চন্দ্রের পুত্র সুজন চন্দ্র (২৪)।
এলাকাবাসী জানায়, শওকত টেলিকম, রিটেইলার মেবাইল টেলি কমিউনিকেশন রবি এর পক্ষ থেকে এনআইডি কার্ডের পরিবর্তে স্মার্ট কার্ড দেয়ার কথা বলে ৬/৭জনের একটি চক্র প্রতারণার আশ্রয় নেয়। গত কয়েক সপ্তাহ যাবত চক্রটি বড়ভিটা ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডে গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের পরিবর্তে স্মার্ট কার্ড দেয়ার নামে প্রত্যেকের এনআইডি নং ও একাধিকবার আঙ্গুলের ছাপ নেয়। ৪নং ওয়ার্ডের মৃত উপেন্দ্র নাথের পুত্র লিটন চন্দ্র মেবাইলের সিম কার্ড উত্তোলন করতে গিয়ে জানতে পারেন তার নামে সম্প্রতি রবি কোম্পানীর দুইটি সিমকার্ড উত্তোলন হয়েছে। তখন সে নিশ্চিত হয় যে, স্মার্ট কার্ডের কথা বলে এনআইডি নং ও আঙ্গুলের ছাপ নেয়া এ চক্রটি তার নামে সিম উত্তোলন করে প্রতারণা করেছে এবং এলাকার সকলে প্রতারণা শিকার হচ্ছে। এভাবে অন্যের নামে একাধিক মোবাইল সিমকার্ড উত্তোলন করায় স্মার্টকার্ড চক্রটির প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ পেলে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়।
কিশোরগঞ্জ থানার এসআই রাফায়েত বড়ভিটা থেকে প্রাণকৃষ্ণকে (তিনটি ট্যাবসহ) ও ভিন্নজগত এলাকা থেকে সুজন চন্দ্রকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠায়। এভাবে মানুষকে ধোকা দিয়ে এনআইডি নম্বর ও আঙ্গুলে ছাপ নিয়ে একজনের নামে একাধিক মোবাইল সিমকার্ড উত্তোলন করায় অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে জড়িতদের সাথে এ চক্রটির সংশি¬ষ্টতা রয়েছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছিুক ওই এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানায়। সম্প্রতি বড়ভিটা এলাকার ছাত্তার খলিফার ছেলের নামে উত্তোলিত সিমকার্ড ছিনতাইকারীরা ব্যবহার করায় ওই ছেলের জেল হাজতবাস হয়। এ কারণে স্মার্ট কার্ডের মিথ্যা প্রালোভনে এনআইডি নং ও আঙ্গুলের ছাপ দেয়ায় আতঙ্কিত হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে তিন ওয়ার্ডের শতাধিক সচেতন লোক থানায় উপস্থিত হয়ে মৌখিক অভিযোগ দেয়। পরিশেষে ইউপি সদস্য আবু সায়েমকে বাদী করে এ ঘটনায় জড়িত ৬জনকে আসামী করে থানা কতৃপক্ষ মামলা নেয়। মামলা নং ৬/১৭।
এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ বজলুর রশীদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এঘটনায় জড়িত দুইজনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে, অন্যান্যদের গ্রেফতার ও প্রতারণার রহস্য উৎঘাটনের চেষ্টা চলছে।